রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬ ।। ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৮

শিরোনাম :
‘মুফতি সাঈদ আহমদ পালনপুরী রহ. ছিলেন ইলম ও আমলের অনন্য সাধক’ উস্তাদদের জন্যও স্মার্টফোন ব্যবহার সীমিত করার পরামর্শ শায়খে যাত্রাবাড়ীর বিয়ে নিবন্ধনে আসছে নতুন নিয়ম বিকেএম ঢাকা দক্ষিণের দিনব্যাপী সদস্য প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত গ্রিসের পাহাড়ের মার্বেল যেভাবে শীতল করল মসজিদে নববীর প্রাঙ্গণ প্রতিবাদকারীকে নয়, অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর হোন: গাজী আতাউর রহমান জাতীয় শ্রমিক কাউন্সিল সফল করার আহ্বান ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের বাংলাদেশ আল্লাহর জমিন, দিল্লির ইশারায় চলবে না: ভূমিমন্ত্রী একই বছরে তিন ঈদ, দুই হজের সম্ভাবনা! ইসলামী আন্দোলনের কাতার কেন্দ্রীয় কমিটির দ্বিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

গ্রিসের পাহাড়ের মার্বেল যেভাবে শীতল করল মসজিদে নববীর প্রাঙ্গণ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: ফাইল ছবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদিনার মসজিদে নববীর ইতিহাসের বৃহত্তম সম্প্রসারণগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক বিস্ময়কর গল্প। এর কেন্দ্রীয় চরিত্র স্থপতি ও প্রকৌশলী ড. মুহাম্মদ কামাল ইসমাইল। তাঁর নকশা ও তত্ত্বাবধানেই সম্পন্ন হয়েছিল দুই পবিত্র মসজিদের বিশাল সম্প্রসারণকাজ।

১৯০৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া ড. মুহাম্মদ কামাল ইসমাইল ২০০৮ সালের ২ আগস্ট ইন্তেকাল করেন। মিসরের মসজিদগুলোর ওপর তাঁর রচিত ‘এনসাইক্লোপিডিয়া অব দ্য মস্কস অব ইজিপ্ট’ দেখে সৌদি বাদশাহ ফাহদ বিন আবদুল আজিজ তাঁকে হারামাইন শরিফাইনের বৃহৎ সম্প্রসারণ প্রকল্পের নকশার দায়িত্ব দেন।

তাঁকে নিয়ে একটি চমকপ্রদ ঘটনা একসময় শেয়ার করেছিলেন মিসরের ইসলামি চিন্তাবিদ ড. জাগলুল আল-নাজ্জার।

ঘটনাটি আশির দশকের শুরুর দিকের। তীব্র গরমের মধ্যে হাজিদের স্বাচ্ছন্দ্যে তাওয়াফের সুযোগ করে দিতে মসজিদুল হারামের প্রাঙ্গণে বিশেষ ধরনের তাপ শোষণকারী মার্বেল ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই মার্বেলের নাম ছিল ‘থাসোস’। গ্রিসের একটি পাহাড়ের প্রায় অর্ধেক অংশ থেকে সংগ্রহ করা মার্বেল দিয়ে মসজিদুল হারামের প্রাঙ্গণ সাজানো হয়।

এর প্রায় ১০ বছর পর মসজিদে নববীর সবচেয়ে বড় সম্প্রসারণ প্রকল্পের স্থপতি হিসেবে দায়িত্ব পান ড. কামাল ইসমাইল। তখন মসজিদের বিস্তৃত প্রাঙ্গণেও একই ধরনের শীতল মার্বেল ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দেয়।

কিন্তু সমস্যা দেখা দিল মার্বেল সংগ্রহ নিয়ে। আগেরবার যে গ্রিক প্রতিষ্ঠান থেকে মার্বেল আনা হয়েছিল, এত বছর পর সেখানে সেই মার্বেল পাওয়া যাবে কি না—তা নিয়ে সংশয়ে পড়েন তিনি।

বিষয়টি নিশ্চিত করতে তিনি নিজেই গ্রিসে গিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে দেখা করেন। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান তাঁকে জানান, প্রথমবার মার্বেল সরবরাহের পরপরই অবশিষ্ট মার্বেলও বিক্রি হয়ে গেছে।

খবরটি শুনে কিছুটা হতাশ হলেও ড. কামাল হাল ছাড়েননি। তিনি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তাকে পুরোনো নথিপত্র খুঁজে দেখতে বলেন এবং যেখানে অবস্থান করছিলেন, সেই হোটেলের যোগাযোগের তথ্য দিয়ে আসেন।

অফিস থেকে বের হওয়ার সময়ও তিনি আশাবাদী ছিলেন—আল্লাহ নিশ্চয়ই কোনো না কোনো ব্যবস্থা করবেন।

পরদিনই তাঁর কাছে ফোন আসে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী জানান, পুরোনো নথি ঘেঁটে সেই ক্রেতার সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে সবচেয়ে বিস্ময়ের বিষয়, মার্বেলগুলো যে ব্যক্তি কিনেছিলেন, তিনি সৌদি আরবেই অবস্থান করছেন।

ড. কামাল দেশে ফিরে সরাসরি ওই ব্যক্তির কাছে যান। গিয়ে দেখেন, প্রায় ১০ বছর আগে কেনা পুরো মার্বেলই তাঁর গুদামে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে।

ড. কামাল মার্বেলগুলো কেনার জন্য একটি ফাঁকা চেক দিতে চাইলেও মালিক তা নিতে অস্বীকৃতি জানান। মসজিদে নববীর জন্য মার্বেলগুলো ব্যবহার করা হবে—এ কথা জানার পর তিনি কোনো অর্থই নিতে রাজি হননি।

তিনি বলেন, ‘আল্লাহই আমাকে এগুলো কিনিয়েছেন এবং গুদামে ভুলে রেখে দিয়েছেন। এগুলো তো মহানবী সা.-এর মসজিদের জন্যই নির্ধারিত ছিল।’

এভাবেই গ্রিসের সেই পাহাড়ের অবশিষ্ট অর্ধেকের মার্বেল শেষ পর্যন্ত স্থান পেল মসজিদে নববীর প্রাঙ্গণে। হাজিদের জন্য তা হয়ে উঠল সৌন্দর্যের পাশাপাশি স্বস্তিরও একটি মাধ্যম।

দুই পবিত্র মসজিদের সেবায় নিজের স্থাপত্য ও প্রকৌশল জ্ঞান উৎসর্গ করা ড. মুহাম্মদ কামাল ইসমাইলের এই গল্প আজও হারামাইন শরিফাইনের ইতিহাসের একটি হৃদয়স্পর্শী অধ্যায় হিসেবে বর্ণিত হয়। একই সঙ্গে মার্বেলের মালিকের অর্থ না নেওয়ার ঘটনাটিও তাঁর নিয়ত ও মসজিদে নববীর প্রতি ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে স্মরণ করা হয়।

আল্লাহ তাআলা ড. মুহাম্মদ কামাল ইসমাইল এবং সেই মার্বেল মালিককে তাঁদের সেবার উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমিন। সূত্র: হারামাইন আর্কাইভ

এসএইচ/ 


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ