বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬ ।। ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮


‘মক্কা চুক্তি’তে আমন্ত্রণ পাওয়ার দাবি ইরানের

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত নিরাপত্তা জোট ‘মক্কা চুক্তি’তে যোগ দিতে ইরানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। শনিবার ইরানি সংবাদমাধ্যম আল মায়াদিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এমন দাবি করেছেন। খবর জেরুজালেম পোস্টের

তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা চুক্তির তিন সদস্য সৌদি আরব, তুরস্ক কিংবা পাকিস্তান—কেউই এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এ আমন্ত্রণের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। ইরানের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কিছু বলা হয়নি

ইরানি পার্লামেন্টের সংবাদ সংস্থা খানেহ মিল্লাতের প্রধান মেহদি রহিমি আল মায়াদিনকে বলেন, ইরান মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছে এবং বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এখন একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। রহিমির দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ইরান এমন একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা বলে আসছে। ফলে এই উদ্যোগকে তিনি ইরানের জন্য একটি বিজয় হিসেবেও উল্লেখ করেন।

গত ৭ আগস্ট সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ মক্কায় এই প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

ওই চুক্তির মূলনীতি হলো—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এই ব্যবস্থাকে ন্যাটো জোটের ‘আর্টিকেল ৫’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়।

ইতোমধ্যে তিন দেশ কূটনৈতিক ও সামরিক সমন্বয়ের বিভিন্ন ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সামরিক কমান্ডারদের বৈঠক, যৌথ সামরিক মহড়া এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা।

আরও দেশকে যুক্ত করার পরিকল্পনা

চুক্তিতে ভবিষ্যতে আরও দেশকে যুক্ত করার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে তুরস্ক। এরই মধ্যে মিসরের নাম সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে প্রকাশ্যে এসেছে।

অন্যদিকে, ইরান এখন পর্যন্ত এই জোটের বিষয়ে সতর্কভাবে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে। গত ১০ আগস্ট ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, এই জোট গঠনে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।

তবে ইরানকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি যদি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয় এবং তেহরান শেষ পর্যন্ত জোটে যোগ দেয়, তাহলে এর রাজনৈতিক ও কৌশলগত চরিত্রে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানকে নিয়ে গঠিত এই জোট তখন আরও বিস্তৃত একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোয় পরিণত হতে পারে।

আরএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ