আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ফ্রান্সের পক্ষে যুদ্ধ করে প্রাণ উৎসর্গকারী মুসলিম সৈনিকদের স্মরণে নির্মিত প্যারিসের ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড মসজিদ শতবর্ষে পদার্পণ করেছে। এক শতাব্দী ধরে রাজধানী প্যারিসের প্রাণকেন্দ্র লাতিন কোয়ার্টারে দাঁড়িয়ে থাকা এই মসজিদ আজ শুধু একটি উপাসনালয় নয়, বরং ফ্রান্সের ধর্মীয় সম্প্রীতি, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং মুসলিম ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনায় প্যারিস ও আশপাশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজারো মুসল্লি অংশ নেন। অনুষ্ঠানে ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া মুসলিম নাগরিকদের পাশাপাশি আলজেরিয়া, সেনেগাল এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আগত মুসলমানরাও উপস্থিত ছিলেন। তাদের অনেকের পারিবারিক শিকড় ফ্রান্সের সাবেক উপনিবেশগুলোর সঙ্গে জড়িত।
গ্র্যান্ড মসজিদের রেক্টর শেমস-এদ্দিন হাফিজ বলেন, এই মসজিদ দীর্ঘদিন ধরে আন্তধর্মীয় সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং ফ্রান্সের বহুত্ববাদের প্রতীক হিসেবে ভূমিকা পালন করছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক মেরুকরণের কারণে দেশে ধর্মীয় উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ফ্রান্সের জাতীয় সম্প্রদায়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে মুসলিমদের স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা সবার দায়িত্ব।
শেমস-এদ্দিন হাফিজ জানান, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ভার্দ্যাঁসহ বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে ফ্রান্সের হয়ে লড়াই করে প্রাণ দেওয়া মুসলিম সৈনিকদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই গ্র্যান্ড মসজিদ নির্মাণ করা হয়। নিহতদের অধিকাংশই আফ্রিকার ফরাসি উপনিবেশ থেকে আসা সৈনিক ছিলেন।
তিনি স্মরণ করেন, মসজিদ উদ্বোধনের সময় তৎকালীন ফরাসি প্রেসিডেন্ট গাস্তোঁ দুমের্গ বলেছিলেন, ফ্রান্সের বৈচিত্র্যই দেশের জাতীয় ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করবে। হাফিজের মতে, এক শতাব্দী পরও সেই বার্তা সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
তবে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বাস্তবে এখনো মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক কর্মকাণ্ড ঘটে এবং ইসলামকে অনেক সময় ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়, যা সমাজে বিভাজন ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
পশ্চিম ইউরোপের বৃহত্তম মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশ ফ্রান্সে ইসলাম দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম হলেও মুসলিমদের একটি অংশ এখনো সামাজিক বৈষম্য ও গ্রহণযোগ্যতার সংকটের মুখোমুখি। বিশ্লেষকদের মতে, গত এক দশকে সংঘটিত কয়েকটি জঙ্গি হামলার পর মুসলিমদের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব আরও জোরদার হয়েছে।
আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে কট্টর ডানপন্থি নেতা মেরিন লে পেন এবং তাঁর দল ন্যাশনাল র্যালি ইসলাম ও অভিবাসন ইস্যুকে রাজনৈতিক প্রচারণার অন্যতম প্রধান বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছে।
আইও/