বুধবার, ২৭ মে ২০২৬ ।। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ১০ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
ঈদের দিনে পরীক্ষা: দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ঈদ জামাত, মুসল্লির সংখ্যা ৫! থেমে নেই ইসরায়েলি বিমান হামলা: নিহত আরও দুই ফিলিস্তিনি শরীয়তের আলোকে ঈদুল আজহার দিনের করণীয় ও বর্জনীয় ঈদ স্পেশাল গরুর গোশত রান্না করুন সহজেই পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসীকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে ৪৫ কিলোমিটার যানজট ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক: ট্রাম্পের আহ্বান নাকচ করল সৌদি ও পাকিস্তান দুপুরের মধ্যে ৭ অঞ্চলে ৮০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস ‘সাধারণ আলেম সমাজ’-এর ৭১ সদস্যের কমিটিতে যারা স্থান পেলেন

আস-সুন্নাহয় সাবলম্বী খোকন মিয়া জাকাতদাতা হয়ে উঠতে চান

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

শায়খ আহমাদুল্লাহ প্রতিষ্ঠিত আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের জাকাত ফান্ডের মাধ্যমের দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক মানুষ সাবলম্বী হয়ে উঠছেন। এমনই একজন নেত্রকোনার কেন্দুয়ার খোকন মিয়া। এবার তিনি নিজেই জাকাতদাতা হয়ে উঠতে চান। খোকন মিয়ার সাবলম্বী হয়ে ওঠার গল্প বলেছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় তাঁর ফেসবুক পেইজে দেওয়া স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

আজ দুপুরে ফোনের ওপাশ থেকে তিনি উচ্ছ্বাসমাখা কণ্ঠে বললেন, গতকাল আপনাদের দেয়া হোটেল থেকে ১৪ হাজার টাকার বেচাকেনা করেছি!

যে হোটেলের পথচলা শুরু হয়েছে গেল ফেব্রুয়ারিতে, আড়াই মাসের মাথায় সেই হোটেলের এমন সাফল্যে আমরা বিস্মিত এবং উচ্ছ্বসিত।

বলছি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার মোজাফফরপুর গ্রামের খোকন মিয়ার কথা। 
বাবা-মা, স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে খোকন মিয়াকে এক সময় অভাবের সাথে যুদ্ধ করতে হতো। তখন অন্যের হোটেলে কাজ করতেন তিনি। মাসিক আয় ছিল ছয় থেকে সাত হাজার টাকা। 

ভিটের জমিটুকু ছাড়া তার নেই কোনো ফসলী জমিও। তবে যা আছে তা হলো, রকমারি খাবার তৈরির দক্ষতা।

এই দক্ষতাকে পুঁজি করে তিনি আমাদের দক্ষতাভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরি প্রকল্পে আবেদন করেন। যাচাই-বাছাইয়ের পর গৃহীত হয় তার আবেদন। 

হোটেলের জন্য দোকান ভাড়া, ডেকোরেশন, মালামাল ও আনুষঙ্গিক খরচের জন্য তিন ধাপে তাকে দেয়া হয়েছে ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা। 

হোটেলের জন্য তিনি নির্বাচন করেছেন মূল সড়কের পাশে এমন এক স্থান, যেখানে আছে কাঁচাবাজারের আড়ৎ, কয়েকটি শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান। ফলে হোটেল চালুর দিন থেকেই তার কাস্টমারের অভাব হচ্ছে না। 

ভোরে হোটেল খুলেই তিনি বানান পরোটা, সবজি, ডাল। দুপুর এবং রাতে করেন সাদা ভাত, মাংস, কয়েক পদের মাছ, সবজি, ডাল। আবার বিকেলে থাকে মোগলাই, হালিম, সিঙ্গাড়া, পুরি, সমুচা ইত্যাদি। 
হোটেল চলে ভোর থেকে রাত দশটা পর্যন্ত। আড়তের লোকজন তার প্রধান কাস্টমার।

খোকন মিয়ার জীবন এখন একেবারেই অন্যরকম। গত রমাদানে প্রতিদিন তিনি চার-পাঁচ হাজার টাকার ইফতার বিক্রি করেছেন। এখন প্রতিদিন গড়ে ১০ হাজার টাকার বেচাকেনা করছেন। 

কিছুদিন আগেও যিনি ছিলেন অন্যের কর্মচারী, মাসে আয় করতেন ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা; এখন তার দৈনিক আয়ই প্রায় ৫ হাজার টাকা। হোটেলটার মাধ্যমে তার নিজের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা তো হয়েছেই, তিনি আরো তিনজনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। 

তার প্রত্যয় এমন—জাকাতের টাকায় গড়ে ওঠা হোটেল ব্যবসার মাধ্যমে খুব শিগগিরই তিনি জাকাতদাতা হয়ে উঠতে চান। 

খোকন মিয়ার এই সাফল্যে আমরা বিমোহিত এবং উদ্দীপিত।

এমএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ