সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬ ।। ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২১ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
গুলশান লেকের পরিবেশ রক্ষা ও সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধের দাবি ইসলামী আন্দোলন মহাসচিবের ময়মনসিংহের গৌরীপুরে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে নিহত ১ মজলিসে তাহাফ্ফুজে খতমে নবুওয়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত তীব্র দাবদাহে খোলা ফ্রান্সের মসজিদগুলোর দুয়ার, মিলছে স্বস্তি নির্যাতন করে চেকে সই আদায়, দোষীদের শাস্তি দাবি রিহ্যাবের শুক্রবার ইসলামী আন্দোলনের সমাবেশ ও গণমিছিল আ.লীগ করার কারণে প্রতিদিন ১০টা জুতার বাড়ি আমার প্রাপ্য: যুবলীগ নেতা প্রশিক্ষণে অনুপস্থিত থাকলে শিক্ষক ও মাদরাসা প্রধানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতা শুরু, বিচারক প্যানেলে বাংলাদেশি ক্বারী

‘অসৎ’ উদ্দেশে দেওবন্দে মার্কিন সাংবাদিক, অতঃপর... 

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

বিশেষ প্রতিনিধি

মার্কিন সাংবাদিক দীপক কুমার সম্প্রতি ভারতের বিখ্যাত দীনি প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দ ভ্রমণ করেন। সেই ভ্রমণের ইতিবৃত্ত নিয়ে তিনি একটি ভ্রমণকাহিনি লিখেন। সেই ভ্রমণকাহিনিটি উর্দুতে অনুবাদ করেছেন মুহাম্মদ ফায়জান। মার্কিন সাংবাদিকের সেই ভ্রমণকাহিনিটির অনুবাদ আওয়ার ইসলাম পাঠকের জন্য বাংলায় তুলে ধরা হলো—

আমার নাম দীপক কুমার। আমার জন্ম ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের প্রাচীন শহর বেনারসে। জ্ঞান হওয়ার পর বাবা-মা আমাকে সঙ্গে নিয়ে আমেরিকায় চলে যান এবং চিরস্থায়ীভাবে সেখানেই বসবাস শুরু করেন। যেহেতু বাবা-মা শিক্ষিত ও উচ্চবিত্ত পরিবারের ছিলেন, তাই তারা আমার শিক্ষার সূচনাও আমেরিকাতেই করান। পড়ালেখার কয়েক বছর পেরোতেই আমি সেখানকার পরিবেশের সঙ্গে পুরোপুরি অভ্যস্ত হয়ে যাই এবং বড় হয়ে কিছু করার সংকল্প করি। হাই স্কুলের পর যখন কলেজে ভর্তি হই, তখন আমার মাথায় সাংবাদিকতার ভূত চাপে। আমি সাংবাদিক হওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিই। পড়াশোনা শেষ করে যখন সাংবাদিকতার ময়দানে পা রাখি, তখন এই পেশার অনেক বড় বড় বাঘা বাঘা ব্যক্তিত্বের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়।

চাকরি জীবনের কয়েক বছর পর বাবা-মা আমার বিয়ে দিয়ে দেন দিল্লির এক শিক্ষিত মেয়ের সঙ্গে, যে বর্তমানে আমার সঙ্গেই আমেরিকার কোনো প্রধান দপ্তরে চাকরি করছে এবং আমার চেয়েও বেশি বেতনের অধিকারী। আমাদের বেতন ভারতীয় মুদ্রার হিসেবে কোটির উপরে।

যাই হোক, কথা না বাড়িয়ে মূল ভ্রমণকাহিনির দিকে আসি। যেহেতু আমি সাংবাদিকতায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছিলাম, তাই প্রতিদিন নতুন ও অদ্ভুত সব খবর সংগ্রহ করা ও তা প্রকাশ করা আমার নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

গত চার-পাঁচ বছর ধরে একটি কথা আমার কানে এসে আমাকে খুব অস্থির ও চিন্তিত করে তুলেছিল এবং যখনই এ ব্যাপারে মনোযোগ দিতাম, রাগে আমার গা জ্বলে উঠত। কথাটি ছিল—আমাদের ভারতেই 'দেওবন্দ' নামক একটি জায়গা আছে, যা সন্ত্রাসীদের এক বড় ঘাঁটি। সেখানকার কর্মীরা মুসলিম যুবকদের তৈরি করে সারা বিশ্বে জিহাদের নামে সন্ত্রাস ছড়াতে তৎপর। সব জায়গায় দেওবন্দের আলেমরা তাদের প্রভাব ও প্রতিপত্তি বজায় রাখতে সফল। দেওবন্দ শহরের দূর দিয়েও যদি কোনো অমুসলিম যাতায়াত করে, তবে তার জীবন বাঁচা অসম্ভব; অর্থাৎ অমুসলিমদের সেখানে গাজর-মুলার মতো কেটে ফেলা হয়। আমেরিকান মিডিয়া প্রতিদিন এই কথাটিকে একটি খুনি পরিকল্পনা হিসেবে তুলে ধরত। যে বিষয়টি আমাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিত তা হলো, সন্ত্রাসীদের এই আস্তানা আমাদের মাতৃভূমিতেই কেন?

পরবর্তীতে আমি শেষ এক বছর ধরে মনে মনে সংকল্প করলাম যে, এর মূলোৎপাটনের একটি সমাধান খুঁজে বের করব। যার জন্য আমাকে প্রথমেই ভারতে গিয়ে দেওবন্দ সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা নিতে হবে। তারপর পর্যবেক্ষণ করে যে সত্য বেরিয়ে আসবে, সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

অবশেষে এই সংকল্প পূরণের জন্য আমি আমেরিকান সরকারের কাছ থেকে কয়েক দিনের ছুটি নিই এবং বাবা-মাকেও কোনোমতে রাজি করাই। বাবা-মা আমার এই সিদ্ধান্ত শুনে ভীত হয়ে পড়েছিলেন যে, আমি আর জীবিত ফিরে আসতে পারব কি না। এরপর মাথায় কাফন বেঁধে অত্যন্ত ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় ভারতের পথে রওয়ানা হলাম। দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ভারতীয় সরকারের পক্ষ থেকে আমার জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যবস্থা করা হলো। অনিচ্ছা সত্ত্বেও দিল্লিতে কয়েক দিন অবস্থান করতে হলো, কারণ বুঝতে পারছিলাম না সামনে আমার সঙ্গে কী হতে যাচ্ছে।

দিল্লিতে তিন দিন অবস্থানের কোনো প্রয়োজন ছিল না, কিন্তু সামনে কী ঘটবে তা নিয়ে আমি অত্যন্ত আতঙ্কিত ছিলাম এবং দেওবন্দ থেকে কোনোমতে বেঁচে ফেরার পথ খুঁজছিলাম। কিন্তু এখানে এসে আমার মস্তিষ্ক যেন কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছিল। অবশেষে আমি আমার নির্দিষ্ট পোশাক ত্যাগ করে সাধারণ পোশাকে সজ্জিত হলাম এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে না জানিয়ে দিল্লি রেলওয়ে স্টেশনের দিকে বেরিয়ে পড়লাম। দেওবন্দের ট্রেন ধরতে সফল হলাম। দিল্লি থেকে দেওবন্দ পর্যন্ত পুরো সময়টা আমি চরম ভয়ের মধ্যে কাটিয়েছি। কোনোমতে আমার ট্রেন দেওবন্দ স্টেশনে পৌঁছাল। আমি হাপাতে হাপাতে ট্রেন থেকে নেমে প্ল্যাটফর্মে থাকা চেয়ারে বসলাম। স্টেশনেই মাদরাসার কিছু ছাত্রের ওপর আমার নজর পড়ল, যাদের দেখে আমার অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু কারোর সঙ্গে কথা বলার বা তথ্য জানার মতো সাহস হচ্ছিল না। অনেকক্ষণ ধরে টুপি-পাঞ্জাবি পরিহিত ছাত্রদের সব কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখছিলাম। অবশেষে দেখলাম, আমার থেকে দশ কদম দূরে বসা এক পণ্ডিত মাদরাসার ছাত্রদের সঙ্গে মজা করছে এবং সেই মজার ছলে পণ্ডিত সেই ছাত্রের কাছে খাওয়ার জন্য পানি চাইছে। ছাত্রটি পণ্ডিতকে পানি দিয়ে আবার মজায় মত্ত হয়ে গেল। এই দৃশ্য দেখে আমার হৃদয়ের বোঝা কিছুটা হালকা হলো এবং সাহসের এক নতুন মাত্রা যোগ হলো।

তারপর আমি অন্য এক ছাত্রকে ডেকে বললাম যে, আমাকে দারুল উলুমের প্রিন্সিপাল কাসেম সাহেবের সঙ্গে দেখা করতে হবে। ছাত্রটি নাম সংশোধন করে বলল যে, তিনি হলেন মাওলানা আবুল কাসেম নোমানি সাহেব। আমি বললাম, যিনিই হোন, তার সঙ্গে দেখা করতে হবে। ছাত্রটি তার নাম নাজির জানাল। আমার বাবা-মাকে আশ্বস্ত করার জন্য আমি প্রথমেই নাজির ভাইয়ের সামনে ফোন লাগালাম। আমার মা আমার চিন্তায় অস্থির ছিলেন, আমার স্ত্রীও কান্নায় ভেঙে পড়েছিল। তাদের আশ্বস্ত করার জন্য নাজির ভাইয়ের কাঁধে হাত রেখে ভিডিও কলে কথা বললাম। এমনকি নাজির ভাইও আমার পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশ্যে সান্ত্বনার কিছু কথা বললেন, যা শুনে তারা আশ্বস্ত হলো।

আমি নাজির ভাইয়ের সঙ্গে দেওবন্দ স্টেশন থেকে দারুল উলুমের জন্য রিকশা নিলাম। পুরো পথ নাজির ভাইয়ের সঙ্গে কথা হলো। আমি আমার আসল উদ্দেশ্য গোপন রেখে নাজির ভাইকে কিছু বাস্তবতার মুখোমুখি করলাম। আমি নাজির ভাইয়ের কথা বলার ধরন ও সদাচরণে দারুণ প্রভাবিত হলাম। দারুল উলুমে পৌঁছে মুহতামিম সাহেবের সঙ্গে দেখা করতে চাইলাম, কিন্তু জানতে পারলাম তিনি বাইরে গিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে আমি মাদরাসার চার দেয়ালের ভেতর প্রবেশ করলাম। ছাত্রদের একে অপরের সঙ্গে মিলেমিশে থাকা, একসঙ্গে খাওয়া, একসঙ্গে ঘুমানো দেখে আমার খুব অদ্ভুত লাগছিল এবং খুব মায়া জন্মেছিল। জীবনে প্রথম আমি এমন পারস্পরিক ভালোবাসা ও আচরণ দেখেছি, যা আমার কাছে এক অনস্বীকার্য বাস্তবতা ছিল। এই দৃশ্য দেখে আমার চোখ বিশ্বাস করতে পারছিল না, বরং হৃদয় বাধ্য হয়ে স্বীকার করে নিল যে, এই মাদরাসা কেবলই শান্তির নীড়, যেখানে শুধু ভালোবাসার বার্তা ও নববী শিক্ষার তালিম দেওয়া হয়। এখন আমি সব ধরনের ভয় থেকে মুক্ত এবং নিজেকে শান্ত করতে পেরেছি।

এরপরে আমি প্রশাসনিক দপ্তরে গেলাম, যেখানে কম্পিউটার বিভাগের কিছু ব্যক্তির সঙ্গে দেখা হলো। তাদের সঙ্গে ইংরেজি ভাষায় কিছু কথা হলো। যেহেতু ছোটবেলা থেকে আমেরিকায় থেকেছি, তাই মাতৃভাষার ওপর পুরোপুরি দখল না থাকলেও তাদের সঙ্গে কথা বলার সময় মনে হচ্ছিল যেন তাদের মুখ থেকে ফুল ঝরছে। অত্যন্ত সদাচরণের সঙ্গে কথা হচ্ছিল, যে আলোচনায় দারুল উলুমের প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ও এর প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে জানতে পারলাম। তারপর আমি কম্পিউটারে বসার অনুমতি চাইলাম। কম্পিউটারে বসে প্রায় দুই ঘণ্টায় ইসলাম ও দারুল উলুমের প্রাসঙ্গিকতায় প্রায় দুই শ পৃষ্ঠার একটি পিডিএফ ফাইল তৈরি করে সংরক্ষণ করে নিলাম।

এরপর আমি নাজির ভাইকে কোনো হোটেলে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করলাম। দূরদর্শিতার কারণে আমার ক্ষুধা মরে গিয়েছিল, কিন্তু পরিস্থিতি ভিন্ন দেখে কিছুটা ক্ষুধা অনুভব করলাম। নাজির ভাই আমাকে চিকেন ফ্রাই সেন্টারে নিয়ে গেলেন, যেখানে আমি নাজির ভাইয়ের জন্য আলাদা এবং নিজের জন্য আলাদা চিকেন ফ্রাইয়ের অর্ডার দিলাম। আমার খুব ক্ষুধা ছিল, তাই নিজের জন্য বেশি পরিমাণে চিকেন ফ্রাই অর্ডার করেছিলাম, কিন্তু ঘটনা এমন ঘটল যে আমি আর খেতে পারলাম না। তাই আমি ওয়েটারকে সেটি ফেলে দিতে বললাম। নাজির ভাই এটি শুনেই বলে উঠলেন, ‘দীপক ভাই, কেন ফেলে দিচ্ছেন? আমাকে দিয়ে দিন।’ আমি নাজির ভাইকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললাম যে, ‘আমাদের ওখানে তো যে গ্লাসে একবার হাত দেওয়া হয়, তা থেকে পানি পান করা তো দূরে থাক, কেউ হাত লাগানোও পছন্দ করে না। আর তোমরা একজন অমুসলিমের উচ্ছিষ্ট পর্যন্ত খেতে প্রস্তুত! এত ভালোবাসা আর এমন শিক্ষা?’ আমার চোখে পানি এসে গেল। আমি নাজির ভাইকে জড়িয়ে ধরলাম এবং স্নেহের সঙ্গে পিঠে চাপড় দিলাম। নাজির ভাই বললেন, ‘আমরা যে রিজিক বরবাদ করে দিই, সেই রিজিকের জন্য গরিবরা কত আশা করে থাকে, তৃষ্ণার্ত থাকে। কিন্তু সেই মানুষ রিজিকের কদর কী বুঝবে, যে সবসময় টাকা নিয়ে খেলেছে? রিজিকের কদর তো তাদের কাছে জানতে হবে, যাদের কাছে এক টুকরো খাবারও জোটে না।’

এরপর নাজির ভাই আমাকে মেহমানখানা পর্যন্ত নিয়ে এলেন এবং বিশ্রাম নিতে বললেন। কিছুক্ষণ পর মুহতামিম সাহেবের আসার খবর পাওয়া গেল। মেহমানখানার সঙ্গে সংযুক্ত মুহতামিম সাহেবের কক্ষে যাওয়ার অনুমতি চাইলাম। অনুমতি পাওয়ার পর ভেতরে প্রবেশ করলাম। মুহতামিম সাহেব হাসিমুখে আমার অভ্যর্থনার জন্য দাঁড়িয়ে গেলেন। এমন সুন্দর চেহারা, যার ওপর আনন্দের আভা ফুটে ছিল—তা দেখে আমার মন ভরে গেল। কথাবার্তায় ছিল অশেষ মাধুর্য। মুহতামিম সাহেব আমাকে বসতে বলে নিজে গ্লাসে পানি ঢেলে আমাকে পান করালেন। এরপর চা আনা হলো। মুহতামিম সাহেব নাস্তার জন্য জোর করছিলেন, কিন্তু আমি আগে থেকেই খেয়েছিলাম বলে চাতে রাজি হলাম। 

আলোচনার মাধ্যমে অনেক সত্যের মুখোমুখি হলাম এবং আমরাও আমাদের কার্যক্রম সম্পর্কে জানালাম। এরপর একটি সংকল্প প্রকাশ করলাম যে, পরের বার আমি সেই সব সাংবাদিকদের প্রতিনিধি দল নিয়ে আসব, যারা এই শান্তির নীড়কে সন্ত্রাসীদের আস্তানা বলে মানুষের মানসিকতা নষ্ট করছে। সবশেষে এই বলে বিদায় নিলাম যে, ‘মুহতামিম সাহেব, আজ পর্যন্ত আমি সব ধর্ম অধ্যয়ন করেছি, কিন্তু সিরাত ও নৈতিকতায় মুহাম্মাদ (সা.)-এর মতো কোনো মানুষ দেখিনি। আর আমার চোখ আজ পর্যন্ত কোটি কোটি মানুষ দেখেছে, কিন্তু আপনার মতো সুন্দর ও নূরানি চেহারা কখনো দেখিনি।’

যে পরিমাণ ঘৃণা ও অপবিত্র উদ্দেশ্য নিয়ে আমরা দেওবন্দে এসেছিলাম, তার চেয়ে অনেক বেশি ভালোবাসা ও মমতা নিয়ে ফিরে যাচ্ছিলাম। অর্থাৎ ভালোবাসা ও আনন্দ নিজের আঁচলে ভরে নিয়ে ফিরছিলাম।

সর্বশেষে, যাওয়ার সময় নাজির ভাইকে একটি মোবাইল উপহার দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তিনি কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করলেন। যার থেকে এই শিক্ষা পেলাম যে, আসলে এখানে কেউ স্বার্থপর নয়, বরং এখানে শুধু ভালোবাসা আর ভালোবাসাই বিদ্যমান।

/আইও


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ