নিজস্ব প্রতিবেদক
ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের কোনো পর্যায়ের দায়িত্বশীল, সদস্য, কর্মী কিংবা সমর্থক ইসলামবিরোধী, কোরআন-সুন্নাহবিরোধী, সংগঠনের আদর্শ ও নীতিমালাবিরোধী অথবা শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি রিদওয়ান মাযহারী।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বাদ আসর রাজধানীর পল্টনে ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকাস্থ ক্যাম্পাস শাখার দায়িত্বশীলদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
রিদওয়ান মাযহারী বলেন, ‘ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল থেকে শুরু করে জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের দায়িত্বশীল, প্রাতিষ্ঠানিক সদস্য, কর্মী কিংবা সমর্থক—যে পর্যায়েরই হোন না কেন, যদি কেউ ইসলামবিরোধী, কোরআন-সুন্নাহবিরোধী, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের আদর্শ ও নীতিমালাবিরোধী কিংবা শৃঙ্খলা পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত হন, তাহলে ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ তার ব্যাপারে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিতে কোনো ধরনের দ্বিধাবোধ করবে না।’
তিনি বলেন, ‘আজকের ঢাকাস্থ ক্যাম্পাস মতবিনিময় সভা থেকে আমি ক্যাম্পাস শাখা থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত সকল দায়িত্বশীল, সদস্য ও কর্মীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি—আমরা প্রত্যেকে যেন ইসলামবিরোধী, কোরআন-সুন্নাহবিরোধী এবং ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের আদর্শ, নীতি ও শৃঙ্খলাবিরোধী সকল কর্মকাণ্ড থেকে নিজেদের সম্পূর্ণরূপে বিরত রাখি।’
ছাত্র জমিয়ত সভাপতি বলেন, ‘আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই—ইসলামের স্বার্থে, জমিয়তের স্বার্থে এবং ছাত্র জমিয়তের স্বার্থে আদর্শ ও নৈতিকতার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। কোনো ব্যক্তির পদ, পরিচয় কিংবা সাংগঠনিক অবস্থান তার অনৈতিক বা আদর্শবিরোধী কর্মকাণ্ডের ঢাল হতে পারে না। কারও ব্যাপারে কোনো ধরনের পক্ষপাত, ছাড় বা প্রশ্রয় দেওয়ার সুযোগ নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের প্রতিটি দায়িত্বশীল যেন নৈতিক মূল্যবোধ, উত্তম শিষ্টাচার, ইসলামী চেতনা ও জমিয়তের আদর্শের ওপর সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকেন। দায়িত্বশীলদের ব্যক্তিজীবন, সাংগঠনিক আচরণ ও কর্মতৎপরতায় ইসলামের সৌন্দর্য এবং সংগঠনের আদর্শের প্রতিফলন ঘটানোই সংগঠনের প্রত্যাশা।’
এ সময় তিনি নিজ নিজ অবস্থান থেকে সংগঠনের আদর্শ, শৃঙ্খলা ও নৈতিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সংগঠনের বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য দায়িত্বশীলদের প্রতি আহ্বান জানান।
সভায় ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সাআদ বিন জাকিরের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া এবং সহকারী মহাসচিব মাওলানা জয়নুল আবেদীন।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের প্রচার সম্পাদক মুফতি সাব্বির আহমাদ, যুব জমিয়ত বাংলাদেশের সহপ্রশিক্ষণ সম্পাদক মুফতি নোমান জালালাবাদী, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি নুর হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক ইনামুল হাসান নাঈম, ঢাকা মহানগর উত্তরের সহসভাপতি রাহেবুল ইসলাম, পূর্ব সহসভাপতি কামরুল ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান নাঈম।
মতবিনিময় সভায় জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা, জামিয়া হেসাইনিয়া ইসলামিয়া আরজাবাদ, জামিয়া সুবহানিয়া, জামিয়াতুন নুর আল কাসিমিয়্যা উত্তরা, জামিয়া আনওয়ারুল উলূম সালামবাগ, জামিয়াতুল মাহমুদিয়া টিকরপুর, জামিয়াতুল কুরআন ওয়া সুন্নাহ কেরানীগঞ্জ, জামিয়া মাহমুদিয়া মানিকনগর, লেকসিটি আ. মালেক মতব্বর মাদ্রাসা, মিরপুরের মাযহারুল উলূম ও যাত্রাবাড়ী মাদ্রাসার দায়িত্বশীলরা অংশ নেন।
এসএইচ/