নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীসহ দেশজুড়ে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে আগামী শুক্রবার (১০ জুলাই) সমাবেশ ও গণমিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। একই সঙ্গে ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদ এবং জুলাই সনদ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিও জানাবে দলটি।
সোমবার (৬ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম ও সেক্রেটারি আলহাজ আব্দুল আউয়াল মজুমদার এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় অভিযোগ করেন, রাজধানীর গুলিস্তানসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়েছে। তাদের দাবি, এসব ঘটনায় সাধারণ ব্যবসায়ী ও জনগণ চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। প্রতিবাদকারীদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
তারা আরও অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও যুবদলের কিছু নেতাকর্মী চাঁদাবাজি ও দখলবাজির সঙ্গে জড়িত। চাঁদাবাজদের হয়রানিতে অনেক ব্যবসায়ী ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বরিশালে এক বৃদ্ধ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদার দাবিতে জোরপূর্বক ব্ল্যাঙ্ক চেক ও ব্ল্যাঙ্ক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগের কথাও উল্লেখ করে নেতারা বলেন, এ ধরনের ঘটনা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান থেকেই ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। সেই আন্দোলনের চেতনা বাস্তবায়নে এখনও নানা ষড়যন্ত্র চলছে বলে দাবি করে তারা চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
নেতারা সতর্ক করে বলেন, চাঁদাবাজি ও নৈরাজ্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সরকারের প্রতি জনঅসন্তোষ আরও বাড়তে পারে।
বিবৃতিতে জানানো হয়, আগামী শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। পরে সেখান থেকে একটি গণমিছিল বের করা হবে। কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম।
/আইও