শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬ ।। ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ১৮ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :

কেপ ভার্দেতে কত শতাংশ মুসলিম, কী হালচাল তাদের

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে অবস্থিত ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলের এই দেশটি সম্প্রতি ফুটবলসহ বিভিন্ন কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনায় এসেছে। তবে অনেকের অজানা, দেশটিতে একটি ছোট হলেও সক্রিয় মুসলিম সম্প্রদায় বসবাস করে, যারা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, দাওয়াহ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সমাজসেবার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করে তুলেছেন।

২০২১ সালের জাতীয় আদমশুমারি অনুযায়ী, কেপ ভার্দের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১ শতাংশ মুসলিম। প্রায় পাঁচ লাখ জনসংখ্যার এই দেশে মুসলিমের সংখ্যা আনুমানিক ৫ হাজার।

দেশটির মুসলিমদের বেশির ভাগই পশ্চিম আফ্রিকার সেনেগাল, গিনি-বিসাউ ও মালি থেকে আসা অভিবাসী। রাজধানী প্রাইয়া, মিনদেলো, সাল ও বোয়া ভিস্তা দ্বীপে তাদের বসবাস বেশি।

দেশটির মুসলিমরা মূলত—খুচরা ব্যবসা, নির্মাণশিল্প, পর্যটন ও হোটেল খাত, পরিবহন, হস্তশিল্প এসব পেশার সঙ্গে যুক্ত। দেশের অর্থনীতিতে বিশেষ করে বাণিজ্য ও পর্যটন খাতে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।

ইতিহাসবিদদের মতে, ১৫ শতকে পর্তুগিজ উপনিবেশ স্থাপনের পর আটলান্টিক দাসবাণিজ্যের মাধ্যমে সেনেগাম্বিয়া ও আপার গিনি অঞ্চল থেকে মুসলিম ব্যবসায়ী ও ক্রীতদাসদের হাত ধরেই প্রথম ইসলাম সেখানে পৌঁছে। তবে দীর্ঘ পর্তুগিজ ঔপনিবেশিক শাসনে মুসলিমদের ওপর কঠোর ধর্মীয় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। অনেককে জোরপূর্বক খ্রিস্টধর্ম গ্রহণে বাধ্য করা হয় এবং ইসলামি শিক্ষা ও প্রকাশ্যে ধর্মীয় অনুশীলন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

১৯৭৫ সালে স্বাধীনতার পর কেপ ভার্দের সংবিধানে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়। এরপর মুসলিমরা প্রকাশ্যে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পান।

১৯৯০ সালে রাজধানী প্রাইয়ায় দেশের প্রথম সরকারি স্বীকৃত মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে রাজধানী, মিনদেলো ও সাল দ্বীপে কয়েকটি মসজিদ ও নামাজকেন্দ্র রয়েছে। যদিও এখনো দেশটিতে বড় কোনো প্রাতিষ্ঠানিক মাদরাসা গড়ে ওঠেনি। শিশুদের জন্য মসজিদভিত্তিক মক্তবে কোরআন শিক্ষা দেওয়া হয়।

কেপ ভার্দের মুসলিমদের প্রধান সংগঠন কম্যুনিদাদে ইসলামিকা দে কাবো ভের্দে। এছাড়া ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত অ্যাসোসিয়েশন ইসলামিকা দে দাওয়াহ দে কাবো ভের্দে নতুন মুসলিমদের সহযোগিতা, দাওয়াহ কার্যক্রম, জাকাত বিতরণ এবং অসহায় মানুষের সেবায় কাজ করছে।

স্থানীয় নওমুসলিমদের গড়ে তোলা আল ওয়াসিলাহ ফাউন্ডেশনও আন্তধর্মীয় সম্প্রীতি ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

কেপ ভার্দে আফ্রিকার অন্যতম শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত। এখানকার মুসলিম ও খ্রিস্টানদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কও অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ।

ঈদুল আজহার সময় মুসলিমরা কোরবানির মাংস খ্রিস্টান প্রতিবেশীদের মধ্যেও বিতরণ করেন। ২০২২ সালে ধর্মীয় সহনশীলতা নিয়ে আঞ্চলিক সম্মেলনের আয়োজনও দেশটির আন্তধর্মীয় সম্প্রীতির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়।

মুসলিমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করলেও কিছু সমস্যার মুখোমুখি হন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—

অধিকাংশ মুসলিম অভিবাসী হওয়ায় বৈধ কাগজপত্র ও আবাসিক অনুমতির জটিলতা।

ছোট মুসলিম জনগোষ্ঠীর কারণে অনেক এলাকায় হালাল খাদ্যের সীমিত প্রাপ্যতা।

তবে ইতিবাচক বিষয় হলো, দেশটিতে ধর্মীয় উগ্রবাদের কোনো উল্লেখযোগ্য নজির নেই। মুসলিমরা বরাবরই আইন মেনে চলা, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং সামাজিক সম্প্রীতিকে গুরুত্ব দিয়ে আসছেন।

তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ