বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :

‘গালির সংস্কৃতি কারও জন্যই নিরাপদ নয়’

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

মাওলানা মামুনুল হককে ‘কুলাঙ্গার’ বলার পরিবেশ গত কয়েক মাস ধরে ধীরে ধীরে তৈরি করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট সাইমুম সাদী। প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে অশ্লীল ভাষায় গালাগালি এবং উপস্থিত ব্যক্তিদের তা সমর্থনের প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব কথা বলেন সাইমুম সাদী। তিনি বলেন, ‘কুলাঙ্গার’ বলার পরিবেশ তৈরির ধারাবাহিকতায় এখন প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে অশ্লীল গালি দেওয়া হচ্ছে এবং উপস্থিত সবাই তাতে ‘ঠিক’ বলে সমর্থন করছেন।

সাইমুম সাদী লিখেছেন, গালাগালিকে এভাবে স্বাভাবিক ও গ্রহণযোগ্য করে তোলা হলে একসময় সবাই সবাইকে গালাগালি করবে। এতে কার লাভ বা ক্ষতি হবে তা বলা কঠিন হলেও শেষ পর্যন্ত সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পোস্টে তিনি মাওলানা মামুনুল হকের বাবা, মরহুম শায়খুল হাদিসকে ‘সাইকেল হাদিস’ বলে ব্যঙ্গ করার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। একইভাবে অধ্যাপক আহমদ আবদুল কাদেরকে একটি তাফসির মাহফিলে ‘বিচ্ছু’ বলে গালি দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তখন তারা ছাত্র ছিলেন।

কোনো ব্যক্তির নাম বিকৃত করে উপহাস করা তাফসিরের কোন অধ্যায়ে বৈধ—তা তিনি জানেন না উল্লেখ করে সাইমুম সাদী বলেন, ‘আমাদের ইলম কম।’ তবে আলেম-উলামা ও সম্মানিত ব্যক্তিদের নিয়ে এ ধরনের ভাষা সমাজের সুস্থ রুচি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধকে ধ্বংস করে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘আজ আপনি একজনকে গালি দিচ্ছেন, কাল আপনিও গালি খাবেন, এটাই স্বাভাবিক পরিণতি।’ যেই গালির শিকার হোন না কেন, তাতে তিনি কষ্ট পাবেন উল্লেখ করে সাইমুম সাদী বলেন, ‘আপনারা সবাই আমাদের শ্রদ্ধেয়।’

রাজনীতিতে সমালোচনা ও বিরোধিতার পাশাপাশি তীব্র রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার অধিকার থাকলেও তা যুক্তি, তথ্য ও শালীন ভাষায় হওয়া উচিত বলে মত দেন তিনি।

রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রভাব সম্পর্কে তিনি বলেন, গ্যালারিতে বসে থাকা সাধারণ মানুষ সবকিছু খেয়াল করে দেখেন। কে কী বলছেন এবং কীভাবে বলছেন, তারা তা মনে রাখেন।

সাইমুম সাদীর ভাষায়, ‘রাজনীতির মাঠে প্রতিপক্ষকে হারানো যায় যুক্তি ও আদর্শ দিয়ে; গালাগালি দিয়ে নয়।’

পোস্টের শেষাংশে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘গালির সংস্কৃতি কারও জন্যই নিরাপদ নয়।’ আজ যে ভাষা অন্যের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে, কাল সেই ভাষাই ব্যবহারকারীর দিকেও ফিরে আসবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ