শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬ ।। ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
দাড়ি নবীর সুন্নত, কটাক্ষ করার এখতিয়ার কারও নেই: সংসদে মনিরুল হক চৌধুরী নেতানিয়াহুকে ‘জাহান্নামে পাঠানোর’ হুঁশিয়ারি ইরানের মেজর জেনারেলের ২৮ আগস্ট ২০২৬: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি কত? তানযীমুল আইম্মাহ ওয়াল উলামার উদ্যোগে দুই পর্বে সিরাত প্রতিযোগিতা নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ৪৬৯, এখনও নিখোঁজ ১৪৬৮ আমিরে মজলিসের তত্ত্বাবধানে ৫০ হুইলচেয়ার ও ৫০ ভ্যান বিতরণ কুমিল্লায় খেলাফত মজলিসের উলামা ও সুধী সমাবেশ সিরাজগঞ্জে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মতবিনিময় সভা লখনৌয়ে ১২ দিনব্যাপী সিরাতুন্নবী (সা.) অধিবেশনের সমাপ্তি কিশোরগঞ্জের জামিআ আবু বকরে ভাষা-সাহিত্যের বিশেষ কোর্স শুরু 

জুলাই জাদুঘরে হেফাজতের ভাস্কর্য অপসারণের দাবি পীর সাহেব দেওনার

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই জাদুঘরে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের নামে বা অবয়বে স্থাপিত ভাস্কর্য দ্রুত অপসারণের দাবি জানিয়েছেন কওমি মাদরাসা শিক্ষক পরিষদের সভাপতি ও হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী পীর সাহেব দেওনা।

সোমবার (১০ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, কোনো ব্যক্তি, সংগঠন কিংবা ইসলামি দলের নেতাকর্মী—পরিচয় যা-ই হোক—তাদের ভাস্কর্য নির্মাণ ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ নয়। ইসলামের বিধান সবার জন্য সমান। কারও মর্যাদা, অবদান কিংবা রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক পরিচয়ের কারণে শরিয়তের বিধান পরিবর্তিত হতে পারে না।

অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, জুলাই জাদুঘরে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের নামে বা অবয়বে ভাস্কর্য স্থাপন অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত। ইসলামি মূল্যবোধ, আকিদা ও শরিয়তের পক্ষে যারা কথা বলেন, তাদের স্মৃতি সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও ইসলামি বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো পদ্ধতি গ্রহণ করা উচিত নয়।

তিনি বলেন, শহীদ ও আন্দোলনকারীদের স্মৃতি সংরক্ষণে ভাস্কর্যের পরিবর্তে তথ্যচিত্র, আলোকচিত্র, লিখিত ইতিহাস, দলিলপত্র ও জাদুঘরভিত্তিক প্রদর্শনীর মতো পদ্ধতি গ্রহণ করা যেতে পারে। এতে ইতিহাস সংরক্ষণের পাশাপাশি ধর্মীয় মূল্যবোধও অক্ষুণ্ন থাকবে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই জাদুঘরে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের যে ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে, তা দ্রুত অপসারণ করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো আলেম, ইসলামি ব্যক্তিত্ব কিংবা ইসলামি দলের নেতাকর্মীর ভাস্কর্য নির্মাণ না করার আহ্বান জানান তিনি।

পীর সাহেব দেওনা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও আত্মত্যাগকে সম্মান জানাতে হবে। তবে সেই সম্মান প্রদর্শনের পদ্ধতি দেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া জরুরি।

তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচারী আমলে ভাস্কর্যবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে অনেক উলামায়ে কেরাম কারাবরণ করেছেন এবং অনেকে শাহাদাতবরণ করেছেন। অথচ সেই আলেমদেরই ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সাহাবায়ে কেরামের কোনো ভাস্কর্য ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের মহান জীবন, ত্যাগ ও আদর্শ যথাযথভাবে ইতিহাসে সংরক্ষিত হয়েছে। তাই ভাস্কর্য নির্মাণের পরিবর্তে ইসলামের জন্য আত্মত্যাগকারী আলেম ও শহীদদের ইতিহাস সংরক্ষণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে।

এ ছাড়া ঐতিহাসিক শাপলা চত্বরে নিহতদের আত্মত্যাগের ইতিহাস পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে তাঁদের ত্যাগ ও সংগ্রামের প্রকৃত ইতিহাস জাতির সামনে তুলে ধরতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ