|| মুফতি এনায়েতুল্লাহ ||
যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্স। এই ৫টি দেশকে পরাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু বিগত একশ’ বছরের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এই দেশগুলোর মধ্যে বিভিন্ন দেশে সামরিক হস্তক্ষেপ, যুদ্ধ, দখলদারিত্বসহ বৈশ্বিক রাজনীতিতে সবচেয়ে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র।
গায়ের জোরে দেশ দখল, ক্ষমতায় হস্তক্ষেপ, রাতের অন্ধকারে কোনো দেশের স্বাধীন রাষ্ট্রপতিকে হাইজ্যাক করে নিয়ে যাওয়া এমনকি গুপ্ত হত্যা কোনটা বাদ রেখেছে তারা?
বিভিন্ন দেশে গোপন অভ্যুত্থান, রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি, আধিপত্যবাদী যুদ্ধ, অভ্যুত্থান, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও অস্ত্র বিক্রির লক্ষ্যে যু*দ্ধ বিস্তার করতে করতে কিছুদিন আগে পানামা খাল ও গ্রিনল্যান্ড দখলেরও ইচ্ছা প্রকাশ করেছে তারা।
মধ্যপ্রাচ্যের তেল নিজেদের দখলে নিতে বিভিন্ন কৌশলগত এলাকায় সমুদ্রে স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপন করেছে। এভাবে তারা বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশে সামরিক ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করেছে।
অন্যায়ভাবে দেশ দখল, যুদ্ধ এবং সামরিক হস্তক্ষেপের কথা আসলেই সর্বাগ্রে উঠে আসে আমেরিকার নাম। যে দেশটি তার ২৪৮ বছরের ইতিহাসে ২৩২ বছর যুদ্ধে কাটিয়েছে। ১৭৭৫ সালে আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত দীর্ঘ সময়ের পরিসংখ্যান অনুসারে তারা দখলদারিত্ব, অভ্যুত্থান ও যুদ্ধাবস্থায় আছে।
এক কথায়, যুদ্ধ আসক্ত একটি দেশ, অথচ সভ্যতার দাবিদার। যারা সারাবিশ্বের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি, তারাই আবার দেয় মানবতার সবক। বিশ্বে একমাত্র পারমাণবিক বোমা হামলাও তারা করেছে। সবেচেয়ে বেশি মুসলিম দেশ তারা ধ্বংস করেছে। কেন তাদের এই ক্ষুধা? মার্কিনীদের এই ক্ষুধা কি অব্যাহত থাকবে? অবশিষ্ট বিশ্ব কি এই যুদ্ধবাজ নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে না?
সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে না এলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে প্রস্তরযুগে ফেরত পাঠানোর হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘আজ রাতেই একটি গোটা সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে, যা আর কখনও ফিরে আসবে না।’
মাত্র আড়াই শ বছরের দেশ আমেরিকা আর ৭৮ বছরের দেশ ইসরায়েল কেন ৬ শ বছরের পুরোনো সভ্যতার দেশ ইরানকে প্রস্তরযুগে ফিরিয়ে নিতে চাইছে? বিশ্বের অন্যদেশগুলো নীরব কেন? কৌশলগত মিত্র কিংবা বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর পাশে অন্য শক্তিধর দেশগুলোর না দাঁড়ানো শুধু বিস্ময়করই নয়, রীতিমতো হতাশাজনক! তাহলে কী তারাও ধীরে ধীরে মার্কিন আধিপত্য নীতি মেনে নিচ্ছে? নাকি কোনো সময়ের অপেক্ষায় তারা?
এটা তো স্পষ্ট যে, রাশিয়া ও চীনের মতো শক্তিধর দেশের কৌশলগত মিত্র ইরান। অন্যদিকে ইংল্যান্ড এবং ফ্রান্স চলতি যুদ্ধকে আমেরিকার নিজস্ব যু*দ্ধ বলে নিজেদের সেখানে জড়ায়নি। তার পরও সম্মিলিত শক্তির ইচ্ছা ও অবস্থানের বিপক্ষে দাঁড়ানোর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের অংশটা কী? আর অন্য দেশগুলো নিশ্চুপ থেকে কোন বার্তা দিতে চাইছে? এই উত্তরের খোঁজে বিশ্বের কোটি কোটি শান্তিপ্রিয় মানুষ।
লেখক: সিনিয়র আলেম সাংবাদিক ও বিশ্লেষক
আইও/