সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ।। ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৮ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
বন্যার্তদের পাশে ইসলামী আন্দোলন, চলছে ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতা দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষার নিবন্ধনে একগুচ্ছ জরুরি নির্দেশনা মুহুরী নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে, আতঙ্কে তীরবর্তী মানুষ  বন্যাকবলিত ১১ জেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল পাঁচ বছরে মদিনা জিয়ারত করলেন সাড়ে ১২ কোটি ওমরাহ যাত্রী বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে চট্টগ্রামে গেলেন আমিরে মজলিস ইসলামাবাদে শীর্ষ আলেমদের সম্মেলনে মুসলিম ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ২০ জুলাই মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালনের নির্দেশ শিশুদের মতো আদর-যত্নে গাছের পরিচর্যার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর 

মুহররম-আশুরার ফজিলত, করণীয় ও বর্জনীয়

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুফতি জুবায়ের বিন আবদুল কুদ্দুছ 

মুহাররম অর্থ সম্মানিত। এ মাসকে আল্লাহর মাস বলা হয়েছে। এ মাসের দশ তারিখকে আশুরা বলা হয়। আশুরার অনেক ফজিলত রয়েছে। আশুরার দিনে কারবালার প্রান্তরে দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য হজরত হুসাইন রা.শাহাদাত বরণ করার কারণে এ দিনটি আরো স্বরণীয় হয়ে রয়েছে।

কিন্তু শিয়া সম্প্রদায় হুসাইন রা. এর এ শাহাদাতকে কেন্দ্র করে মর্যাদাপূর্ণ এ দিনটিতে শোক মিছিলের নামে বিদআত করে, অনাচার করে। এতে সঠিক আকিদার মুসলমানরাও  বিভ্রান্ত হচ্ছেন। তাই মুহাররম ও আশুরার ফজিলত, করণীয় ও বর্জনীয় সম্পর্কে ব্যাপক আলোচনা প্রয়োজন। 

হাদিসে বর্ণিত মুহাররম ও আশুরার ফজিলত 
এক. রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, যে মুহাররম মাসে একটি রোজা রাখে, আল্লাহ তাকে ৩০টি রোজা রাখার সমান সওয়াব দান করেন। (তারগিব-১৫২৯) 
দুই. রাসুল ( সা.) ইরশাদ করেন, আমি আশা করি যে, আশুরার রোজার উসিলায় আল্লাহ অতীতের এক বৎসরের গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন। (সহিহ মুসলিম ১১৬২)

আশুরার দিনে করণীয় 
১. আশুরার আগে বা পরে (৯-১০ বা ১০-১১) মিলিয়ে দুটি রোজা রাখা। (মুসনাদে আহমদ-২১৫৪) 
২. বেশী বেশী তাওবা ইস্তিগফার করা। (জামে তিরমিজি-৭৪১)
৩. সাধ্য অনুযায়ী পরিবারের জন্য ভালো খাবারের ব্যবস্থা করা। (তারগিব-১৫৩৬)

আশুরার দিনে বর্জনীয় 
১. মুহাররমের চাঁদ উঠতেই ঢোল পিটানো নাজায়েজ এবং হারাম। (লি আহকামিল কোরআন পৃ. ৫৩) 
২. শোক মিছিল বা র‍্যালি বের করা নাজায়েজ। (সহিহ বুখারি-৫৩৩৪) 
৩.তাজিয়া, মাজারবড তৈরী করা শিরক। (সুরা হাদিদ-৪) 
৪. তাজিয়ার মিছিলে মান্নত করা হারাম। (সুরা বাইয়্যেনাহ-৫) 
৫. মিছিলে ঘোড়ার পায়ে দুধ ঢালা হারাম। (সুরা বানি ইসরাইল-২৭) 
৬. এ মিছিল দেখতে যাওয়া এবং সাহায্য সহযোগীতা করা সম্পূর্ণ হারাম। (সুরা মায়েদা-৫) 

শিরক-বিদ'আতের পরিনাম খুব ভয়াবহ। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন, নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে অংশীদার (শিরক) করার অপরাধ ক্ষমা করেন না। এ ছাড়া অন্যান্য অপরাধ নিজ ইচ্ছা অনুযায়ী ক্ষমা করে দেন। আর যে কেউ আল্লাহর সাথে অংশীদার সাব্যস্ত (শিরক) করে, সে সুস্পষ্টভাবে পথভ্রষ্ট হয়। (নিসা, ১১৬)

হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে, তোমাদের মধ্যে যারা আমার পরে জীবিত থাকবে তারা অচিরেই প্রচুর মতবিরোধ দেখবে। তখন তোমরা অবশ্যই আমার সুন্নাত এবং আমার হিদায়াতপ্রাপ্ত খলিফাগণের সুন্নাত অনুসরণ করবে, তা দাঁত দিয়ে কামড়ে হলেও আঁকড়ে ধরবে। তোমরা (ধর্মের নামে) নব আবিষ্কৃত বিষয় সম্পর্কে খুব সতর্কতার সাথে বেঁচে থাকবে! কারণ প্রতিটি নব আবিষ্কৃত বিষয় হলো বিদ'আত এবং প্রতিটি বিদ'আত হলো ভ্রষ্টতা। (আবু দাউদ, হা নং৪৬০৭) আর প্রতিটি ভ্রষ্টতার ঠিকানা হল জাহান্নাম। (ইবনে মাজাহ, হা নং ১৫৮১)

লেখক: শিক্ষক, লালবাগ মাদ্রাসা, ঢাকা 
খতিব, আজিমপুর ছাপড়া মসজিদ, ঢাকা, 
পরিচালক, দাওয়াতুস সুন্নাহ বাংলাদেশ

এমএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ