নিজস্ব প্রতিবেদক
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা, দারুল উলুম হাটহাজারীর দীর্ঘদিনের মুহতামিম এবং কওমি মাদরাসা অঙ্গনের অবিসংবাদিত মুরব্বি আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ.-এর ইন্তেকালের ছয় বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। ২০২০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর ছয় বছর পরও কওমি অঙ্গনে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবন, নেতৃত্ব ও রেখে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগত উত্তরাধিকার নিয়ে আলোচনা রয়েছে।
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার পাখিয়ারটিলা গ্রামে জন্ম নেওয়া আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ. পড়াশোনা করেন হাটহাজারী মাদরাসা ও ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দে। দেওবন্দে তিনি হাদিস, তাফসির ও ফিকাহসহ বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন। পরে হাটহাজারী মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৮৬ সালে তিনি প্রতিষ্ঠানটির মুহতামিমের দায়িত্ব পান। এরপর প্রায় ৩৪ বছর তিনি এ দায়িত্বে ছিলেন।
দীর্ঘ এই সময়ে হাটহাজারী মাদরাসা দেশের অন্যতম প্রধান কওমি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। একই সঙ্গে আল্লামা শফী রহ. কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে আল-হাইআতুল উলয়া লিল জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর জীবনের আরেকটি বড় অধ্যায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। ২০১০ সালে ঢাকায় নয়, চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে আলেমদের একটি সম্মেলনের মধ্য দিয়ে সংগঠনটি আত্মপ্রকাশ করে এবং আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ. এর আমিরের দায়িত্ব পান। ২০১৩ সালে শাহবাগ আন্দোলন ও ব্লগে ইসলামবিরোধী লেখালেখির অভিযোগকে কেন্দ্র করে হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্বে বড় ধরনের আন্দোলন গড়ে ওঠে। ওই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জাতীয় রাজনীতির বাইরেও আল্লামা শাহ আহমদ শফীর নাম ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে।
কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে সরকারি স্বীকৃতির ক্ষেত্রেও তাঁর সময়টি গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৭ সালের ১১ এপ্রিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে ইসলামি শিক্ষা ও আরবি বিষয়ে মাস্টার্সের সমমান দেওয়ার ঘোষণা দেন। এ স্বীকৃতি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় আল্লামা আহমদ শফী রহ. ও কওমি অঙ্গনের অন্যান্য শীর্ষ আলেমদের ভূমিকা ছিল।
শুধু সংগঠন ও শিক্ষা নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ. ছিলেন দীর্ঘদিনের শিক্ষক ও আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শক। তিনি ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের প্রখ্যাত আলেম আল্লামা হুসাইন আহমদ মাদানী রহ.-এর সান্নিধ্য লাভ করেন এবং তাঁর কাছ থেকে খেলাফতও পান। ফলে বাংলাদেশের কওমি অঙ্গনে তাঁর শিক্ষাজীবন ও মাদানী ধারার সম্পর্কও বিশেষভাবে আলোচিত।
এসএইচ/