অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আগামী অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা চ্যালেঞ্জিং হলেও তা অর্জন করা সম্ভব। সরকার করের হার বৃদ্ধি না করে করভিত্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে চায়। রাজস্ব ব্যবস্থাপনাকে করদাতা বান্ধব করা এবং রাজস্ব আহরণে স্বচ্ছতা আনা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা পৃথকীকরণ, কর ব্যবস্থার অটোমেশন, কর ফাঁকি রোধ এবং বিনিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে এবং হয়রানি বন্ধে সামর্থ্য অনুযায়ী ফ্ল্যাট রেটে ভ্যাট প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, তবে কাঁচা বাজার ও ক্ষুদ্র মুদি দোকান এই ভ্যাটের আওতার বাইরে থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২৫-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সরকারের নানা পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মুদ্রানীতি ও রাজস্ব নীতির কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে বাজারে অর্থ সরবরাহ নিয়ন্ত্রিত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালীকরণ, টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা, কৃষি ও শিল্পসহ সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে ৬০টি পণ্যের উৎসে কর হ্রাস করা হয়েছে। একই সাথে সরবরাহ ব্যবস্থার ত্রুটিসমূহ দূর করা, বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি এবং অসাধুচক্রের কৃত্রিম সংকট ও কারসাজি প্রবণতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে, যা ধাপে ধাপে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনবে।
তিনি আরও জানান, আগামী অর্থবছরের জন্য প্রাক্কলিত ৬.৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রবৃদ্ধি কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, এটি অর্থনীতির সামগ্রিক কার্যক্রম, বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং আস্থার প্রতিফলন। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্প, কৃষি ও আইসিটিসহ সেবাখাত এবং সব প্রতিশ্রুতিশীল খাতের সম্প্রসারণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি খাতসমূহকে মূলধারায় এনে দেশব্যাপী উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বেসরকারি খাতকে শক্তিশালী করা হবে, যা প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
বাজেট ঘাটতি ও সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সরকারের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি জানান, সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধি ও টেকসই ঋণ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাজেট ঘাটতি সহনীয় পর্যায়ে রাখা হবে। সরকার ক্রমান্বয়ে পরিচালন ব্যয় কমিয়ে উন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে।
সেই লক্ষ্যে বাজেটে উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ২৭.২৭ শতাংশ হতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৩৩.৭০ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে, পরিচালন ব্যয় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৭২.৭৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৬৬.৩০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। আগামী অর্থবছরগুলোতে উন্নয়ন ব্যয়ের এই অংশ আরও বৃদ্ধি এবং পরিচালনা ব্যয়ের অংশ ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনা হবে।
আইও