ইরানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে আলোচনার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, মঙ্গলবার ইরানের সঙ্গে কাতারের রাজধানী দোহায় আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
সোমবার (২৯ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরান আলোচনায় বসার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। আলোচনা আগামীকাল দোহায় অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, দুদিন ধরে পরস্পরকে লক্ষ্য করে দফায় দফায় হামলার পর অবশেষে সহিংসতা বন্ধ করে আবারও আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।
সূত্র জানিয়েছে, ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তিতে উল্লিখিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে। উভয় পক্ষই বর্তমানে শান্ত রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর চলাচলে কোনো বাধা নেই।
উল্লেখ্য, গত ২৫ জুন বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হরমুজ প্রণালিতে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী একটি জাহাজকে লক্ষ্য করে ইরানের নৌবাহিনী হামলা চালানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেশটির ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্রের ডিপো এবং রাডার ব্যবস্থায় পাল্টা হামলা চালায় মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম)।
এরপর প্রায় দুদিন ধরে পরস্পরকে লক্ষ্য করে দফায় দফায় হামলা চালায় সেন্টকম এবং ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। সেন্টকমের হামলার জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল আইআরজিসি।
তবে ইরানের হামলায় এ দুই দেশের মার্কিন ঘাঁটির কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। কুয়েত ও বাহরাইনের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও পৃথক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে।
কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পর ২৭ জুন ইরানের সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল প্রেস টিভির মাধ্যমে আইআরজিসি এক বিবৃতি দেয়। এতে বলা হয়, গত ২৫ জুন ইরানে হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। এর জন্য মার্কিন বাহিনীকে মূল্য দিতে হবে। সামনের দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতে নরক নেমে আসবে।
সূত্র: আল জাজিরা
আইও