শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬ ।। ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :

জাতীয় উলামা-মাশায়েখ সম্মেলনে কে কী বললেন

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘অমুসলিম সংখ্যালঘু’ ঘোষণা, তাদের ধর্মীয় পরিভাষা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা এবং প্রকাশনা ও প্রচারসামগ্রী নিষিদ্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত জাতীয় উলামা-মাশায়েখ সম্মেলনে আলেম-ওলামা ও বিভিন্ন ইসলামি দলের নেতারা বক্তব্য দিয়েছেন। সম্মেলন থেকে দাবি আদায়ে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশ, রাজধানীতে মহাসমাবেশ এবং পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর রমনায় ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশ আয়োজিত এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আলেম-ওলামা ও মাশায়েখরা অংশ নেন।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। তাঁর লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের নির্বাহী সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব।

লিখিত বক্তব্যে কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘অমুসলিম সংখ্যালঘু’ ঘোষণা, মুসলমানদের ব্যবহৃত ধর্মীয় পরিভাষা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা এবং তাদের বই-পুস্তক, ওয়েবসাইট ও প্রচার কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবি জানানো হয়।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও অসুস্থতার কারণে তিনি অংশ নিতে পারেননি। তাঁর লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী।

বক্তব্যে ধর্মমন্ত্রী বলেন, সম্মেলন থেকে সরকারের কাছে যেসব দাবি উত্থাপন করা হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থেকে এবং ব্যক্তিগত অবস্থান থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন। সরকার এসব দাবিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক বলেন, কাদিয়ানীরা মুসলমানদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। তাদের এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করা সরকারের দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের (বেফাক) মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক জাতীয় সংসদে কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার বিল উত্থাপনের দাবি জানান।

তিনি বলেন, সরকার ও বিরোধী দল—উভয় পক্ষকেই সংসদে এ বিষয়ে বিল উত্থাপন করতে হবে। তা না হলে তাওহিদী জনতা সমুচিত জবাব দেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকও সংসদে কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণার জন্য বিল উত্থাপনের দাবি জানান।

তিনি বলেন, এরপরও সরকার সিদ্ধান্ত না নিলে আগামী নভেম্বরে সংসদ ঘেরাও কর্মসূচি দেওয়ার বিষয়ে হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশে এমন ঘোষণা দিতে অসুবিধা কোথায়—এ প্রশ্ন তোলেন তিনি।

সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, মুসলমানদের পালস বুঝতে না পারলে সরকারকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে।

আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের নির্বাহী সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব বলেন, বিএনপি নির্বাচনের আগে একাধিকবার কাদিয়ানীদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও ক্ষমতায় যাওয়ার পর তা বাস্তবায়ন করছে না।

সম্মেলনের সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের সভাপতি ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান অংশগ্রহণকারী আলেম-ওলামা, মাশায়েখ ও তাওহিদী জনতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি খতমে নবুওয়তের আকিদা সংরক্ষণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ঘোষিত কর্মসূচিতে সর্বস্তরের মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ কামনা করেন।

সম্মেলন থেকে আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের প্রতিটি জেলায় ধারাবাহিকভাবে খতমে নবুওয়ত সমাবেশ, আট বিভাগে পর্যায়ক্রমে মহাসমাবেশ, প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি এবং রাজধানীতে ‘আন্তর্জাতিক খতমে নবুওয়ত মহাসমাবেশ’ আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

এ ছাড়া দেশের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসকদের কাছে খতমে নবুওয়ত বিষয়ে বই-পুস্তক পৌঁছে দেওয়া এবং দেশের জামে মসজিদগুলোতে জুমার বয়ানে এ বিষয়ে আলোচনা ও সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়।

সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এসব কর্মসূচির পরও দাবি বাস্তবায়ন না হলে রাজধানী অচল বা অবরোধ এবং জাতীয় সংসদ ঘেরাওয়ের মতো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।

সম্মেলনে কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘অমুসলিম সংখ্যালঘু’ ঘোষণাসহ মোট ১০ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। পাশাপাশি মাওলানা সাদকে বাংলাদেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা এবং সাদপন্থীদের ইজতেমায় অনুমতি না দেওয়াসহ আরও কয়েকটি দাবি জানানো হয়।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ