নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তবে রাষ্ট্রপতি পদে জামায়াত ও তাদের জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী কে হচ্ছেন, তা এখনো নির্ধারণ হয়নি। দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং জোটের শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম আলোচনায় রয়েছে। এর বাইরে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বে থাকা কোনো ব্যক্তিকেও প্রার্থী করার বিষয়ে আলোচনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
শনিবার (৮ আগস্ট) রাতে রাজধানীতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। দলটির আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ রোববার জোট শরিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী চূড়ান্ত হতে পারে। বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে এ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে শরিকদের মতামত নিয়ে জোটের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একক প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।
রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের নাম আলোচনায় রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে থাকা তাহের দলটির গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারকদের একজন। জোটের পক্ষ থেকে জামায়াতের নিজস্ব কোনো নেতাকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত হলে তার নাম গুরুত্ব পেতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। দলটির সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা গোলাম পরওয়ারকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করার বিষয়েও জোটের মধ্যে আলোচনা হতে পারে।
জামায়াতের বাইরে জোটের শরিক এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নামও আলোচনায় রয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণে জোটের পক্ষ থেকে তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য কোনো প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলে অলি আহমদের বিষয়টি বিবেচনায় আসতে পারে বলে জানা গেছে।
তাহের, গোলাম পরওয়ার ও অলি আহমদের বাইরে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বে থাকা কোনো ব্যক্তির নামও রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে প্রস্তাব করা হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট নাম বা সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।
রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হওয়ায় বর্তমান সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে নির্বাচনের ফলাফল অনেকটাই অনুমেয় বলে মনে করছেন জামায়াত ও তাদের জোটের নেতারা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ৩০০ আসনের মধ্যে ২১১টি আসন পাওয়ায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
এরপরও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়াকে গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হিসেবে দেখছে জামায়াত। দলটির নেতাদের মতে, নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার মাধ্যমে সংসদীয় রাজনীতিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবেশ তৈরি এবং গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরও গতিশীল করা সম্ভব হবে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে দলের মনোনয়ন এখনো চূড়ান্ত হয়নি। শরিকদের সঙ্গে আলোচনা করেই প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে।
সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর বিরোধী দল থেকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়ার সর্বশেষ নজির রয়েছে ১৯৯১ সালে। ওই নির্বাচনে তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীকে প্রার্থী করেছিল। তিনি বিএনপির প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাসের কাছে ৮০ ভোটে পরাজিত হন।
এরপর অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এ অবস্থায় এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াত ও তাদের জোটের প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরএইচ/