জাতীয় বৃক্ষমেলায় প্রায় ১৬ লাখ চারা বিক্রি হয়েছে। লেনদেন হয়েছে প্রায় ১৬ কোটি টাকার। বিপুলসংখ্যক চারা বিক্রি ও মানুষের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে দেশের সাধারণ মানুষ, ক্ষুদ্র নার্সারি উদ্যোক্তা ও তরুণ সমাজ সবুজ অর্থনীতি গড়ে তুলতে প্রস্তুত বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আওয়াল মিন্টু।
রোববার (৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বন ভবনের হৈমন্তী মিলনায়তনে জাতীয় বৃক্ষমেলা ২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, এবারের জাতীয় বৃক্ষমেলায় প্রায় ১৬ লাখ চারা বিক্রি হয়েছে, যার মোট বিক্রয়মূল্য প্রায় ১৬ কোটি টাকা। এত বিপুলসংখ্যক চারা বিক্রি এবং অর্থের লেনদেন প্রমাণ করে, দেশের মানুষ ও তরুণ সমাজের মধ্যে বৃক্ষরোপণ ও সবুজ উদ্যোগের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। তারা সবুজ অর্থনীতি গড়ে তুলতে প্রস্তুত।
তিনি বলেন, দারিদ্র্য বিমোচনে সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে বন অধিদপ্তর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এ পর্যন্ত ১ লাখ ৭ হাজার হেক্টরের বেশি ব্লক বাগান এবং ৮২ হাজার কিলোমিটারের বেশি স্ট্রিপ বাগান করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় ৮ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হয়েছেন, যাদের বড় অংশই নারী।
মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রকৃতিপ্রেমীরা অংশ নেন। এবারের মেলায় মোট ৭৪টি নার্সারি অংশ নেয়।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, সরকার আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং সাড়ে তিন লাখ সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এরই মধ্যে প্রথম বছরে ৫ কোটি চারা রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বন অধিদপ্তর একাই ৩ কোটি ৫০ লাখ চারা রোপণ করছে।
তিনি আরও বলেন, ‘গ্রিন এন্টারপ্রাইজ’ কর্মসূচির আওতায় সারাদেশে ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে আড়াই লাখ মানুষের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হয়েছে। এর ফলে বৃক্ষরোপণকে কেন্দ্র করে উদ্যোক্তা তৈরির পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়ছে।
স্মার্ট বনায়নের অংশ হিসেবে জিআইএস, জিপিএস, ড্রোন প্রযুক্তি এবং ‘ট্রি মনিটরিং অ্যাপ’ ব্যবহার করে প্রতিটি চারার ডিজিটাল তদারকি নিশ্চিত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বন ও পরিবেশ খাতের আইন ও নীতি আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে আবদুল আওয়াল মিন্টু বলেন, এর অংশ হিসেবে জাতীয় বন নীতি ২০২৫, বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ আইন ২০২৬, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০২৬ এবং সামাজিক বনায়ন বিধিমালা ২০২৬ প্রণয়ন করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক কার্বন বাজারে অংশগ্রহণ এবং সামুদ্রিক নীল অর্থনীতির সুফল পেতে বনভূমির কার্বন মজুদ নিরূপণের কাজও সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, প্রতিটি পরিবার ও প্রতিষ্ঠান অন্তত একটি করে গাছ রোপণ ও তার পরিচর্যা করলে ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশের বৃক্ষাচ্ছাদন ২৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত সময়ের আগেই অর্জন করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান উপলক্ষে আয়োজিত রচনা, চিত্রাঙ্কন ও গাছ চেনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার ২০২৫ পাওয়া ব্যক্তি ও সফল স্টলমালিকদের মধ্যে পুরস্কার ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
আইও/