নিজস্ব প্রতিবেদক
উপমহাদেশের শীর্ষ দীনি বিদ্যাপীঠ দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস আল্লামা মুফতি আবুল কাসেম নোমানী বলেছেন, হারাম থেকে বেঁচে থাকা, আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকা, প্রতিবেশীর হক আদায় করা, নিজের জন্য যা পছন্দ অন্যের জন্যও তা পছন্দ করা এবং অপ্রয়োজনীয় হাসি-তামাশা পরিহার—এই পাঁচটি গুণ একজন মানুষকে প্রকৃত মুমিন ও আদর্শ মুসলমান হিসেবে গড়ে তোলে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে জুমার পূর্ব বয়ানে তিনি এসব কথা বলেন। পরে তিনি জুমার খুতবা প্রদান ও ইমামতি করেন।
বয়ানের শুরুতে তিনি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত একটি হাদিস তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একদিন রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের উদ্দেশে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘কে আমার কাছ থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা গ্রহণ করবে এবং সে অনুযায়ী আমল করবে কিংবা অন্যদের তা শিক্ষা দেবে?’ তখন হযরত আবু হুরায়রা (রা.) আগ্রহভরে সাড়া দিলে নবী করিম (সা.) তাঁর হাত ধরে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ নসিহত প্রদান করেন।
আল্লামা নোমানী বলেন, প্রথম নসিহত ছিল—সব ধরনের হারাম থেকে বিরত থাকা। তিনি বলেন, শুধু ইবাদত বেশি করাই বড় বিষয় নয়; বরং হারাম থেকে নিজেকে রক্ষা করাই প্রকৃত ইবাদতের ভিত্তি। কারণ কোনো কাজ করা সহজ হলেও হারাম থেকে নিজেকে সংযত রাখা অনেক বেশি কঠিন। যে ব্যক্তি হারাম বর্জন করে, তার জন্য ইবাদত সহজ হয়ে যায় এবং সে আল্লাহর নিকট অধিক ইবাদতগুজার হিসেবে গণ্য হয়।
দ্বিতীয় নসিহত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আল্লাহ মানুষের জন্য যে রিজিক নির্ধারণ করেছেন, তাতে সন্তুষ্ট থাকাই প্রকৃত সম্পদ। বাহ্যিক ধন-সম্পদের চেয়ে অন্তরের প্রাচুর্যই আসল ধন। অল্পতুষ্টি ও কানাআতের গুণ অর্জন করলে মানুষ প্রকৃত অর্থে ধনী হয়ে ওঠে।
তৃতীয় নসিহতে তিনি প্রতিবেশীর অধিকার আদায়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, প্রতিবেশীর সঙ্গে উত্তম আচরণ করা ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যে ব্যক্তির অনিষ্ট থেকে প্রতিবেশী নিরাপদ থাকে না, সে পূর্ণাঙ্গ মুমিন হতে পারে না।
চতুর্থ নসিহতে তিনি বলেন, নিজের জন্য যা ভালোবাসা হয়, অন্যের জন্যও তা-ই ভালোবাসতে হবে। একজন প্রকৃত মুসলমান এমন ব্যক্তি, যার কথা ও কাজে অন্য মানুষ কষ্ট পায় না এবং যার হাত ও জিহ্বা থেকে মানুষ নিরাপদ থাকে।
পঞ্চম নসিহত হিসেবে তিনি অতিরিক্ত হাসি-তামাশা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অযথা ও অতিরিক্ত হাসি মানুষের অন্তরকে কঠিন করে দেয় এবং আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) কখনো অট্টহাসি দিতেন না; বরং তিনি সংযত ও মৃদু হাসিতেই অভ্যস্ত ছিলেন। তাই মুসলমানদের উচিত সময়কে হাসি-তামাশায় নষ্ট না করে আল্লাহর জিকির, ইবাদত এবং আত্মশুদ্ধিতে ব্যয় করা।
তিনি বলেন, উল্লিখিত পাঁচটি গুণ জীবনে ধারণ করতে পারলে একজন মানুষ প্রকৃত মুমিন, প্রকৃত মুসলিম এবং আল্লাহর প্রিয় বান্দা হিসেবে গড়ে উঠতে পারবেন।
বয়ান শেষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব ফকিহ মাওলানা আবদুল মালিক উর্দু বয়ানের সারাংশ বাংলায় অনুবাদ করে শোনান। পরে আল্লামা মুফতি আবুল কাসেম নোমানীর ইমামতিতে জুমার নামাজ আদায় করা হয়। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
এমএম/