শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ ।। ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ৩ সফর ১৪৪৮


বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের যেসব সহযোগিতা দেবে সরকার

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাঁচ জেলার কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে দ্রুত পুনরুদ্ধারে সরকার জরুরি সহায়তা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি জানান,  এই কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে ৩২৭ মেট্রিক টন ধানবীজ বিতরণ, ১ লাখ ৫১ হাজার ৫৯৯টি গবাদিপশুকে টিকাদান এবং ৩৫ লাখ টাকার গোখাদ্য সরবরাহ করা হবে।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) রাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান।

ব্রিফিংয়ে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ ও বন্যায় কৃষি, মৎস্য এবং প্রাণিসম্পদ খাতের ক্ষয়ক্ষতি ও পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

মন্ত্রী জানান, মাঠপর্যায়ের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ জেলায় মৎস্য খাতে ২০০ কোটির বেশি এবং প্রাণিসম্পদ খাতে প্রায় ৭৭ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো এখনো তথ্য সংগ্রহ করছে।

তিনি বলেন, বন্যায় বিপুল পরিমাণ বীজতলা নষ্ট হওয়ায় কৃষকদের পুনর্বাসনে ৩২৭ মেট্রিক টন ধানবীজ প্রয়োজন হবে। সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় বীজ মজুত রয়েছে। যেসব কৃষকের জমি চাষের উপযোগী হয়েছে, তাদের কাছে দ্রুত বীজ পৌঁছে দেওয়া হবে। আর যাদের জমি এখনো প্রস্তুত নয়, তাদের জন্য সরকারি খালি জমিতে জরুরি ভিত্তিতে বীজতলা তৈরি করা হচ্ছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সেখান থেকে ধানের চারা সংগ্রহ করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

গবাদিপশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বন্যার পর খুরা রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ জেলায় ১ লাখ ৫১ হাজার ৫৯৯টি গবাদিপশুকে টিকা দেওয়া হবে। আগামীকাল থেকেই এই কার্যক্রম শুরু হবে এবং ১৫ দিনের মধ্যে তা সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বন্যায় খড় ও অন্যান্য পশুখাদ্য নষ্ট হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার জন্য প্রাথমিকভাবে ৩৫ লাখ টাকার গোখাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতির মাত্রা বিবেচনায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিভিন্ন উপজেলায় এসব গোখাদ্য বিতরণ করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে আরও সহায়তা দেওয়া হবে।

এ সময়ে সংবাদ ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. বয়জার রহমান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

আওয়ার ইসলাম/জেডএম


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ