শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ ।। ২৭ চৈত্র ১৪৩২ ।। ২৩ শাওয়াল ১৪৪৭

শিরোনাম :
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় বাংলাদেশি নারী নিহত ১১ এপ্রিল ২০২৬-এর নামাজের সময়সূচি গণরায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবি ইসলামী আন্দোলনের ‘গণভোটের রায়ের আলোকে সংবিধান সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে’  ৪০ দিনের যুদ্ধে ইরানের ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ১৮ লক্ষ কোটি টাকা মার্কিন কংগ্রেসে জোরালো হচ্ছে ট্রাম্পকে অপসারণের দাবি দৌলতদিয়ায় বাসডুবিতে নিহত ২৬ জনের স্মরণে দোয়া অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় দ্রুত কার্যকর না হলে রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে: মাওলানা জালালুদ্দীন আহমাদ বর্তমান সরকার জুলাই বিপ্লবের চেতনার বহিঃপ্রকাশ: অ্যাটর্নি জেনারেল প্রণয় ভার্মাকে বেলজিয়াম ও ইইউ’র ভারতের রাষ্ট্রদূত নিয়োগ

চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রার উর্ধ্বগতি, রাস্তায় গলছে পিচ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে টানা দুদিন ধরে বয়ে যাচ্ছে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ। তাপমাত্রা অতিরিক্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় দুর্বিষহ হয়ে উঠছে জনজীবন। প্রচণ্ড রোদ আর গরমে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বিশেষত, খেটে-খাওয়া শ্রমজীবীরা।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বেলা ৩টায় চুয়াডাঙ্গার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৩১ শতাংশ। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার একই সময়ে তাপমাত্রা ছিল ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ছিল দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

হঠাৎ তাপমাত্রার এই ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হতে চাইছেন না। তীব্র রোদে শ্রমিক, দিনমজুর, ভ্যান-রিকশাচালক এবং কৃষকদের কাজ করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছে। জেলাটির বিভিন্ন স্থানে সড়কের পিচ পর্যন্ত গলে যেতে দেখা গেছে, বিশেষ করে শহরের পৌরসভা সংলগ্ন এলাকায় এমন দৃশ্য চোখে পড়েছে। এছাড়া এই তীব্র গরমে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ডিউটিরত পুলিশ, শিক্ষার্থী ও পথচারীদের শরবত ও স্যালাইন পান করাতে দেখা গেছে।

দিনমজুর আব্দুল করিম বলেন, রোদে কাজ করা একেবারে অসম্ভব হয়ে গেছে। একটু পরপর মাথা ঘুরে যায়, তবুও কাজ না করলে সংসার চলবে না।

আরেক দিনমজুর সোহেল রানা জানান, গরমে শরীর একেবারে দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। মাঝেমধ্যে কাজ বন্ধ করে ছায়ায় বসে থাকতে হয়, কিন্তু এতে আয় কমে যায়।

ভ্যানচালক শহিদুল ইসলাম বলেন, দুপুরের দিকে রাস্তায় বের হওয়াই কষ্টকর। গরমে যাত্রীও কম, আবার শরীরও সাপোর্ট করে না।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রাশেদ মাহমুদ বলেন, অফিসে যেতে-আসতে খুব কষ্ট হচ্ছে। রাস্তায় বের হলেই মনে হয় শরীর পুড়ে যাচ্ছে। এমন গরমে স্বাভাবিক কাজ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে, তীব্র গরমের মধ্যে জ্বালানি সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। জেলার বিভিন্ন তেল পাম্পে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে, যা তাদের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা শহরের মোটরসাইকেল চালক আকাশ ইসলাম বলেন, সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে তেল নিতেই ৩-৪ ঘণ্টা এই রোদের মধ্যেই অপেক্ষা করতে হচ্ছে। যা অতান্ত কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, জেলায় বর্তমানে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা আগামী এক থেকে দুই দিন অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর তাপমাত্রা কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে এবং বৃষ্টিরও আভাস রয়েছে।

 

জেডএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ