আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
বর্তমানে পবিত্র কাবার গিলাফ (কিসওয়া) পরিবর্তনের নির্ধারিত ও সুসংগঠিত রীতি থাকলেও একসময় এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িয়ে ছিল একটি ব্যতিক্রমী ঐতিহাসিক প্রথা। অতীতে কাবার গিলাফ পরিবর্তনের আগে এর নিচের অংশ কেটে সেখানে সাদা কাপড় লাগানো হতো। এর পেছনে ছিল মূলত পুরোনো কিসওয়ার অংশ হজযাত্রীদের কাছে স্মারক হিসেবে বিক্রির ব্যবস্থা।
ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, অতীতে কাবার দরজা গিলাফ পরিবর্তনের সময় এবং হজ মৌসুমে তুলনামূলক বেশি খোলা হতো, যাতে অধিক সংখ্যক হজযাত্রী কাবার অভ্যন্তরে প্রবেশের সুযোগ পান।
সে সময় জিলকদের ২৮ তারিখে কাবার গিলাফের নিচের প্রায় আট ফুট অংশ কেটে ফেলা হতো। পরে ওই অংশে সাদা ক্যালিকো (মোটা সুতির সাদা কাপড়) সেলাই করে লাগানো হতো। এই কাজের দায়িত্ব পালন করতেন কাবার ঐতিহ্যবাহী চাবির রক্ষণাবেক্ষণকারী শায়বি (বানু শায়বা) পরিবারের সদস্যরা।
ইতিহাসবিদদের মতে, এই ব্যবস্থা গ্রহণের মূল উদ্দেশ্য ছিল পুরোনো কিসওয়ার কাটা অংশ সংগ্রহ করে হজযাত্রীদের কাছে বিক্রি করা। গিলাফ পরিবর্তনের নির্ধারিত দিন ছিল ৯ জিলহজ। কিন্তু যদি ওই দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করা হতো, তাহলে অধিকাংশ হাজি হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে নিজ দেশে ফেরার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়তেন। ফলে স্মারক হিসেবে পুরোনো কিসওয়ার অংশ কেনার সুযোগ ও আগ্রহ উভয়ই কমে যেত।
এ কারণে হজের প্রায় ১০ দিন আগে গিলাফের নিচের অংশ সরিয়ে ফেলা হতো এবং ওই সময়জুড়ে পুরোনো কিসওয়ার ছোট ছোট টুকরো বিক্রি করা হতো। মসজিদুল হারামের বাবুস সালাম (বাব আল-সালাম) প্রবেশপথের মার্বেল চত্বরে অস্থায়ী বিক্রেতাদের এসব টুকরো বিক্রি করতে দেখা যেত। বহু হাজি এগুলোকে পবিত্র স্মারক হিসেবে সংগ্রহ করতেন।
পরবর্তীকালে সৌদি কর্তৃপক্ষ কিসওয়া সংরক্ষণ ও বিতরণে কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন করে। বর্তমানে পুরোনো কিসওয়া আর খোলা বাজারে বিক্রি করা হয় না। বরং তা রাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে সংরক্ষণ করা হয় এবং বিশেষ উপলক্ষে বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধান, বিশিষ্ট ব্যক্তি কিংবা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের কাছে সম্মানসূচক উপহার হিসেবে প্রদান করা হয়। সূত্র: হারামাইন আর্কাইভ
আওয়ার ইসলাম/জেডএম
