বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ ।। ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ২ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :
হরমুজের পর লোহিত সাগরও বন্ধের হুমকি ইরানের তফসিল ঘোষণার ৭ দিনের মধ্যে ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রেরণের নির্দেশ ইসির ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ইসলামী আন্দোলনের অবদানকে স্বীকৃতি দিতে হবে’  ডেঙ্গুতে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৩০৬ জুলাই শহীদদের স্মরণে বায়তুল মোকাররমে বিশেষ দোয়া প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ শিশুদের ক্যানসার হাসপাতালের নিকটে আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ ইরানের ‘সংস্কার বাস্তবায়ন না হওয়া আবু সাঈদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল’ গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু বন্যায় নিহত বেড়ে ৫৮, ক্ষতিগ্রস্ত ১২ লাখের বেশি মানুষ

লাখ লাখ ভক্ত-মুরিদকে কাঁদিয়ে তিনি চলে যান এই দিনে

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মাওলানা সৈয়দ ফজলুল করীম (রহ.)। দেশের শীষ আলেম, আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক সিপাহসালার। ২০০৬ সালের এই দিনে (২৫ নভেম্বর) তিনি লাখ লাখ ভক্ত-অনুরাগীকে কাঁদিয়ে তিনি পরকালের পথে পাড়ি জমান। চলে যাওয়ার ১৯ বছর পরও তিনি কোটি মানুষের হৃদয়ে অমর হয়ে আছেন।

মাওলানা সৈয়দ মোহাম্মাদ ফজলুল করীম- শায়েখ চরমোনাই রহ. ২০০৬ সালের ২৫ নভেম্বর সকাল ৯টায় লাখো কোটি ভক্ত মুরিদদেরকে শোক সাগরে ভাসিয়ে চরমোনাই বার্ষিক মাহফিল শুরুর ১দিন পূর্বে চরমোনাই’র নিজ বাসভবনে জিকিররত অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।

আল্লাহর এই অলি ছোট বেলা থেকেই দ্বীনদার ছিলেন। পিতা হযরত মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মাদ ইছহাক রহ. চরমোনাই দরবারের প্রতিষ্ঠাতা শায়েখ এর কাছ থেকেই তিনি ইলেম শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন।

শায়েখ চরমোনাই (রহ.) সৈয়দ ফজলুল করীম ১৯৩৫ সালে বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাইতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মাওলানা সৈয়দ ইছহাক (রা.) ছিলেন চরমোনাই দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা শায়েখ। তার ৫ পুত্রের মধ্যে মেঝ পুত্র সৈয়দ ফজলুল করীম পিতার কাছ থেকে খেলাফত লাভ করেন। সৈয়দ ফজলুল করীম চরমোনাই আলিয়া মাদরাসা থেকে ডিগ্রি নেয়ার পর ১৯৫৭ সালে ঢাকার লালবাগ মাদরাসা থেকে দাওরায়ে হাদিস পাস করেন। এরপর চরমোনাই মাদরাসায় শিক্ষকতা শুরু করেন।

১৯৭৩ সালে পিতা সৈয়দ ইছহাক রহ.-এর ইন্তেকালের পর তিনি আমীরুল মুজাহিদীনের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন।

সৈয়দ ফজলুল করীম ছাত্র জীবনে নাছিরে মিল্লাত নামে একটি ছাত্র সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে ছাত্রদেরকে সংগঠিত করে জনকল্যাণমূলক কর্মকান্ডে নিজেকে নিয়োজিত করেন। এ ছাড়া দ্বীনের দাওয়াতের পাশাপাশি ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য ছাত্র জীবনেই পিতার সাথে নেজামে ইসলামী পার্টির রাজনীতিতে স্বক্রিয় হন। তিনি হাফেজী হুজুরের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৮৭ সালে দেশবরণ্য ওলামা-মাশায়েখদের নিয়ে ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন প্রতিষ্ঠা করেন। মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি ঐ সংগঠনের আমীরের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ভ্রান্ত আকিদা ও নারী নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আপোষহীন আন্দোলন-সংগ্রামে স্বক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। ইসলামী দল ও সংগঠনের ঐক্যের ব্যাপারে তিনি ছিলেন আন্তরিক।

তিনি বিএনপি সরকারের ১৯৯১-১৯৯৬ মেয়াদে বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের প্লাটফর্ম সম্মিলিত সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়কারী এবং ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন সফলতার সাথে। তিনি আরাফাতের ময়দানে এক ভাষণে বর্তমান সাম্রাজ্যবাদের রাবার ষ্ট্যাম্প জাতিসংঘের পরিবর্তে মুসলিম দেশগুলোকে মিলে ইসলামী জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার জন্য আহবান জানান।

১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আওয়ামী লীগ আমলে তিনি ফতোয়া বিরোধী রায় বাতিলের দাবীতে কাফনের কাপড় নিয়ে সারাদেশে আন্দোলন গড়ে তোলেন।

শায়েখ চরমোনাই রহ. তার সমস্ত জীবন ইসলাম প্রচার ও প্রতিষ্ঠার জন্য নিবেদিত করে গেছেন। প্রায় ৩০ বছর যাবৎ সারা বছরব্যাপী দেশের গ্রাম-গঞ্জে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে ইসলাম প্রচারের পাশাপাশি তিনি দেশের গন্ডি পেড়িয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মায়ানমার, আফগানিস্তান ও মালদ্বীপসহ এশিয়ার সকল রাষ্ট্র সফর করেছেন। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আমেরিকা ও আফ্রিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পীর সাহেবের অগনিত ভক্ত মুরিদ রয়েছে।

এনএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ