শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬ ।। ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ ।। ২৪ রমজান ১৪৪৭

শিরোনাম :
উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে মির্জা আব্বাসকে ইরান যেন ক্ষমা চায়, সেই দাবি করেছে থাইল্যান্ড আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখায় ইসরাইলের বিরুদ্ধে ৮ মুসলিম দেশের নিন্দা শনিবার ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী সড়ক দুর্ঘটনায় ১২ স্বজনকে হারালেন ইসলামী আন্দোলন নেতা, দলের শোক বাগেরহাটে বর–কনেসহ ১৩ জন নিহতের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় জমিয়তের শোক রমজানে মাদরাসাগুলোর প্রতিও বিশেষভাবে খেয়াল রাখুন: শায়খ আহমাদুল্লাহ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রত্যেক শহীদের রক্তের প্রতিশোধ নেবে ইরান: মোজতবা খামেনি বিরোধী দলের ওয়াকআউট নিয়ে প্রশ্ন তুললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

 প্রচণ্ড মানসিক কষ্টে যে দোয়া পড়বেন

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মানুষের জীবনে দুঃখ-কষ্ট আসা স্বাভাবিক। কিন্তু বিপদের মুহূর্তে মুমিন কার কাছে অভিযোগ করবে? কার কাছে নিজের হৃদয়ের রক্তক্ষরণ প্রকাশ করবে? পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা হজরত ইয়াকুব (আ.)-এর একটি ঘটনা তুলে ধরেছেন, যা আমাদের জন্য বিরাট শিক্ষা।

সন্তান হারানোর অসহনীয় বেদনায় হজরত ইয়াকুব (আ.)-এর হৃদয়ের আকুতি ও আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পণ করার ভঙ্গি আল্লাহ তাআলার কাছে এতটাই পছন্দনীয় ছিল যে, তিনি তা কোরআনে কারিমে চিরস্থায়ী করে দিয়েছেন।


প্রচণ্ড কষ্টের সময় ইয়াকুব (আ.)-এর সেই প্রার্থনা
অসহনীয় মানসিক যন্ত্রণা, হতাশা কিংবা প্রিয়জন হারানোর বেদনায় মুমিন বান্দা ইয়াকবু (আ.)-এর এই দোয়াটি বেশি বেশি পাঠ করতে পারেন:
আরবি: إِنَّمَآ أَشۡكُواْ بَثِّي وَحُزۡنِيٓ إِلَى ٱللَّهِ
উচ্চারণ: ‘ইন্নামা আশকু বাছ্‌ছি ওয়া হুযনি ইলাল্লাহ।’
অর্থ: ‘আমি আমার অসহনীয় বেদনা ও আমার দুঃখ শুধু আল্লাহর কাছেই নিবেদন করছি।’ (সুরা ইউসুফ: ৮৬)

প্রেক্ষাপট ও শিক্ষা
হজরত ইউসুফ (আ.) যখন ভাইদের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে বাবার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেন, তখন হজরত ইয়াকুব (আ.) প্রচণ্ড আঘাত পেলেন। বহুদিন অতিক্রান্ত হওয়ার পরও সন্তানের বিচ্ছেদ-বেদনা তাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিল। ছেলেরা যখন তাকে এ নিয়ে ভর্ৎসনা করল, তখন তিনি নিজের অশান্ত মনের আকুতি জানিয়ে বলেছিলেন- قَالَ اِنَّمَاۤ اَشۡکُوۡا بَثِّیۡ وَ حُزۡنِیۡۤ اِلَی اللّٰهِ وَ اَعۡلَمُ مِنَ اللّٰهِ مَا لَا تَعۡلَمُوۡنَ
অর্থ: ‘তিনি বললেন, আমি আমার অসহনীয় বেদনা ও আমার দুঃখ শুধু আল্লাহর কাছেই নিবেদন করছি এবং আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে তা জানি, যা তোমরা জান না।’ (সুরা ইউসুফ: ৮৬)

এই আয়াতে মুমিনের জন্য বড় শিক্ষা হলো- বিপদে ধৈর্য ধারণ করা এবং মানুষের কাছে অভিযোগ না করে কেবল আল্লাহর কাছেই মনের কষ্টের কথা বলা। কারণ, মানুষ সমাধান দিতে পারে না, সমাধান কেবল আল্লাহর হাতে।

‘আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে যা জানি’ এর ব্যাখ্যা
আয়াতের শেষ অংশে হজরত ইয়াকুব (আ.) বলেছেন, ‘আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে তা জানি, যা তোমরা জান না।’ তাফসিরবিদগণের মতে, এই ‘অজানা বিষয়গুলো’ হতে পারে নিম্নরূপ:
১. আল্লাহ ওয়াদা করেছেন যে, তিনি আমাকে আমার হারানো সন্তানের সঙ্গে পুনরায় মিলিত করবেন।
২. আমি জানি, আল্লাহ তাআলা কায়মনোবাক্যে প্রার্থনাকারীর দোয়া ফিরিয়ে দেন না।
৩. আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহির মাধ্যমে জানি যে, ইউসুফ এখনো জীবিত।
৪. আমি বিশ্বাস করি, ইউসুফ ছোটবেলায় যে স্বপ্ন দেখেছিল, তা সত্য হবেই।
৫. বিপদে ধৈর্য ধারণ করার কারণে আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন প্রতিদান আশা করি, যা তোমরা কল্পনাও করতে পারছ না। (তাফসিরে ফাতহুল কাদির)

সুতরাং, মুমিন মুসলমানের উচিত গভীর দুঃখ-বেদনায় ভেঙে না পড়ে হজরত ইয়াকুব (আ.)-এর অনুসরণে আল্লাহর কাছেই নিজেদের ব্যথা-বেদনা ও কষ্টের কথা তুলে ধরা। চোখের পানি ফেলে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করা। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলাই উত্তম প্রশান্তিদানকারী ও সব সমস্যার সমাধানকারী।

এনএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ