মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬ ।। ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
‘সিরাতুন্নবীর আলোকে দেশ পরিচালনা করলেই জুলাইয়ের প্রত্যাশা পূরণ হবে’ সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার ঠেকাতে কঠোর মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর ‘মহানবীর (সা.) আদর্শে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ-রাষ্ট্র গড়ে তোলার অঙ্গীকার করি’ বিরিশিরিতে আঞ্চলিক কনফারেন্স আগমী শনিবার ‘পরিচ্ছন্নতায় গাফিলতি হলে কঠোর ব্যবস্থা, কোনো অজুহাত চলবে না’  ২১০ মাদরাসা পরিচালককে নিয়ে আস-সুন্নাহর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন মহানবী (সা.)-এর আদর্শে ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর দক্ষ প্রতিষ্ঠান-পরিচালক তৈরিতে ইতমিনান বোর্ডের সাত দিনের আবাসিক প্রশিক্ষণ বুধবার আল-হাইআতুল উলয়ার সব কার্যক্রম বন্ধ জয়পুরহাটে আখখেত থেকে কঙ্কাল উদ্ধার

যেসব গুণ মানুষকে জান্নাত লাভের যোগ্য করে তোলে

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

সুরা মুমিনূনের প্রথম দিকের আয়াতগুলোতে নয়টি গুণের কথা বলা হয়েছে। সেগুলো অর্জনকারীরা জান্নাতুল ফেরদৌসের উত্তরাধিকারী হবেন। এসব গুণ অর্জনের মাধ্যমেই মুমিনরা আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহের যোগ্য হয়ে ওঠেন বলে ব্যাখ্যা পাওয়া যায় বিভিন্ন তাফসিরে।

তাফসিরকার ইমাম শওকানী বলেছেন, এসব গুণধারী ব্যক্তিরাই প্রকৃতপক্ষে ‘ওয়ারিস’ অর্থাৎ জান্নাতের প্রকৃত উত্তরাধিকারী। একই ব্যাখ্যা দিয়েছেন তাফসিরকার আল-বায়যাবী। তাদের মতে, এসব গুণাবলি যাদের মধ্যে পাওয়া যাবে, তারাই জান্নাতুল ফেরদৌসের জন্য অধিক যোগ্য।

তবে শুধু এই গুণাবলীই নয়, জান্নাতুল ফেরদৌস অর্জনের আরও গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন আলেমরা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আল্লাহর পথে জিহাদ, দোয়া, এবং আরও বিভিন্ন সৎকর্মে আগ্রহী হওয়া। কোরআনে বলা হয়েছে, যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাতুল ফেরদৌস। (সুরা কাহফ, আয়াত : ১০৭)

হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, জান্নাতে একশত স্তর আছে, যা মুজাহিদদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। … তোমরা আল্লাহর কাছে চাইলে জান্নাতুল ফেরদৌস চাইবে, কারণ সেটিই জান্নাতের সর্বোচ্চ ও শ্রেষ্ঠ অংশ। (বুখারি)

আলেমদের মতে, এসব গুণাবলি অর্জনের পাশাপাশি সব সময় নেক আমল একজন মুসলমানকে জান্নাতুল ফেরদৌসের উপযুক্ত করে তোলে।

কোরআনের বর্ণনায় মুমিনের সেই গুণগুলো তুলে ধরা হলো এখানে—

قَدۡ اَفۡلَحَ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ ۙ ١ الَّذِیۡنَ ہُمۡ فِیۡ صَلَاتِہِمۡ خٰشِعُوۡنَ ۙ ٢ وَالَّذِیۡنَ ہُمۡ عَنِ اللَّغۡوِ مُعۡرِضُوۡنَ ۙ ٣ وَالَّذِیۡنَ ہُمۡ لِلزَّکٰوۃِ فٰعِلُوۡنَ ۙ ٤ وَالَّذِیۡنَ ہُمۡ لِفُرُوۡجِہِمۡ حٰفِظُوۡنَ ۙ ٥ اِلَّا عَلٰۤی اَزۡوَاجِہِمۡ اَوۡ مَا مَلَکَتۡ اَیۡمَانُہُمۡ فَاِنَّہُمۡ غَیۡرُ مَلُوۡمِیۡنَ ۚ ٦ فَمَنِ ابۡتَغٰی وَرَآءَ ذٰلِکَ فَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡعٰدُوۡنَ ۚ ٧ وَالَّذِیۡنَ ہُمۡ لِاَمٰنٰتِہِمۡ وَعَہۡدِہِمۡ رٰعُوۡنَ ۙ ٨ وَالَّذِیۡنَ ہُمۡ عَلٰی صَلَوٰتِہِمۡ یُحَافِظُوۡنَ ۘ ٩ اُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡوٰرِثُوۡنَ ۙ ١۰ الَّذِیۡنَ یَرِثُوۡنَ الۡفِرۡدَوۡسَ ؕ ہُمۡ فِیۡہَا خٰلِدُوۡنَ ١١ 

নিশ্চয়ই সফলতা অর্জন করেছে মুমিনগণ। যারা তাদের নামাযে আন্তরিকভাবে বিনীত। যারা অহেতুক বিষয় থেকে বিরত থাকে। যারা জাকাত সম্পাদানকারী। যারা নিজ লজ্জাস্থান সংরক্ষণ করে। নিজেদের স্ত্রী ও তাদের মালিকানাধীন দাসীদের ছাড়া অন্য সকলের থেকে, কেননা এতে তারা নিন্দনীয় হবে না। তবে কেউ এ ছাড়া অন্য কিছু কামনা করলে তারাই হবে সীমালঙ্ঘনকারী।

এবং যারা তাদের আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে। এবং যারা নিজেদের নামাযের পরিপূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ করে। এরাই হল সেই ওয়ারিশ, যারা জান্নাতুল ফিরদাউসের মীরাস লাভ করবে। তারা তাতে সর্বদা থাকবে। (সুরা আল মুমিনুন, আয়াত : ১-১১)

এনএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ