বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬ ।। ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
বিভেদ, প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধ কোনো জাতিকে শক্তিশালী করে না: রাষ্ট্রপতি সিলেটে হাম উপসর্গে এক শিশুর মৃত্যু বরুড়ায় আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত পরিষদের উদ্যোগে সিরাত সম্মেলন ২৭ আগস্ট কলকাতায় আরও ২০০ হোটেল বন্ধের নোটিশ রুহামা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জাতীয় সীরাত কনফারেন্স আগামীকাল ‘সিরাতুন্নবীর আলোকে দেশ পরিচালনা করলেই জুলাইয়ের প্রত্যাশা পূরণ হবে’ সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার ঠেকাতে কঠোর মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর ‘মহানবীর (সা.) আদর্শে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ-রাষ্ট্র গড়ে তোলার অঙ্গীকার করি’ বিরিশিরিতে আঞ্চলিক কনফারেন্স আগমী শনিবার ‘পরিচ্ছন্নতায় গাফিলতি হলে কঠোর ব্যবস্থা, কোনো অজুহাত চলবে না’ 

নবীজির ঈদ উৎসবেও ছিল ইবাদতের শিক্ষা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুহাম্মদ মিজানুর রহমান 

মদীনায় হিজরতের দ্বিতীয় বছর থেকে শুরু হয় মুসলমানদের ঈদ উৎসব। ঈদ মুসলমানদের জন্য শুধু আনন্দের দিনই নয়, এটি কৃতজ্ঞতা, সংযম ও সামাজিক বন্ধনের এক মহান উৎসব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সা.)-এর ঈদের উদযাপন ছিল পরিমিত, ভারসাম্যপূর্ণ এবং ইবাদত-ভিত্তিক। তাঁর ঈদের উদাহরণ অনুসরণ করে আজও মুসলিম বিশ্বে ঈদের প্রকৃত অর্থ ও সৌন্দর্য রক্ষা করা সম্ভব।

ঈদের আগের প্রস্তুতি 

নবীজি (সা.) ঈদের দিন ফজরের নামাজের পর গোসল করতেন, নতুন বা পরিষ্কার কাপড় পরতেন ও সুগন্ধি ব্যবহার করতেন। আমাদের সমাজে একটা প্রথা প্রচলিত আছে ঈদের দিন নতুন কাপড় পরতেই হবে। অথচ এটা জরুরি কিছু না। কাপড়টা পরিচ্ছন্ন হলেই হলো। ঈদুল ফিতরের দিন ঈদের নামাজে যাওয়ার আগে খেজুর খাওয়া ছিল নবীজির সুন্নাত (সাধারণত বিজোড় সংখ্যা)। ঈদুল আযহার দিন পশু কোরবানির আগে কিছু না খাওয়াই তিনি পছন্দ করতেন।

ঈদের নামাজ খুতবা 

নবীজি ঈদের নামাজ খোলা জায়গায় আদায় করতেন—মদিনার ঈদগাহে। তিনি পুরুষ-মহিলা, এমনকি শিশুদেরও ঈদের নামাজে উপস্থিত হতে উৎসাহিত করতেন। নামাজের পর সংক্ষিপ্ত খুতবা দিতেন এবং মুসলমানদের তাকওয়া, দান ও পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধে উদ্বুদ্ধ করতেন।

সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়া 

নবীজি (সা.) ঈদের দিন দরিদ্র, এতিম, বঞ্চিত মানুষদের পাশে দাঁড়াতেন। তিনি বলতেন, "ঈদের আনন্দ সবার জন্য—শুধু ধনীদের জন্য নয়।" ঈদের দিনে সাহাবিদের সঙ্গে খেলা দেখা, শিশুরা আনন্দ করছে—এসব দৃশ্য তিনি উপভোগ করতেন। এমনকি তিনি আবিসিনিয়ার লোকদের ঈদ উপলক্ষে মসজিদে নাচ-গান (শালীন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান) করতে দিতেন। তা ছাড়া ঈদের দিন নবী কারিম (সা.) পরিবারের সবার সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতেন। এক ঈদের দিন তিনি আয়েশা (রা.) কে নিয়ে লাঠি খেলাও দেখতে যান।   মোট কথা বৈধ আনন্দে তিনি বাধা দিতেন না।

সৌন্দর্যের দিক 

নবীজির ঈদে ছিল না অতিরিক্ত ব্যয়, বাহুল্য কিংবা জাঁকজমক। বরং তাঁর ঈদ ছিল ধন্যবাদ, দোয়া ও পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিতে পূর্ণ। ঈদের দিন তিনি বেশি বেশি "তাকবীর" (আল্লাহু আকবর...) বলতেন এবং সাহাবিদেরও তাই করতে উৎসাহ দিতেন। 

নবীজির ঈদ ছিল আনন্দ ও ইবাদতের এক অপূর্ব মিশ্রণ। তাঁর জীবনচর্চা আমাদের শেখায়—ঈদ মানে কেবল পোশাক-খাবার নয়, বরং একে অপরকে ভালোবাসা, ক্ষমা করা এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা।

এনএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ