বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬ ।। ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
বিভেদ, প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধ কোনো জাতিকে শক্তিশালী করে না: রাষ্ট্রপতি সিলেটে হাম উপসর্গে এক শিশুর মৃত্যু বরুড়ায় আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত পরিষদের উদ্যোগে সিরাত সম্মেলন ২৭ আগস্ট কলকাতায় আরও ২০০ হোটেল বন্ধের নোটিশ রুহামা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জাতীয় সীরাত কনফারেন্স আগামীকাল ‘সিরাতুন্নবীর আলোকে দেশ পরিচালনা করলেই জুলাইয়ের প্রত্যাশা পূরণ হবে’ সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার ঠেকাতে কঠোর মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর ‘মহানবীর (সা.) আদর্শে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ-রাষ্ট্র গড়ে তোলার অঙ্গীকার করি’ বিরিশিরিতে আঞ্চলিক কনফারেন্স আগমী শনিবার ‘পরিচ্ছন্নতায় গাফিলতি হলে কঠোর ব্যবস্থা, কোনো অজুহাত চলবে না’ 

৭০ হাজার ফেরেশতা জানাজায় এলেন যে সূরার বরকতে!

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র কোরআনের প্রতিটি সূরা ও আয়াতে রয়েছে অপরিসীম ফজিলত। তবে একটি সূরা রয়েছে, যা প্রতিদিন আমল করলে তা জান্নাত লাভের উসিলা হতে পারে। এমনকি হাদিসে বর্ণিত আছে, এই সূরার বরকতে ফেরেশতারাও জানাজায় শরিক হয়েছেন।

কথা হচ্ছে সূরা ইখলাস নিয়ে। ইসলামের প্রাথমিক যুগেই একজন সাহাবীর জীবনে এর প্রমাণ পাওয়া যায়।

হযরত মুয়াবিয়া ইবনে মুয়াবিয়া আল মুজানী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু ইন্তেকাল করলে, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আগমন করেন ৭০ হাজার ফেরেশতা, সঙ্গে ছিলেন জিব্রাইল আলাইহিস সালামও। তারা সবাই নবীজির সঙ্গে তার জানাজায় শরিক হন।

নামাজ শেষ হলে নবীজী জিজ্ঞেস করেন, “হে জিব্রাইল, কোন আমলের মাধ্যমে মুয়াবিয়া এই উচ্চ মর্যাদা লাভ করল?” জবাবে জিব্রাইল (আ.) বলেন, “সে সর্বাবস্থায় দাঁড়িয়ে, বসে, হেঁটে, বাহনে সবসময় সূরা ইখলাস তেলাওয়াত করত।”

আরেক বর্ণনায় এসেছে, নবীজী পুনরায় প্রশ্ন করেন, “হে জিব্রাইল, কী এমন আমল করেছিল মুয়াবিয়া?” উত্তরে বলা হয়, “সে সূরা ইখলাসকে ভালোবাসত এবং চলতে ফিরতে, উঠতে বসতে নিয়মিত এই সূরা তেলাওয়াত করত।”

মুয়াজ ইবনে আনাস জুহানী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি সূরা ইখলাস ১০ বার পাঠ করবে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাতে একটি প্রাসাদ নির্মাণ করবেন।”

এ কথা শুনে হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বলেছিলেন, “তাহলে তো আমরা অনেক প্রাসাদের অধিকারী হয়ে যাব।” তখন নবীজী বলেন, “আল্লাহ তাআলার দান আরও প্রশস্ত, আরও উৎকৃষ্ট।”

হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহা থেকে বর্ণিত, একবার নবীজী কিছু সাহাবীকে যুদ্ধে পাঠান এবং একজনকে সেনাপতি নিযুক্ত করেন। যুদ্ধকালীন সময়ে সেই সেনাপতি প্রতিটি নামাজে সূরা ইখলাস তেলাওয়াত করতেন।

যুদ্ধ শেষে সাহাবীরা নবীজীকে এ বিষয়ে জানালে তিনি বলেন, “তোমরা তাকে জিজ্ঞেস করো কেন সে এমন করত?” জবাবে ওই সাহাবী বলেন, “এই সূরায় আল্লাহর গুণাবলী বর্ণিত আছে, আমি এ সূরাকে ভালোবাসি।”

তখন নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তোমরা তাকে বলো, আল্লাহও তাকে ভালোবাসেন।”

সূরা ইখলাসের গুরুত্ব ও ফজিলত অসীম। এটি এমন এক সূরা, যা শুধু মুখস্থ করে রাখাই নয়, বরং ভালোবেসে আমল করলেই আল্লাহর ভালোবাসা ও জান্নাতের প্রাসাদ লাভের প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়। প্রতিদিনের জীবনে এই ছোট অথচ গভীর অর্থবহ সূরাটি যেন আমাদের হৃদয়ের অংশ হয়ে ওঠে,এই হোক প্রতিটি মুসলমানের প্রার্থনা।

এনএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ