|| মুহিউদ্দীন মাআয ||
‘রোজা’(روزہ) একটি ফারসি শব্দ। অর্থ উপবাস বা বিরত থাকা। এটাকেই আরবিতে সিয়াম বা সওম বলে। শরীয়তের পরিভাষায় ‘রোজা’ বলা হয়, সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খাওয়া-পানকরা ও স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত থাকা। এ রোজা আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার প্রতি পবিত্র বিধান। রোজার মাধ্যমে মুমিনের আত্মিকগঠন, চারিত্রিক দৃঢ়তা, নৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক সাম্যের নিশ্চয়তা বৃদ্ধি পায়।
রোজা রাখার উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা, পাপ কাজ থেকে বিরত থাকা এবং নিজের কামনা-বাসনা নিয়ন্ত্রণের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পরহেজগারি বা তাকওয়া বৃদ্ধি করা।
কুরআনে বলা হয়েছে,
হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর; যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো"। (সূরা বাকারা, আয়াত ১৮৩)
আরও বলা হয়েছে,
"রমযান মাস, যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের জন্য হিদায়াতস্বরূপ এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে এ মাসটিতে উপস্থিত হবে, সে যেন তাতে সিয়াম পালন করে। আর যে অসুস্থ হবে অথবা সফরে থাকবে সে অন্যান্য দিবসে সংখ্যা পূরণ করে নেবে। আল্লাহ তোমাদের সহজ চান এবং কঠিন চান না। আর যাতে তোমরা সংখ্যা পূরণ কর এবং তিনি তোমাদেরকে যে হিদায়াত দিয়েছেন, তার জন্য আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা কর এবং যাতে তোমরা শোকর কর।”(সূরা বাকারা: ১৮৫)
উল্লিখিত ‘তাকওয়া’ শব্দটির মূল অর্থ ‘রক্ষা করা।’ এর অনুবাদ করা হয়েছে নানাভাবে। যেমন পরহেজগারি, আল্লাহর ভয়, দ্বীনদারি, সৎ কর্মশীলতা, সতর্কতা প্রভৃতি। রোজা ঢালের মতো কাজ করে, যা গোনাহের হাত থেকে বাঁচায়।
রোজার বিধান আল্লাহ তায়ালা শুধুমাত্র শেষ নবীর উম্মতের প্রতিই নয়, বরং পূর্বের নবী-রাসুলদের উম্মতের প্রতিও দিয়েছিলেন। কোরআনে রোজার বিধান সম্বলিত আয়াতে একথা স্পষ্ট হয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন—, ‘হে বিশ্বাসীগণ, তোমাদের জন্য সিয়াম (রোজা) বিধান দেওয়া à¦