মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। ১১ ফাল্গুন ১৪৩২ ।। ৭ রমজান ১৪৪৭


মাদারিসে কওমিয়ার জিম্মাদারদের প্রতি নিবেদন!

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

|| মুফতি লুৎফুর রহমান ফরায়েজী ||

 

মাদারিসে কওমিয়া। কুরআন ও সুন্নাহ থেকে বিচ্ছুরিত সহীহ দ্বীনের সত্যিকার তরজুমান। এ উপমহাদেশে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের প্রকৃত অনুসারী।

সব ধরনের বাতিলের এক মূর্তমান আতংকের নাম উলামায়ে দেওবন্দ। বয়ান, লিখনী, দালিলীক বিতর্ক সব দিক থেকেই সকল বাতিল পরাভূত উলামায়ে দেওবন্দের কৃতি সন্তানদের কাছে।

সহীহ দ্বীনকে অবিকৃত রাখতে মাদারিসে কওমিয়ার সন্তানেরা সর্বদা সচেতন ও সজাগ।

এ কারণে সব বাতিলের টার্গেট কওমী মাদরাসা। কওমী মাদরাসার ছাত্র ও ফারিগীন উলামা। নানাভাবেই নিজ দলে ঢুকাতে, নিজেদের ভ্রান্ত আকীদায় দীক্ষিত করতে অপতৎপরতা চালিয়ে যায়।

বর্তমানে ফিতনায়ে মওদূদিয়্যাত মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। কওমী মাদরাসার ছাত্রদের টার্গেট করে এ ফিতনা ছড়িয়ে দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টায় রত রয়েছে ফিরক্বায়ে মওদূদিয়্যাতের লোকেরা।

ফিরক্বায়ে মওদূদিয়্যাতসহ অন্যান্য ভ্রান্ত ফিরক্বা থেকে নিজ ছাত্রদের সচেতন করতে অধমের কয়েকটি নাক্বেছ মাশওয়ারা।

মাদরাসায় প্রতিদিন কোন এক নামাযের পর দশ পনের মিনিট আকাবিরে দেওবন্দের ঘটনাবলী সমৃদ্ধ কোন বই তালিম করা। যেমন শায়েখ জাকারিয়া রহঃ এর “আপবীতি”।

মাসে একদিন ফিরক্বায়ে বাতিলা বিষয়ক ‘মুহাদ্বারা’ এর ব্যবস্থা করা। এতে একজন উস্তাজ কোন একটি ফিরক্বা বিষয়ে দলীলসমৃদ্ধ আলোচনা করবেন। তাইসীর থেকে উপর জামাতের সমস্ত ছাত্ররা যাতে অংশগ্রহণ করবে। 

ছাত্রদের দিয়ে হক ও বাতিল বিষয়ক বিতর্ক অনুষ্ঠান আয়োজনে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা।

কারণ অনেক সময় ভ্রান্ত আকীদা বা দলের পক্ষে বিতর্কের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে বাতিলদের বই পড়তে পড়তে তাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে।

জ্ঞানের কমতির কারণে, অনেক সময় বিতর্কে জেতার অদম্য জিদের বসেও ভ্রান্ত আকীদায় ধাবিত হয়।

এক্ষেত্রে আমার অনুরোধ!

ক) ভ্রান্ত দলের পক্ষে বিতার্কিক এমন ছেলেদেরই সিলেক্ট করার চেষ্টা করা যাদের তুলনামূলক সমঝ ও সহীহ বুঝ ভালো।

খ) যারা ভ্রান্ত দলের পক্ষে বিতর্ক করবে, তাদের বিতর্কে বিজয়ী হবার জন্য এ শর্তারোপ করা যে, তারা বাতিলের পক্ষ থেকে যে দলীলগুলো প্রদান করবে, সেগুলোর দাঁতভাঙ্গা জবাব যদি বাতিল বিরোধী বিতার্কিকরা দিতে না পারে, তাহলেই তারা বিজয়ী হবে না, বরং বাতিলের পক্ষে তুলে ধরা দলীলের যথার্থ ও সমুচিত জবাব তুলে ধরতে পারলেই কেবল তারা বিজয়ী হবে।

উদাহরণত, প্রচলিত মিলাদ কিয়াম বিষয়ে বিতর্ক হলে। প্রচলিত মিলাদের পক্ষপাতি বিতার্কিকরা প্রচলিত মিলাদ প্রমাণে যে দলীল দিবেন, এর যথার্থ জবাব যদি প্রচলিত মিলাদ বিরোধী বিতার্কিকরা দিতে না পারে, তাহলেই প্রচলিত মিলাদের পক্ষপাতি গ্রুপ বিজয়ী বলে সাব্যস্ত হবে না, বরং তাদের উপস্থাপিত দলীলের ভুল ও অসারতা তুলে ধরতে পারলেই কেবল তারা বিজয়ী হিসেবে সাব্যস্ত হবেন।

গ)

বিতর্কের যে বিষয় নির্ধারণ করা হবে। সে বিষয়ে বিজ্ঞ একজন উস্তাজকে দিয়ে বিতর্ক শেষে আলোচনা করানো। যাতে করে ছাত্রদের মাঝে ভ্রান্ত দলটির গোমরাহ হবার বিষয়ে কোন প্রকার সন্দেহ ও সংশয় না থাকে।

রাব্বানা লা তুজিগ কুলূবানা বা’দা ইজ হাদাইতানা ওয়াহাবালানা মিনলা দুনকা রাহমাহ। ইন্নাকা আন্তাল ওয়াহহাব।

আল্লাহ তাআলা আমাদের হক চিনে, হকের উপর অটল থেকে আল্লাহর প্রিয়ভাজন হয়ে কবরে যাবার তৌফিক দান করুন। আমিন।

লেখক: পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনস্টিটিউট অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা

 

আইএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ