নারীর মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সচেতনতার লক্ষ্যে নবগঠিত সংগঠন "ইনসাফ ফাউন্ডেশন"–এর আত্মপ্রকাশমূলক সেমিনার বাস্তবায়নের প্রস্তুতি ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণে এক গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঢাকার উত্তরা কার্যালয়ে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন ইনসাফ ফাউন্ডেশনের সম্মানিত সাধারণ সম্পাদক ও দেশের বিশিষ্ট আলেম মাওলানা আবুল বাশার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাইতুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব ও বরেণ্য আলেম মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল মালেক।
উভয়েই ইনসাফের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
সভায় জানানো হয়, আগামী ২৩ আগস্ট শনিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ঢাকার খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে ইনসাফ ফাউন্ডেশনের আত্মপ্রকাশমূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল মালেক।
এছাড়া আরো উপস্থিত থাকবেন ইনসাফ ফাউন্ডেশনের সভাপতি মুফতি মাহমুদুল হাসান, সহ-সভাপতি মাওলানা আবদুল গাফফার এবং সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবুল বাশার।
সেমিনারের সম্ভাব্য বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৭,৫০,০০০ টাকা, যা সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতার মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে।
প্রায় ৫০০ জন অতিথি (পুরুষ ৪০০ ও নারী ১০০) আমন্ত্রিত হবেন। প্রত্যেক সদস্য নিজ উদ্যোগে ৫ জন পুরুষ ও ১-২ জন নারী অতিথিকে দাওয়াত দিতে পারবেন।
সভায় ইনসাফ ফাউন্ডেশনের দীর্ঘমেয়াদী কর্মসূচির একটি রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে—
নারীর অধিকার ও পারিবারিক জীবনবিষয়ক গণসচেতনতা সৃষ্টি,
সপ্তাহে ১-২ দিন কাউন্সেলিং, আইনি পরামর্শ ও ধর্মীয় দিকনির্দেশনা প্রদান,
বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ,
একটি হটলাইন সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা।
সংগঠনের কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মুহাম্মদপুরে একটি কার্যালয় নেওয়ার পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে।
এ উদ্দেশ্যে ৪ লক্ষ টাকা বাজেট এবং মাসিক ১ লক্ষ ৩০ হাজার থেকে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে।
সেমিনার ও স্থায়ী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইনসাফের একটি স্থায়ী তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ লক্ষ্যে সভায় উপস্থিত সদস্যদের কাছ থেকে দুটি বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়—
১. সেমিনারের বাজেট পূরণে এককালীন সহযোগিতা,
২. মাসিক বা বার্ষিক ভিত্তিতে নিয়মিত অনুদান প্রদানের অঙ্গীকার।
যারা সভায় উপস্থিত থাকতে পারেননি, তাদের সাথেও পরবর্তীতে যোগাযোগ করা হবে বলে জানিয়েছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ।
ইনসাফ ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ দেশের ধর্মীয় ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে নারীর মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এসএকে/