রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী দিল্লিতে ভবন ধসে ৩ ছাত্রের মৃত্যু, ৬ জন জীবিত উদ্ধার ‘বালিকা মাদরাসাগুলো গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন পূরণ করছে, দরকার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা’ শতবর্ষী মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়া ন্যায়বিচারের নীতির গুরুতর লঙ্ঘন: মাহমুদ মাদানী নেপালে আমিরে মজলিসকে অভ্যর্থনা এমপিওভুক্ত মাদরাসা শিক্ষকদের বদলির গুগল ফরম পূরণের নতুন সুযোগ যে মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটিতে ঠাঁই পেলেন এমপি হানজালা রাজধানীর যানজট নিরসনে ৪ টার্মিনাল দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে মুয়াজ্জিনদের দক্ষতা উন্নয়নে দ্বিতীয় দফায় আস-সুন্নাহর ১০ দিনের প্রশিক্ষণ প্যারিসে গ্যাস বিস্ফোরণে প্রাণ গেল বাংলাদেশি শিশুর  

‘বালিকা মাদরাসাগুলো গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন পূরণ করছে, দরকার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা’

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের নারী শিক্ষায় বালিকা মাদরাসাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মানোন্নয়ন, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও নারী শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন মহিলা মাদরাসার দায়িত্বশীলরা।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আফতাবনগরে মারকাযুন নাহদা আলোকায়নে ‘মহিলা মাদরাসা পরিচালনা ও ম্যানেজমেন্ট: সংকট, সম্ভাবনা ও জরুরি প্রস্তাবনা’ শীর্ষক মজলিসে বক্তারা এসব কথা বলেন। সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ মজলিসের যৌথ আয়োজন করে দ্বীনিয়াত বাংলাদেশ ও মারকাযুন নাহদা।

মজলিসে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শতাধিক মহিলা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল, প্রধান শিক্ষিকা ও পরিচালিকা অংশ নেন।

দ্বীনিয়াত বাংলাদেশের নাযেম মাওলানা আশরাফ আলম কাসেমী নদভীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মজলিসে মারকাযুন নাহদার প্রিন্সিপাল মাওলানা হাফিজ আল মুনাদি নারী শিক্ষার উদ্দেশ্য, সিলেবাসে আবশ্যকীয় মৌলিক বিষয়, নারী শিক্ষার প্রকৃতি, পদ্ধতি ও উপযুক্ত পরিবেশ নিয়ে আলোচনা করেন।

তিনি নারী শিক্ষার বর্তমান পরিস্থিতি, পাঠদান পদ্ধতি ও ব্যবস্থাপনায় সংশোধনের প্রয়োজনীয় দিকগুলো তুলে ধরেন। পাশাপাশি কারিকুলাম ও শিক্ষা সিলেবাস উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট বোর্ড ও দায়িত্বশীলদের করণীয় এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তাবনা নিয়েও প্রেজেন্টেশন দেন।

মুখ্য আলোচক হিসেবে দ্বীনিয়াত বাংলাদেশের সদর মুফতি সালমান আহমাদ আদর্শ শিক্ষকের গুণাবলি, শিক্ষার্থীদের মেধা, প্রকৃতি ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং তাদের সঙ্গে আচরণ ও পাঠদানের কার্যকর পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন। শ্রেণিকক্ষকে আকর্ষণীয় করে তুলতে বিভিন্ন কলাকৌশল এবং পাঠদানে শিশু, শিক্ষক ও আচরণগত মনোবিজ্ঞানের গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।

মুফতি সালমান আহমাদ বলেন, সমাজের প্রতিটি মানুষের কাছে দ্বীনি শিক্ষা পৌঁছে দিতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের মৌলিক দ্বীনি শিক্ষা নিশ্চিত করতে ‘দ্বীনিয়াত’-এর কার্যক্রম ও পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত আলোচনা করেন।

এ সময় দারুল উলুম দেওবন্দ, দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামাসহ বিশ্বখ্যাত বিভিন্ন দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আকাবির-আসলাফের তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা মিশন হিসেবে দ্বীনিয়াতের পরিচয় ও কার্যক্রম তুলে ধরেন তিনি। দেশের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় এক ঘণ্টার মকতব ও স্কুল মকতব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে উলামায়ে কেরামকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

মজলিসে অন্যান্য আলোচকের মধ্যে ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও মাহাদুল লুগাতিল আরাবিয়্যার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাওলানা হাবিবুর রহমান মুনীর নদভী, দাওয়াতে ইসলামী বাংলাদেশের নায়েবে আমির ও জামিয়া আয়েশা বিনতে আবু বকর মহিলা মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা জহিরুল ইসলাম সিরাজী, সাতরং মহিলা মাদরাসা মুন্সিগঞ্জের প্রিন্সিপাল মাওলানা কাজী মুস্তাফিজুর রহমান, উম্মাহাতুল মুমিনীন ভাটারা মহিলা মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মুহাম্মাদ আনোয়ারুল হক এবং জামিয়াতুল বুশরা মহিলা মাদরাসা বসিলা, মোহাম্মদপুরের প্রিন্সিপাল মাওলানা ওয়ালিউল্লাহ।

আলোচকরা বলেন, মহিলা মাদরাসা পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা, বিদ্যমান সংকট ও সম্ভাবনা নিয়ে অনুষ্ঠিত এ মজলিসের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেশের সব মহিলা মাদরাসা ও সংশ্লিষ্ট বোর্ডের দায়িত্বশীলদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। চলমান প্রেক্ষাপটে নারী শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সংশ্লিষ্টদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

তারা আরও বলেন, মহিলা মাদরাসাগুলো দেশ, জাতি ও মুসলিম সমাজের গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন পূরণ করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সুষ্ঠু পরিচালনা ও নারী শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বিদ্যমান অব্যবস্থাপনা দূর করতে দ্রুত ফলপ্রসূ উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

মজলিসে অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন দাওয়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আমির মাওলানা নাজমুদ্দিন এবং দ্বীনিয়াত বাংলাদেশের নায়েবে সদর মাওলানা নোমান আহমাদ কাসেমীসহ অনেকে।

সমাপনী অধিবেশনে মুফাক্কিরে ইসলাম সাইয়্যেদ আবুল হাসান আলী নদভী (রহ.)-এর বিশিষ্ট শাগরেদ ও মাদরাসাতুল হুদা বাসাবোর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাওলানা আবদুর রাজ্জাক কাসেমী নদভী দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা করেন। পরে তার দোয়ার মাধ্যমে দিনব্যাপী মজলিসের সমাপ্তি হয়।

এসএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ