বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬ ।। ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮


ফুটপাত দখল করে ব্যবসা নয়, নির্দেশনা না মানলে কঠোর ব্যবস্থা: ডিএসসিসি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

রাজধানীর ফুটপাত ও সড়ক দখল করে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। নির্দেশনা অমান্য করে ফুটপাত বা সড়ক দখল করে ব্যবসা করলে মামলা ও আইনানুগ ব্যবস্থাসহ কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশক নিয়ন্ত্রণ, সড়কবাতি, রাজস্ব আদায় ও ফুটপাত দখলমুক্তকরণে পরিচালিত সমন্বিত অভিযানকালে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

অভিযানে সেগুনবাগিচা ও আশপাশের এলাকায় সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। একই সঙ্গে জনসাধারণের চলাচলের জায়গা দখল করে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ দোকান ও অন্যান্য অবৈধ সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া হয় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘ফুটপাত জনগণের চলাচলের জন্য। ফুটপাত দখল করে কোনো অবৈধ দোকান পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না। একইভাবে সড়ক দখল করে কোনো হকার বসতে দেওয়া হবে না। জনসাধারণের চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশন প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

তিনি বলেন, এই অভিযান কাউকে হয়রানি করা বা শুধুমাত্র জরিমানা করার জন্য নয়। নগরের শৃঙ্খলা, জনস্বার্থ এবং নাগরিকের অধিকার রক্ষাই আমাদের মূল লক্ষ্য। যারা আইন ও সিটি করপোরেশনের নির্দেশনা অমান্য করে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে মামলা দায়েরসহ প্রচলিত আইনে সর্বোচ্চ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করা হচ্ছে জানিয়ে প্রশাসক বলেন, গত ছয় মাস ধরে তাদের সতর্ক করা হয়েছে এবং গণবিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়েছে। এরপরও যারা নির্দেশনা অমান্য করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

হকার ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তালিকা অনুযায়ী হকারদের নির্ধারিত স্থানে বসানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রায় দুই সপ্তাহ সময় লাগবে। এরপর নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য কোথাও হকারি করার সুযোগ থাকবে না।

‘হকার ব্যবস্থাপনার জন্য একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নির্ধারিত স্থানে বসার সুযোগ থাকবে, কিন্তু রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করার সুযোগ থাকবে না’ যোগ করেন তিনি।

একই সঙ্গে রিকশা ও ভাসমান মানুষের সমস্যাও ধারাবাহিকভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রশাসক।

আগামী কয়েকদিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক ও ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও জানান তিনি। এসব অভিযানে ফুটপাত ও সড়ক দখল, ট্রেড লাইসেন্সের বৈধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, অবৈধ স্থাপনা ও বিদ্যুতের অপব্যবহারসহ বিভিন্ন বিষয় যাচাই করা হবে।

অভিযানকালে প্রশাসক বিভিন্ন ফুটপাত, স্থাপনা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স পরীক্ষা করা হয় এবং ফুটপাত দখল করে স্থাপিত অবৈধ ভ্রাম্যমাণ দোকান ও অন্যান্য সামগ্রী অপসারণ ও বাজেয়াপ্ত করা হয়।

ডিএসসিসি জানিয়েছে, নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করা, যানজট কমানো, ফুটপাতের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে এ ধরনের সমন্বিত অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ