শুক্রবার, ০২ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ১৮ পৌষ ১৪৩২ ।। ১৩ রজব ১৪৪৭


ঐক্যের পথে বাধা কোথায়, কারা দায়ী, মুখ খুললেন শায়খে চরমোনাই

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

বিশেষ প্রতিনিধি

জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলনসহ আটটি ইসলামি ও সমমনা দলের মধ্যে ঐক্য প্রচেষ্টা চলে আসছে কয়েক মাস ধরেই। এই ধারাবাহিকতায় আটটি দল একসঙ্গে আসন সমঝোতার ভিত্তিতে ভোটে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তও নেয়। তবে শেষ মুহূর্তে এসে সেই ঐক্য অনেকটা হোচট খায়। আট দলের সঙ্গে নতুন করে আরও দুটি দল যুক্ত হয়। আরও এক-দুটি দল যুক্ত হওয়ার আলোচনা আছে। তবে সেই শুরুর যে ঐক্য তাতে যথেষ্ট চিড় ধরেছে। দফায় দফায় বৈঠক করেও আসন সমঝোতায় আসতে পারেনি দলগুলো। সৃষ্টি হয়েছে পারস্পরিক অবিশ্বাস ও অনাস্থার। এটার বহিঃপ্রকাশ ঘটছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

ইসলাম ও দেশের পক্ষে ‘একবাক্স’ নীতি শেষ পর্যন্ত আদৌ বাস্তবায়ন হবে কি না সেটা নিয়ে রয়েছে সংশয়। এই অবস্থায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির ও শায়খে চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম মুখোমুখি হয়েছেন আওয়ার ইসলামের। আসন সমঝোতার বিষয়টি কোথায় আটকে আছে, ঐক্যের পথে বাধা কোথায় এবং আদৌ এই ঐক্য আলোর মুখ দেখবে কি না এসব বিষয় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন ইসলামী আন্দোলনের এই শীর্ষ নেতা।

আট বা দশ দলের মধ্যে আসন সমঝোতার বিষয়টি কোথায় আটকে আছে? এ বিষয়ে জানতে চাইলে শায়খে চরমোনাই বলেন, এটি এখনো চলমান। ঐক্য ভাঙার কথা এখন পর্যন্ত কেউ বলেনি। আলোচনা চলছে। মাঝখানে মনোনয়নপত্র জমা এবং বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কারণে বিষয়টি কয়েক দিন স্থবির ছিল। এখন আবার আলোচনা চলছে।

এই ঐক্য কি আদৌ আলোর মুখ দেখবে-এমন প্রশ্নে তিনি আওয়ার ইসলামকে বলেন, যদি উভয় পক্ষের মন-মস্তিষ্ক ভালো থাকে, আন্তরিকতা থাকে, অতি বিলাসী না হয়, সবাইকে সাথে নিয়ে চলার মানসিকতা থাকে; একক সিদ্ধান্তের মানসিকতা না থাকে। একক কোনো দল আসন বণ্টনের দায়িত্ব গ্রহণ না করে, সবার উপরে যদি ছেড়ে দেয়, সম্মিলিতভাবে সেটা করার সুযোগ দিলে ঐক্য টিকবে। আর যদি কেউ হঠকারিতা করে, এককভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, অন্যকে গুরুত্ব না দেয় তাহলে ঐক্য টিকবে না।

আপনি বরিশালে এক সমাবেশে মঞ্চে বসা নেতাদের উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন- যদি কেউ মুনাফিকি না করে। এখন কি ঐক্য হুমকিতে পড়েছে সেই মুনাফিকির কারণে? জবাবে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, একক দলের কিছু মাতব্বরি আছে বলেই বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে চলে এসেছে। অস্থিরতার সৃষ্টি করছে। আমরা নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কথা বলি, আমাদের মধ্যে যদি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকত, তাহলে এসব খবর রটাতো না। এর পেছনে কিছু না কিছু কারণ তো অবশ্যই আছে। আমি মনে করি আগামীতে যেন সেটা না হয়। যদি আমরা আন্তরিক হই ঐক্য টিকিয়ে রাখার ব্যাপারে। এর জন্য সবার উদার মেজাজ হতে হবে। ছাড় দেওয়ার মেজাজ থাকতে হবে। হঠকারিতা থাকলে হবে না। আমার ভেতর কী আছে সেটা আপনার জানতে হবে, আপনার ভেতরে কী সেটা আমার জানতে হবে। আমারটা আপনি জানবেন কিন্তু আপনারটা জানাবেন না, তাহলে ঐক্য হবে না।

শেষ পর্যন্ত এই ঐক্য না হলে কওমিভিত্তিক দলগুলোর অবস্থান কী হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে শায়খে চরমোনাই বলেন- আমরা এখন পর্যন্ত একবাক্স নীতিতে অটল রয়েছি। এ ব্যাপারে আমাদের মধ্যে কোনো দ্বিমত হয়নি। আমরা কাউকে বের করে দেব বা বের হয়ে আসব, এটা আমরা বলছি না। এখন পর্যন্ত কওমিভিত্তিক দলগুলোর মধ্যে কোনো দ্বিমতও তৈরি হয়নি।

আপনারা ইসলামের পক্ষে ‘একবাক্স নীতি’ বলে আসছেন। কিন্তু এখন তো এনসিপি ও এলডিপির মতো দল এই ঐক্য প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছে। তাহলে এখন কি এটাকে ইসলামের পক্ষের বাক্স বলার সুযোগ আছে? এর জবাবে শায়খে চরমোনাই বলেন, এখানে ‘ইসলাম’ ও ‘দেশপ্রেমিক’ দুটি শব্দ আছে। আগেও বলেছি ইসলাম ও দেশের পক্ষে। আগেও আমাদের এই বক্তব্য ছিল। তবে ইসলামি দল বেশি বলে মার্কেটিং হয়েছে ইসলামের পক্ষে। এই শব্দ হলে আর কোনো প্রশ্ন থাকে না।

আমাদের মুরব্বিরা জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে নানা সময় সতর্ক করে আসছেন, এখনো সেটা করছেন কেউ কেই। আপনি নিজেও বিভিন্ন সময় জামায়াতের ব্যাপারে খোলামেলা সমালোচনা করেছেন। সেই নীতি থেকে কি আপনারা সরে গেছেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে শায়খে চরমোনাই বলেন, জামায়াত যে নীতি ও আদর্শের ওপর আছে, সেখান থেকে একচুলও নড়েনি। আমরাও আমাদের নীতি-আদর্শ থেকে একচুল নড়িনি। উভয় পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অটল আছে। মুরব্বিরা ভুল বা অসত্য বলেছেন, আমরা সেটা বলিনি। আমাদের মুরব্বিরা যা বলেছেন সেটাই ঠিক। আমরা যাদের মুরব্বি মনে করি তাদের সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ রক্ষা করে আসছি। তবে এটা কোনো জোট না, নিছক আসন সমঝোতা। 

ঐক্য প্রক্রিয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা ধরনের লেখালেখি হচ্ছে। আপনার কর্মী-অনুসারীরাও লেখালেখি করছেন। তাদের উদ্দেশে আপনার বার্তা কী? এই প্রশ্নের উত্তরে ইসলামী আন্দোলনের প্রভাবশালী এই নেতা বলেন, প্রত্যেকেই নিজের মতামত ব্যক্ত করার অধিকার রাখে। তবে সবার প্রতি অনুরোধ থাকবে, অশালীন, কটূক্তি যেন না হয়। কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য কারও দেওয়া উচিত নয়। মিথ্যার আশ্রয় যেন কেউ না নেয়। অবশ্যই মনে রাখা উচিত, আমরা মুসলমান। কেউ অসত্য, মিথ্যা, বানোয়াট কিছু বললে তার তওবা করা উচিত। সেটা আমার দলের কেউ বললেও তাকে একই কথা বলবো।

সবশেষ জানতে চাওয়া হয়, আসন সমঝোতা হবে কি না সেটার ঘোষণা কবে নাগাদ আসতে পারে। তিনি বলেন, শিগগির আসবে। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত সময় আছে। তবে আমরা এতো সময় নেব না।

এনএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ