সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ২৮ পৌষ ১৪৩২ ।। ২৩ রজব ১৪৪৭

শিরোনাম :
ইবনে শাইখুল হাদিসের সঙ্গে নাহিদ ইসলামের দুই ঘণ্টার বৈঠক জামায়াত কি ক্ষমতায় যেতে চায়? নতুন জরিপে বিএনপির কাছাকাছি জনপ্রিয়তা জামায়াতের! হাদি হত্যা: চার্জশিটের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে শুনানি বৃহস্পতিবার বিক্ষোভের পর ইরানের পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে, দাবি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মাঠছাড়া করতে পরিকল্পিত চেষ্টা চলছে: ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির নিজেদের নির্দোষ দাবি করলেন সালমান এফ রহমান-আনিসুল হক ‘মুজিব কোট তুলে রেখেছি, এবার ধানের শীষে ভোট দেব’ ৭ জেলার ২৫ মাদ্রাসার হিফজ বিভাগে পিসবের গিজার ও রুম হিটার বিতরণ জাতীয় হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফাইনাল বুধবার

দেশে করোনার সময় মাদরাসায় ভর্তি বেড়েছে: গবেষণা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: দেশে করোনা মহামারির মধ্যে দেশে প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষার্থী ভর্তির হার কমেছে। তবে এই সময়ে মাদরাসায় শিক্ষার্থী ভর্তির হার বেড়েছে।

'করোনা মহামারির কারণে স্কুল বন্ধের সময়ে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা - প্রাথমিক শিক্ষা পরিস্থিতি' শীর্ষক একটি গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ইন্সটিটিউট অব এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্টের উদ্যোগে গবেষণাটি করা হয়। এ গবেষণায় দেখা যায়- কওমি, হাফেজিয়া ও নূরানি মাদরাসায় শিক্ষার্থী ভর্তির হার বেশি ছিল।

২০২০ সালে মাদরাসায় পাঁচ বছরের শিশুদের ভর্তির হার ছিল সাড়ে আট শতাংশ। সেটি ২০২১ সালে বেড়ে হয় সাড়ে নয় শতাংশ। এ ছাড়া ছয় থেকে ১০ বছরের শিশুদের মধ্যে ২০২০ সালে মাদরাসায় ভর্তির হার ছিল ১১ শতাংশ। ২০২১ সালে তা বেড়ে হয় ১৪ দশমিক এক শতাংশ।

মাদরাসায় ভর্তি বাড়ার কারণ হিসেবে ব্র্যাক ইন্সটিটিউট অব এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্টের প্রোগ্রাম হেড সমীর রঞ্জন নাথ বলেন, কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে বাবা-মায়েদের মধ্যে সন্তানদের মাদরাসায় পড়ানোর ঝোঁক বাড়ছে। করোনা মাহামারীর সময় তা বেড়ে গেছে।

তিনি বলেন, একটি কারণ হল ঐ সময় স্কুলগুলো সব বন্ধ ছিল। এক পর্যায়ে ঐ মাদরাসাগুলো বন্ধ করা হয়। কিন্তু মাদরাসাগুলোর কর্তৃপক্ষ দাবি জানায় যে মাদরাসাগুলো খুলে দিতে হবে। সরকার সেগুলো খুলে দেয়ার অনুমতি দেয়।

"বাবা-মায়েরা হয়তো ভেবেছেন স্কুলগুলো বন্ধ, ছেলে-মেয়েরা ঘুরে বেড়াচ্ছে, তার চেয়ে মাদরাসায় গেলে যদি এক ঘণ্টার জন্য হলেও হুজুর পড়াবে। আর ধর্মশিক্ষাকে কেউ খারাপ বলে মনে করছে না বাংলাদেশে। সুতরাং বাবা-মায়েরা এটা ভেবে বাচ্চাদেরকে মাদরাসায় পাঠাতে পারেন।"

এবিষয়ে জামেয়া ইসলামী দারুল খাদেমুল ইসলামের অধ্যক্ষ মুফতি রুহুল আমীন বলেন, মাদরাসাগুলো যেহেতু আবাসিক তাই করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি কম।

তিনি বলেন, এখানে তারা কোয়ারেন্টাইনে থাকার মতই থাকতে পারে। সে কারণে এই দুই বছরে শিক্ষার্থী কমেনি। হিসেব করলে দেখা যাবে বেড়েছে।

এ গবেষণার জন্য গত বছরের জুন থেকে অক্টোবরের মধ্যে ৬১টি গ্রাম ও ৩৯টি শহর এলাকার প্রায় ১২ হাজার পরিবারের ওপর জরিপ চালানো হয়। এতে প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসার ৪,৬৮৯ জন শিক্ষার্থী এবং ৩৯৮ জন শিক্ষক অংশ নেন।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালে প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির হার ছিল ৬২ দশমিক সাত শতাংশ এবং প্রাথমিকে ৯৬ দশমিক দুই শতাংশ। ২০২১ সালে প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তা কমে হয় ৪৯ দশমিক ছয় এবং প্রাথমিকে ৯৩ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থাৎ করোনা মহামারির সময় ২০২১ সালে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী ভর্তির হার কমেছে।

ব্র্যাক ইন্সটিটিউট অব এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্টের সমীর রঞ্জন নাথ বলেন, একটা ধারণা রয়েছে যে গরীব ঘরের সন্তানেরা মাদরাসায় পড়ে। কিন্তু সেটা ঠিক না। করোনার সময় দেখা গেছে সব শ্রেণী-পেশার মানুষের সন্তানেরা মাদরাসায় পড়ছে।

সূত্র: বিবিসি।


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ