মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
৯৫ শতাংশ মুসলিমের দেশ আজারবাইজানে হিজাব নিষিদ্ধের পাঁয়তারা! ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তা, ব্যবস্থা নেবে সরকার মাওলানা নাসরুল্লাহ বদরের লাশ দ্রুত দেশে আনার দাবি জমিয়তের সাইবার আইনে সাংবাদিকদের ভয়ের কোনো কারণ নেই: আইনমন্ত্রী ‘অর্থনৈতিক সংস্কার ও সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকছে আইএমএফ’  নামাজে রাকাতসংখ্যা ভুলে গেলে করণীয় ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা হতে হবে বিজ্ঞানভিত্তিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক’ ‘সৌ‌দির পরিস্থিতি ঠিক হলে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া‌ প্রবাসীদের নিয়ে আলোচনা’ পাকিস্তানে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ৬

মুসলমান হিসেবে টুপি পরার প্রয়োজনীয়তা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

ফরহাদ খান নাঈম।।

টুপি পরিধান করার ঐতিহ্য স্বয়ং ইসলাম ধর্মের মতোই প্রাচীন। এটি ইসলামী আদি সভ্যতার একটি প্রধান অনুষঙ্গ। পৃথিবী জুড়ে পরিধেয় টুপির ধরনে বৈচিত্র্য থাকলেও প্রাচীনকাল থেকে মুসলমানদের মধ্যে টুপি পরিধান করার চর্চা অতি ব্যাপক।

সাহাবি আব্দুল্লাহ বিন উমর রা. এর বরাতে ইমাম বুখারি রহ. উল্লেখ করেছেন, ইসলামের সূচনালগ্ন থেকেই মুসলমানগণ পাঞ্জাবি (কামিজ), পায়জামা, টুপি পরিধান করতে আদিষ্ট হয়েছেন। বুখারি: পৃষ্ঠা নং ৮৬২, ভলিউম ২।

অধিকাংশ মুসলমান কোনো প্রকার উপলক্ষ ছাড়াই সর্বদা টুপি পরিধান করেন; তবে অনেকে আছেন সবসময় পরিধান না করলেও সালাত কিংবা অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানে টুপি পরিধান করেন। টুপি পরিধান করা অনেক মুসলিম দেশের জাতীয় পোশাকের অন্তর্ভুক্ত।

টুপি পরিধান করা সকল নবী আ. ও সালফে সালিহিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত। নিজেকে শেষ নবী মুহাম্মদ সা. এর অনুসারী হিসেবে পরিচয় দেওয়ার জন্যও টুপি পরা জরুরি। নবীজি সা. এর সকল সাহাবি রা. তাঁর অনুসরণার্থে সর্বদা টুপি অথবা পাগড়ি পরতেন। এসব কারণেই মুসলমানগণ টুপি পরিধান করে থাকেন।

সালাতের বাইরে সাধারণ সময়ে টুপি পরা মুস্তাহাব। আর সালাত আদায়ের সময় টুপি পরা মুস্তাহাব সুন্নাত। দেশে-বিদেশে প্রায় সকল মসজিদে আগত মুসল্লিদের জন্য অতিরিক্ত টুপি সংরক্ষিত থাকে যাতে করে কারো থেকেই এই গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাতটি বাদ না পড়ে।

তবে কোরআন-হাদিসে কোথাও টুপি পরিধান করাকে আবশ্যক করা হয়নি। তথাপি ইসলামী ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রক্ষায় টুপি পরিধান করা অতীব জরুরি।

বিনয় অবলম্বন করা ইসলামী আদর্শের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আচার-আচরণ, চলাফেরা, কাজকর্ম এবং পোশাক আশাকসহ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মুসলমানদেরকে বিনয়ী হতে বলা হয়েছে। ফরজ বিধান না হলেও বিনয় প্রকাশার্থে মুসলমানগণ টুপি পরে থাকেন। সালাত আদায়ের সময় টুপি পরিধান না করাকে অহংকার ও দম্ভের লক্ষণ মনে করা হয়।

অন্য ধর্ম থেকে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্য টুপি পরা বাঞ্ছনীয় যা তাকে তার পূর্বের ধর্ম থেকে আলাদাভাবে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করবে। কারণ টুপি পরিধান করা মুসলমানদেরই অনন্য পোশাক বৈশিষ্ট্য। কোনো ব্যক্তি সমাজে প্রচলিত সাধারণ পোশাক তথা শার্ট-প্যান্ট পরিধান করলেও শুধুমাত্র টুপি পরার কারণে তাকে মানুষ মুসলমান মনে করেন।

নবীজি সা. বিশেষ কিছু সময় ছাড়া প্রায় সবসময়ই টুপি অথবা পাগড়ি দ্বারা নিজের মাথা ঢেকে রাখতেন। তাই টুপি পরা নবী সা. এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত। তাছাড়া নিজের মুসলিম পরিচয়কে স্বকীয়তা দান করতে টুপি পরার কোনো বিকল্প নেই।

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ