রকিব মুহাম্মদ ।।
রাজধানী ঢাকার তেজগাঁও বেগুনবাড়ী জামিয়া ইসলামিয়া মাদরাসার বাস দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে চার কিশোর তালিবে ইলম। নিহতের সকলেই কিশোর। নিহতের মধ্য থেকে ময়মনসিংহের ইয়াসিন আরাফাত (১৫) ও ইলিয়াস হুসাইন শরহে বেকায়া জামাতের ছাত্র ছিল এবং ফেনি জেলার খালেদ মাহমুদ (২২) হেদায়াতুন্নাহু জামাতে ও নেত্রকোনা জেলার ইমরান হুসাইন (১৬) তাইসির জামাতে পড়তো।
প্রখ্যাত ওয়ায়েজ মুফতি মুজিবুর রহমান চাঁটগামী পরিচালিত বেগুনবাড়ী জামিয়া ইসলামিয়া মাদরাসায় দিনরাত কুরআনের হাদিসের পাঠ হয়। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ইলম অর্জনের উদ্দেশে অনেকেই এখানে পড়তে আসে।
নিহত চারজনের গ্রামের বাড়িও দেশের ভিন্ন চার জেলায়। তবে তারা সকলেই একজন খাটি মানুষ হওয়ার অভিপ্রায়ে দিন কাটাতো একই মাদরাসায়। কিন্তু একটি দুর্ঘটনায় ঝরে গেল তাজা চারটি প্রাণ। নিভে গেল চারটি আলোর প্রদীপ।
এদিকে তাদের মৃত্যুতে সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিণত হয়েছে শোকবাক্সে। কিশোর বয়সী চারটি তাজা প্রাণের শোকে কাতর গোটা আলেম সমাজ। পরিবারের সদস্যদের কান্না থামছেই না যেন! এরই মধ্যে পরিবারের সদস্যরা তাদের লাশ নিয়ে রওয়ানা হয়েছেন নিজ গ্রামে।
‘মাদরাসার পক্ষ থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাৎসরিক শিক্ষা সফরে নাটোর যায় তারা। সেখানে হালসা মাদরাসার মাহফিলে দীনি মজলিসে সময় কাটান তারা। সফর শেষে ঢাকা ফেরার পথে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাড়ে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের কাশেম মোড়ে সিরাজগঞ্জের নলকা নামক স্থানে শনিবার দিবাগত রাত ২ টায় ভয়াবহ এক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন বেগুনবাড়ী জামিয়া ইসলামিয়া মাদরাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা আব্দুল মালেক। তিনি জানান, বাস দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ২ জন এবং অপর ২ জন হাসপাতালে নেওয়ার পথে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। এছাড়াও ছাত্র-শিক্ষকসহ ৩৭ জন গুরুতরভাবে আহত হয়। বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেও জানান তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার সংবাদ ছড়িয়ে পরতেই সিরাজগঞ্জের জেলা শীর্ষ উলামায়ে কেরামসহ সাধারণ মানুষগণ হাসপাতালে ছুটে আসেন। তাদের তৎপরতায় জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। কয়েকজনকে আনা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। আহতদের রক্ত দিতে ও বিভিন্নভাবে সহায়তা করার জন্য ওলামায়ে কেরাম তৎপরতা চালাচ্ছেন।
বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম থানার ওসি সৈয়দ সহিদ আলম সকালে বলেন, ইসলামী মাহফিলে যোগদান শেষে মাদরাসা ছাত্র ও শিক্ষক বহনকারী একটি বাস নওগাঁ থেকে ঢাকার বেগুনবাড়ি যাওয়ার পথে মহাসড়কের ওই স্থানে বিপরীতমুখী একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ বাধে। এসময় ঘটনাস্থলেই দু’জন ছাত্র নিহত হন। আহত হন কম করে হলেও ১১ জন।
পুলিশ ও দমকল বাহিনীর লোকজন খবর পেয়ে আহতদের উদ্ধার করেন। তাদের সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যার বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন মারা যান।
আজ সকালে হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. ফরিদুল ইসলাম জানান, ওয়ার্ড ও মর্গে ৩ জনের লাশ রয়েছে। গুরুতর কয়েকজনকে ঢাকায় রেফার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পরপরই উভয় যানবাহনের চালক-হেলপার পালিয়েছে।
এ ঘটনায় শোক জানিয়ে মাদরাসার মুহতামিম মুফতি মুজিবুর রহমান চাঁটগামী বলেন, এরকম হৃদয়বিদারক এক ঘটনার সম্মুখিন হব তা কখনোই ভাবিনি আমি। আমার ছাত্রদের জন্য অন্তরটা ফেটে যাচ্ছে।
নিহতদের জানাজার ব্যাপারে চানতে চাইলে তিনি বলেন, যদিও আমরা চেয়েছিলাম মাদরাসায় এনে সকলের জানাজা সম্পন্ন করতে কিন্তু পরিবারের সদস্যদের আর্জিতে তাদের লাশ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানেই তাদের জানাজা ও দাফন সমন্ন হবে।
আরএম/