রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ৪ মাঘ ১৪৩২ ।। ২৯ রজব ১৪৪৭

শিরোনাম :
বিএনপি জোটে যাচ্ছে ইসলামী আন্দোলন! যা বললেন জাহেদ-উর রহমান ওমরাহ পালনে ইচ্ছুকদের জন্য দুঃসংবাদ নির্বাচনের আগে পাঞ্জাবি-টুপি পরে ইরি ক্ষেতে নামার ভণ্ডামি মানুষ বুঝে : হাসনাত আবদুল্লাহ  জামায়াত আমিরের সঙ্গে সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের বেঠক গাজায় ‘শান্তি পর্ষদে’ দুই নেতাকে পাশে চান ট্রাম্প নোয়াখালীতে প্রকাশ্যে যুবককে পিটিয়ে হত্যার পর মিষ্টি বিতরণ মালদ্বীপ প্রবাসীদের জন্য সুখবর: আসছে ই-ভিসা ও অ্যাপ আল-আজহারে ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালিত হলো পবিত্র ইসরাআ ও মেরাজ নোয়াখালীতে পিকআপ–অটোরিকশা সংঘর্ষে শিশু নিহত, আহত ৩ ভিডিও গেম বিক্রির টাকা কি হালাল!

দিল্লি সহিংসতা: আন্তর্জাতিক মিডিয়া যেভাবে দেখছে!

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

ওমর আলফারুক।।

দিল্লিসহ ভারতের বিভিন্ন জায়গায় মুসলমানদের উপর বর্বর হামলা এখন আন্তর্জাতিক মিডিয়ার অন্যতম প্রধান গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। এখন পর্যন্ত এই হামলায় কমপক্ষে চল্লিশ জনেরও বেশি নিহত হয়েছেন।

‘শান্তি-সাম্যই আমাদের মূলকথা’ শিরোনামে কয়েকদিন আগে দেওয়া মোদির  টুইট সত্ত্বেও এই সহিংসতার জন্য আন্তর্জাতিক মিডিয়া সরাসরি মোদির হার্ডলাইন পলিটিক্সকেই দায়ী করছে। বিশেষভাবে দায়ী করা হচ্ছে নাগরিকত্ব সংশোধন বিলকে (সিএএ)।

‘মোদিই এই আগুন জালিয়েছেন’ দ্য গার্ডিয়ান সম্পাদকীয়তে এই শিরোনাম করে। দ্য কালেজ টাইমস তাদের সম্পাদকীয়তে লিখেছে,‘রাজনীতিবীদরাই দাঙ্গার আগুন জ্বালিয়েছেন’। লন্ডন থেকে প্রকাশিত দ্য টাইমসও গুজরাত এবং গণহত্যার কথা উল্লেখ্য পূর্বক মোদির নীরবতার কথা উল্লেখ করে প্রায় একইরকম শিরোনাম করে।

জার্মান ভিত্তিক নিউজ ম্যাগাজিন ‘ডের সেইজেল’ (Der Speigel) আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল ট্রাম্পের সফরে তাদের থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে ঘটে যাওয়া এই জগন্য দাঙ্গা নিঃসন্দেহে বিশ্ব জুড়ে ভারতীয়দের বদনামের কারণ হবে বলে উল্লেখ করে পত্রিকাটি ‘বাইরে লোক দেখানো এবং দমননীতি’ শিরোনাম করে।

মোদির কট্টর হিন্দুত্ববাদী ভারতে স্যাকুলারিজমকে একটি টোল মাত্র উল্লেখ্য করে ওয়াশিংটন পোষ্ট শিরোনাম করেছে, ‘ ভারতের ছাত্ররা রাগান্বিত এবং মুসলমানেরা চিন্তিত কেন’?

গল্ফ নিউজ তাদের অপিনিয়ন বিভাগে লিখেছে, ‘এই হামলায় ৮৫ বছর বয়স্ক আকবরি নামের এক বৃদ্ধ নিজ গৃহে উগ্র হিন্দুদের দেওয়া আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যান। যার বয়স হয়তো খোদ ভারত থেকেও বেশি। দাদীর বয়সী একজন বৃদ্ধাকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার শিক্ষা দেয় কোন সভ্যতা’?

নিউ ইয়র্ক টাইমস ‘দিল্লি সহিংসতার মূল: একটি অগ্নিগর্ভা বক্তব্য এবং একটি আল্টিমেটাম’ শিরোনামে লিখেছে, ‘ভারতের হিন্দুসহ সকল মানুষ বিশ্বাস করে কাপিল মিশরা এবং তার উগ্র হিন্দু সহযোগীরা অস্রহাতে খুবই বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এবং সরকারও তাদের এসব অপরাধের জন্য কোন শাস্তি দিচ্ছে না। যেন মুসলমানদের হত্যা কোন অপরাধই না। এভাবেই চলতে থাকলে খুব শিগগির উগ্রবাদী হিন্দুরা কন্ট্রোলের বাইরে চলে যাবে ’।

নিউ ইউর্ক টাইমসে অন্য একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘এই হামলায় পুলিশ কেবল দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। পলিশের চোখের সামনে সাধারণ মানুষকে অবর্ণনীয় নির্যাতিত হতে দেখেও পুলিশ নীরব থেকেছে। বরং মুসলমানদের উপর অত্যাচারের সহযোগী হয়েছে পুলিশ।

প্রায় সকল পত্রিকা যে কথাটি সমান গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেছে, তা হলো, আন্তর্জাতকভাবে বহু ভাষা, বিশ্বাস এবং ধর্মেরে দেশ হিসাবে ভারতের যে আলাদা একটা ইমেজ ছিলো মুসলমানদের উপর স্মরণকালের ন্যাক্কারজনক এই হামলা মধ্য দিয়ে তা একেবারেই ধূলিস্যাৎ হয়ে গেছে।

-ডন ডট কম থেকে ওমর আলফারুকের অনুবাদ…


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ