শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ ।। ২৮ চৈত্র ১৪৩২ ।। ২৩ শাওয়াল ১৪৪৭

শিরোনাম :
অবশেষে ইসলামাবাদে আলোচনার টেবিলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ‘অন্যায়-দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিলে পার্লামেন্টে মারামারি শুরু হবে’ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা অধিবেশন অনুষ্ঠিত হামলায় বিকৃত হয়ে গেছে মোজতবা খামেনির মুখমণ্ডল! হাজিদের সেবায় সুনাম কুড়াচ্ছে আল-মিনহাজ হজ ট্রাভেলস পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমরা আবেগ নয়, বাস্তবতাকে প্রাধান্য দিন ১৯৭৯ সালের পর ওয়াশিংটন-তেহরানের প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আজ, কী হতে চলেছে ইসলামাবাদে? বায়তুল মোকাররম এলাকায় হকার-ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষ পরীক্ষার সময় সিসি ক্যামেরা চালু রাখতে হবে, কোনো অজুহাতে অফ রাখলে ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২৭ শিশু ভর্তি

ওয়াকফের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তায় ইসলাম

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুফতি আবদুল্লাহ তামিম।।

আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীন পূর্ণাঙ্গ করলাম, তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম, ইসলামকে তোমাদের দীন হিসেবে মনোনীত করলাম। সুরা মায়েদার তিন নম্বর আয়াতে আল্লাহর এ ঘোষণায় বুঝা যায় ইসলাম সার্বজনীন পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। কুরআনের অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘কুরআনে কোনো কিছুকেই অবজ্ঞা করা হয়নি।’ সূরা আনআম-৩৮। জাতির আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মৌলিক বিষয় হিসেবে ইসলামের একটি বিধান যার নাম ওয়াকফ।

ইসলামের ইতিহাসে প্রথম ওয়াকফর উদাহরণ হচ্ছে মসজিদে কোবা। ৬২২ সালে মদীনা মনোয়ারায় নির্মিত হয়। তারও ছয় মাস পর ইসলামি ওয়াকফর দ্বিতীয় উদাহরণ মদিনার কেন্দ্রে মসজিদে নববি। রাসুল সা. এর সময় থেকে শুরু করে খোলাফায়ে রাশেদিনের আমলে অনেক ওয়াকফ কার্যক্রম চালু হয়।

ওয়াকফর অর্থ ও সংজ্ঞা
‘ওয়াকফ’ আরবি শব্দ। এর শাব্দিক অর্থ স্থগিত করা, আবদ্ধ করা, স্থির রাখা, নিবৃত্ত রাখা। ওয়াকফ ইসলামি শরিয়তের একটি বিশেষ পরিভাষা। কোনো সম্পত্তি এর মালিক নিজের মালিকানা থেকে মুক্ত করে আল্লাহর সম্পত্তি ঘোষণা করে আল্লাহর উদ্দেশ্যে জনকল্যাণ বা জনসেবার জন্য উৎসর্গ করলে সেই উৎসর্গ করার কাজটিকে ওয়াকফ বলা হয়।

ওয়াকফর ভিত্তি
কুরআন ও হাদিসে ওয়াকফ বিষয়ে সরাসরি কোনো দিক-নির্দেশনা না থাকলেও এই দুটি উৎসেই এ বিষয়ে যথেষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে। যাতে মুসলমানদের সম্পত্তি ওয়াকফ করার জন্য উৎসাহ দেয়া হয়েছে। আল্লাহ বলেন, নাসাজ আদায় কর ও আল্লাহকে উত্তম ঋণ দাও। তোমরা তোমাদের নিজেদের মঙ্গলের জন্য ভালো যা কিছু অগ্রিম প্রেরণ করবে তোমরা তা পাবে আল্লাহর নিকট। উহা উৎকৃষ্টতর এবং পুরস্কার হিসেবে মহত্তর।’ (সূরা মুজ্জাম্মিল-২০)

ইসলামে অর্থব্যবস্থাপনার দুটি অতি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হচ্ছে যাকাত ও ওয়াকফ। এই দুটি বিধান মুসলিম উম্মাহর অর্থনৈতিক শক্তি বৃদ্ধির জন্য খুবই জরুরি। এ বিষয়ে ঈমানদারগণকে উদ্বুদ্ধ করে তাই কুরআনে বলা হয়েছে, ‘হে মুমিমনগণ! তোমরা যা উপার্জন কর এবং আমি যা ভূমি হতে তোমাদের জন্য উৎপাদন করে দেই তা থেকে যা উৎকৃষ্ট তা ব্যয় কর।’(বাকারা-২৬৭)

ওয়াকফর গুরুত্ব
রাসুল সা. এর বিভিন্ন হাদিসে মানবতার প্রতি সাহায্য ও দান করার যে উৎসাহ দেয়া হয়েছে, সেখানে ওয়াকফকেও গুরুত্ব দেয়ার ইঙ্গিত রয়েছে। মহানবী সা. তার এক হাদীসে বলেছেন, মানুষ যখন মারা যায়, তখন সাথে সাথে তার আমল বন্ধ হয়ে যায়। তবে তিনটি বিষয় ছাড়া। সাদকায়ে জারিয়াহ, এমন প্রয়োজনীয় জ্ঞান যা থেকে মানুষ জানতে পারবে ও উপকৃত হবে, এমন নেক সন্তান যে তার মৃত পিতামাতার জন্য দোয়া করবে। এসব ভালো কাজের ফলাফলের শেষ নেই ও তা অব্যাহতভাবে চলতে থাকবে। আর ওয়াকফ হলো তার একটি।

মুসলিম সমাজে বর্তমানে ওয়াকফর ধারণা তেমন পরিচিত নয়। মানুষ এ বিষয়ে কোনো ধারনাই রাখতে চায় না। তবে আমাদের চেষ্টা ছাড়া আর কী বা করার আছে। দেশে ওয়াকফ এর প্রতি মানুষকে উৎসাহ দেয়া ও তার সওয়াবের বিষয়ে আলাপ করা আবশ্যক।

লেখক: ডিপুটি এডিটর, আওয়ার ইসলাম

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ