জাবির মাহমুদ ।।
মুলতানে জন্মগ্রহণকারী আফগান বাদশাহর সাথে সিন্ধু প্রদেশের একটা বিশেষ সম্পর্ক আছে। আফগানীদের আবদাল গোত্রের সর্দার ও আফগানিস্তানে আবদালি রাজত্বের প্রতিষ্ঠাতা, আহমাদ শাহ আবদালির পাকিস্তানের শহর মুলতানের সাথে একটা বিশেষ সম্পর্ক ছিলো।
তার জন্মপূর্বকালে এক আফগান সৈনিক একটি সশস্ত্র সৌন্যদলের সাথে আফগানিস্তান থেকে মুলতান এসেছিলেন। তিনি মুলতানে অবস্থানকালে এখানকার এক রমনীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। আহমাদ শাহ আবদালি ওই রমনীর গর্ভ থেকে মুলতানেই জন্মগ্রহণ করেন। সেই প্রেক্ষাপটেই "মুলতান" আহমাদ শাহ আবদালির জন্মভূন্মি ও মাতুলালয় হিসেবে নানীবাড়ির মর্যাদা রাখতো।
খাঁন জামানের আফগানিস্তান প্রত্যাবর্তনের পর আহমাদ শাহ আবদালিও যুবক হয়ে আফগান সেনাবাহিনীতে ভর্তি হন। ক্রমন্নতি করে আফগান বাদশাহ নাদের শাহের বাহিনীর কমান্ডার বনে যান। নাদের শাহের নিহত হবার পর আফগান বুদ্ধিজীবীদের মাঝে বৈঠক হয়।
সেখানে আহমাদ শাহ আবদালিকে নতুন স্থিতিস্থাপক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। বৈঠকটি শের লাল বাবার মাজারে সংঘটিত হয়েছিলো। তৎক্ষনাত সাবের শাহ মালাঙ্গ গন্দমের একটি খোসা ভেঙ্গে তার মাথায় মুকুটের স্থলে পরিয়ে দিলে, আহমাদ শাহ আবদালিকে বাদশাহরূপে সাদরে গ্রহণ করে নেয়া হয়।
আহমাদ শাহ আবদালির শাসনামলে আফগান রাজত্ব আটাক থেকে কাবুল, কোয়েটা, মস্তুং, কলাত, সিবি, জ্যাকববাদ, শিকারপুর, সিন্ধু, পিশিন, লোরলাই এবং পাঞ্জাবের এলাকা পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত ছিলো। এ বিষয়টা স্বতঃসিদ্ধ যে, আহমাদ শাহ আবদালির সিন্ধু প্রদেশের সাথে একটা বিশেষ সম্পর্ক ছিলো। এবং সিন্ধুর শাসকও তার অনুগত ছিলেন।
১১৬০ হিজরীতে আহমাদ শাহ আবদালি যখন আফগানিস্তানের রাজত্ব সামাল দেন, তখন নূর মুহাম্মদ কালহুড়া ছিলেন সিন্ধুর ক্ষমতাসীন। ১১৬১ হিজরীতে আহমাদ শাহ আবদালি হিন্দুস্তান পৌঁছেন। ওই সময় তিনি মিঁয়া নূর মুহাম্মদ কালহুড়াকে "শাহ নাওয়াজ খাঁন" এর উপাধি দেন। এবং তাকে দিকনির্দেশনা দেন যে, তিনি নাদের শাহকে দিতে থাকা বাৎসরিক ট্যাক্স একই ধারাবাহিকতায়ই যেনো কান্দাহারে পৌঁছাতে থাকেন।

নূর মুহাম্মদ কালহুড়া তাকে ট্যাক্স আদায়ে কোনোরূপ বিলম্ব করা হবে না বলে আশ্বস্ত করেন। এ-ও বলেন যে, তিনি তাকে এই ধরাবাহিকতায় কোনো অভিযোগের সুযোগই à