সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ।। ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৮ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
বন্যার্তদের পাশে ইসলামী আন্দোলন, চলছে ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতা দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষার নিবন্ধনে একগুচ্ছ জরুরি নির্দেশনা মুহুরী নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে, আতঙ্কে তীরবর্তী মানুষ  বন্যাকবলিত ১১ জেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল পাঁচ বছরে মদিনা জিয়ারত করলেন সাড়ে ১২ কোটি ওমরাহ যাত্রী বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে চট্টগ্রামে গেলেন আমিরে মজলিস ইসলামাবাদে শীর্ষ আলেমদের সম্মেলনে মুসলিম ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ২০ জুলাই মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালনের নির্দেশ শিশুদের মতো আদর-যত্নে গাছের পরিচর্যার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর 

রোজাবস্থায় স্বপ্নদোষ হলে রোজা ভাঙবে কি?

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুফতি মোস্তফা ওয়াদুদ কাসেমী: ভার্সিটির ছাত্র মুরাদ। বয়স ১৮ । সুঠামদেহের লম্বা বালক। ওকে দেখলে কেউ বলবে না ওর বয়স ১৮। বরং ২৫ বছরের টগবগে যুবকের মতো দেখা যায়।

এখন রমজান চলছে। মুরাদ সবগুলো রোজা রাখছে। কিন্তু ওর বন্ধুদের কাছে ওর স্বপ্নদোষের কথা বললে ওরা বলে যে, মুরাদ তোর রোজা হবে না।মুরাদ চিন্তায় পড়ে যায়। তাহলে কি এতদিনের রোজা বিফলে গেলো? এদিকে ওর স্বপ্নদোষও বন্ধ হচ্ছে না। তাই সঠিক মাসআলা জানতে মুরাদ স্মরণাপন্ন হয়েছে মুফতি সাহেবের কাছে।

পূর্ণ ঘটনা বর্ণনা করে প্রশ্ন করেছে মুরাদ। রমজানে দিনের বেলা স্বপ্নদোষ হলে রোজা ভাঙবে কি? আমার এতদিনের রোজা কি সঠিক হয়েছে? দলিলসহ জানালে উপকৃত হবো।

উক্ত মাসআলার উত্তর হলো, না। স্বপ্নদোষের কারণে রোজা ভাঙবে না। সুতরাং আপনার রোজা সঠিক হয়েছে। আপনার বন্ধুদের কথা সঠিক হয়নি। মোটকথা রমজান মাসে দিনের বেলা ঘুমানোর পর যে স্বপ্নদোষ হয়। তাতে রোজা ভাঙবে না।

কেননা হাদিসে আছে, আবু সাঈদ খুদরী রা. বলেন, নবি করিম সা. বলেছেন, তিনটি জিনিস রোজা ভঙ্গের কারণ নয় । যথা- বমি, শিঙ্গা লাগানো ও স্বপ্নদোষ। (সুনানে নাসাঈ, বাইহাকী ৪/২৬৪; আদ্দুররুল মুখতার ২/৩৯৬)

তবে এ স্বপ্নদোষ স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে না হতে হবে। এমনিভাবে যদি কোনো ব্যক্তির চিন্তায় আচমকা কোনো যৌন ভাবনা এসে উদয় হয় বা কোনো যৌন উত্তেজক চিন্তা চলে আসে যা সে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মাথায় আনেনি। আর এতে তার বীর্যপাত ঘটে যায় তাহলেও তার রোজা ভাঙবে না। এক্ষেত্রে হুকুম হলো, স্বপ্নদোষ হয়েছে এমনটা বোঝা মাত্রই ফরয গোসল করে নিজেকে পবিত্র করে নিতে হবে।

আর বমির ব্যাপারে হাদিসে আছে, যে ব্যক্তি অনিচ্ছায় বমি করল তার রোজা ভাঙবে না। পরে তাকে রোজাটি কাযাও করতে হবেনা। কিন্তু যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় বমি করল তার রোজা অবশ্যই কাযা করতে হবে। (সুনানে আবূ দাউদ- ২৩৮০)

এ সংক্রান্ত আরেকটি মাসআলা হলো, হস্তমৈথুন। কেউ যদি হস্তমৈথুন বা অন্য কোনোভাবে স্বেচ্ছায় বীর্যপাত ঘটায় তাহলে তার রোজা ভেঙে যাবে। এবং তাকে রোজার কাযা কাফফারা উভয়টি আদায় করতে হবে।

এমডব্লিউ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ