সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ।। ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৮ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ২০ জুলাই মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালনের নির্দেশ শিশুদের মতো আদর-যত্নে গাছের পরিচর্যার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর  কুমিল্লা জেলার দ্বীনিয়াত মুআল্লিম জোড় সম্পন্ন কেন্দ্রীয় নূরানী তালীমুল কুরআন মাদরাসার উস্তাদ আব্দুল জলিলের ইন্তেকাল ইউরোপে তীব্র তাপপ্রবাহে এক সপ্তাহে ১০ হাজার মৃত্যু বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা নিয়ে পাশে থাকার আহ্বান জাতীয় ইমাম পরিষদের ‘বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা ছিল দেশের স্বার্থে, পদ-পদবি পাওয়ার জন্য নয়’ সন্ধ্যার মধ্যে ১৯ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা  মুসলিম আন্দালুসের কৃষি বিপ্লব: স্বর্ণযুগের গৌরবগাথা

ফেসবুকে কোরবানির ছবির বিপক্ষে কলকাতার দুই ইমাম

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: ঈদের দিন পশু জবাই করার ছবি ফেসবুকে বা সামাজিক মাধ্যমে না দেয়ার আবেদন জানিয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দুই নেতৃস্থানীয় ইমাম। কলকাতার বিখ্যাত দুই মসজিদ - 'নাখোদা' আর 'টিপু সুলতান'-এর প্রধান ইমামদের এই আবেদনে সমর্থন জানিয়েছেন অন্য গুরুত্বপূর্ণ ইমামরাও।

গত কয়েক বছর ধরেই কোরবানির ঈদের দিন পশু জবাইয়ের ছবি ফেসবুক-টুইটারের মতো সামাজিক মাধ্যমে দিয়ে দেওয়া একটা নতুন চল হয়েছে।

এ নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে বিতর্কও কম হয়নি। অনেকেই এরকম ছবি ফেসবুক-টুইটারে আদৌ শেয়ার করা উচিৎ কীনা, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

এবার কলকাতার দুই গুরুত্বপূর্ণ ইমাম পশ্চিমবঙ্গের মুসলমান সমাজের কাছে সেই আবেদনই জানিয়েছেন।

নাখোদা মসজিদের ইমাম মুহম্মদ শফিক কাজমি বিবিসি বাংলাকে জানাচ্ছিলেন, "অনেকেই আজকাল কোরবানির ছবি ফেসবুক বা হোয়াটস্অ্যাপে দিয়ে দিচ্ছেন। যদি কোনও হিন্দু ভাই সেটা দেখেন, তাঁর বিশ্বাসে আঘাত লাগতে পারে। সেজন্যই আমি বারণ করেছি যাতে কেউ পশু জবাইয়ের ছবি ফেসবুকে না দেয়। পর্দা ঘেরায় জায়গায় নিজেদের মতো করে কোরবানি দেওয়াই উচিত, সকলের সামনে যেন না করা হয় - আমি এই আবেদনই জানিয়েছি।"

কলকাতার রেড রোডে রাজ্যের সব থেকে বড় ঈদের জামাত হয় প্রতিবছর। সেই নামাজ পরিচালনা করেন ফজলুর রহমান। তিনি বলছিলেন কেন ঈদের পশু জবাইয়ের ছবি সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া অনুচিত।

"কোরবানি তো মানুষ নিজের জায়গায় করবে, সেই ছবি হোয়াটস্অ্যাপে কেন দেবে কেউ? যারা পছন্দ করে, তারাও দেখবে আর যাদের জবাই অপছন্দ, তারাও তো দেখবে ওই ছবি! হিন্দু বা যারা নিরামিশাষী - এঁদের মনে তো আঘাত লাগবে জবাইয়ের ছবি দেখে! এমন কিছু করাই ইসলামে নিষেধ, যাতে কারও মনে আঘাত লাগে। তাই জবাইয়ের ছবি এভাবে দেওয়াটা ঠিক না," বলছিলেন ফজলুর রহমান।

কোরবানির পশু জবাইয়ের ছবি বিবাদেরও জন্ম দিতে পারে বলে মন্তব্য মি. রহমানের।

নাখোদা মসজিদ, কোলকাতা

অন্য ধর্মের বিশ্বাসীদের কাছে অথবা নিরামিশাষী মানুষদের কাছে যেমন পশু জবাইয়ের ছবি দেখলে খারাপ লাগতে পারে, তেমনই শিশুদের মনেও ওই ছবি প্রভাব ফেলতে পারে, তারা ভয় পেতে পারে বলে মনে করেন পশ্চিমবঙ্গের এই দুই গুরুত্বপূর্ণ ইমাম।

রাজ্যের সব ইমামদের কাছে ইতিমধ্যেই আবেদন জানানো হয়েছে যাতে তাঁরা এই বিষয়টি বিশেষভাবে প্রচার করেন।

এছাড়াও ঘেরা জায়গায় পশু জবাই করা এবং বর্জ্য একটি নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার কথাও মুসলমানদের বারে বারে মনে করিয়ে দিচ্ছেন এই গুরুত্বপূর্ণ ইমামরা।

সূত্র: বিবিসি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ