সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ।। ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৮ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
কালীগঞ্জে ট্রেনে কাটা পড়ে যুবকের দুই পা বিচ্ছিন্ন কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে আমিরাত-কুয়েতে চার দিনের রাষ্ট্রীয় শোক মাদরাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মানহানিকর অভিযোগ, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী চট্টগ্রাম ছাড়া সব বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষা নির্ধারিত সময়েই আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামি চিন্তাবিদ আল্লামা সাজ্জাদ নোমানী ঢাকায় ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের ইন্তেকালে ইসলামি দলগুলোর শোক চট্টগ্রামের বন্যায় ঘরহারা ৩০০ পরিবারকে ঘর করে দেবে আস-সুন্নাহ জোট মানে নীরব সমর্থন নয়, সরকার ভুল করলে প্রতিবাদ করব: জমিয়ত মহাসচিব দাওরায়ে হাদিসের ‘তাকরির’ বিষয়ে আল-হাইআতুল উলয়ার জরুরি নির্দেশনা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় রংপুরের খতমে নবুওয়ত সম্মেলন স্থগিত

পুষ্টিকর খাবার খেয়েও কেন স্বাস্থ্য বাড়ে না?

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আতহার তানিম

আমাদের অনেকের শরীর চিকন, হাত-পা ছোট ছোট। যতই খাই এতে কোন পবির্তন তো দূরে থাক, কোন প্রভাবও পড়ে না। 

আবার আমাদের দাদি-নানিরা বলেন “বিয়ের পর সব ঠিক হয়া যাইব”, সত্যি সত্যি হয়ও। কী এর কারণ? এ ব্যাপারে কী বলছে বিশেষজ্ঞগণ? 

শরীরের গাঠনিক প্রকার

আল্লাহ তায়ালা আমাদের শরীর তিনটি “বডি টাইপে” সৃষ্টি করেছেন: 

টাইপ ১. “এন্ডোমরফ্‌”। যেই শরীর সহজেই মোটা হয়ে যায়। ওজন কমানো বা শরীরের পেশী বাড়ানো কঠিন, তাকে “এন্ডোমরফ্‌” টাইপ বলে। এর সুবিধা হলো, তারা ব্যায়াম করলে অনেক শক্তির অধিকারী হয়।

টাইপ ২. “মেসোমরফ্‌”। যে শরীর সহজে মোটা হয় না কিন্তু পর্যাপ্ত মাংসপেশি থাকে।  যার কারণে স্বাস্থ্যসচেতন হলে অল্পতেই পেশীবহুল শক্তিশালী ও এন্ডুরেন্সের (ভারি কাজ দীর্ঘ সময় করার ক্ষমতা) অধিকারী হয়।

টাইপ ৩. এক্টোমরফ্‌। যাদের শরীরে মেদ জমে না এবং মাংসপেশির ঘনত্বও কম। দেখতে চিকন ও পাতলা দেখা যায়। এই ধরণের শরীরের মানুষ হাই এন্ডুরেন্সের (ভারি কাজ দীর্ঘ সময় করার ক্ষমতা) অধিকারী হয়। এই দেহের অধিকারীরা সাধারণত বেশি খেলেও মোটা হয় না। শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাকীয় প্রক্রিয়া ফাস্ট হওয়ার কারণে চর্বি জমে না, কিন্তু খারাপ খাবার-দাবার বেশি খেলে রক্তে সুগার বেড়ে যায়। যার কারণে সৃষ্টি হয় মরণব্যাধি সব রোগ।

এই তিন ধরনের দেহের অধিকারীদের জন্য রয়েছে আলাদা খাবার ও ব্যায়ামের পদ্ধতি।

অতিরিক্ত চিকন দেহের অধিকারীরা জিমে ভারোত্তলোন ব্যায়াম করলে তাদের পেশী ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। একই সাথে পর্যাপ্ত প্রোটিন (আমিষ) ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং কার্ব (চাল,আটা,গম,ভুট্টা) খেতে হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে “skinny fat transformation” খুজলেই অসংখ্য মানুষের এই সমাধানের গল্প পাওয়া যাবে, যারা নিয়মিত ব্যয়ামের মাধ্যমে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী ও শক্তিশালি দেহ অর্জন করেছেন। 

বিয়ের পর কেন শরীর মোটা হয়?
 
সারা জীবন একদম চিকন ও এক্টোমরফ হয়েও বিয়ের পর হঠাৎ দেহ ফুলে ওঠে। পেশীর সাথে মেদও বাড়ে বহু গুণ, আর আমাদের দাদি-নানিদের মুখে ফোটে হাসি! কিন্তু কেন? 

মূলত বিয়ের পর বড় কিছু অভ্যাস ও অবস্থার পরিবর্তনের কারণেই এই পরিবর্তন ঘটে। মোটা দাগে সেগুলো হলো-

১.খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন: আত্মীয়-স্বজন ও নিজ বাড়িতে উন্নত ও তেল-চর্বিযুক্ত খাবারের আধিক্য। 

২. মানসিক প্রশান্তি

৩.হরমোনাল পরিবর্তন
বিয়ের পর একাধিক কারণে টেস্টোস্টেরনসহ বিভিন্ন হরমোনগত পরিবর্তনের কারণে শরীর মোটা হতে শুরু করে।

৪. শরীরের মেটাবলিজমের পরিবর্তন।
খাদ্যাভ্যাস ও জীবন-যাপনের পরিবর্তনের কারণে শরীরের শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন ঘটে। যা শরীরে মেদ জমাতে শুরু করে।

মোটা হওয়া কি ভালো?
মাংসপেশির কারণে হোক বা অতিরিক্ত মেদের কারণে কোনটাই স্বাভাবিক জীবন যাপনে সহায়ক নয়। বডিবিল্ডার প্রতিযোগীরা শুধু সাময়িক সময়ের জন্য ইনজেকশন দিয়ে পেশিবহুল দানবীয় শরীর বানায়। কিন্তু প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার ঠিক পরই একটি স্বাভাবিক স্বাস্থ্যে ফিরে আসার জন্য থেরাপি নিতে থাকে। সুতরাং খাবার,ব্যয়াম ও বিশ্রামের সমন্বয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপনে অভ্যস্ত হওয়াই উচিত।

এমএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ