সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ।। ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৮ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
কালীগঞ্জে ট্রেনে কাটা পড়ে যুবকের দুই পা বিচ্ছিন্ন কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে আমিরাত-কুয়েতে চার দিনের রাষ্ট্রীয় শোক মাদরাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মানহানিকর অভিযোগ, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী চট্টগ্রাম ছাড়া সব বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষা নির্ধারিত সময়েই আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামি চিন্তাবিদ আল্লামা সাজ্জাদ নোমানী ঢাকায় ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের ইন্তেকালে ইসলামি দলগুলোর শোক চট্টগ্রামের বন্যায় ঘরহারা ৩০০ পরিবারকে ঘর করে দেবে আস-সুন্নাহ জোট মানে নীরব সমর্থন নয়, সরকার ভুল করলে প্রতিবাদ করব: জমিয়ত মহাসচিব দাওরায়ে হাদিসের ‘তাকরির’ বিষয়ে আল-হাইআতুল উলয়ার জরুরি নির্দেশনা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় রংপুরের খতমে নবুওয়ত সম্মেলন স্থগিত

ধূমপান ত্যাগ করলে শরীরে যেসব পরিবর্তন হয়

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর—এ কথা সবাই জানে। তবে অনেকেই মনে করেন, দীর্ঘদিন ধূমপান করার পর আর ত্যাগ করেও কোনো উপকার পাওয়া সম্ভব নয়। এই ধারণা ভুল। গবেষণা বলছে, ধূমপান ত্যাগ করার পর শরীরে অবিশ্বাস্য ইতিবাচক পরিবর্তন শুরু হয় খুব অল্প সময়ের মধ্যেই। চলুন জেনে নেওয়া যাক, ধূমপান ছাড়ার পর শরীরে কী কী পরিবর্তন ঘটে—

 মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে: ধূমপান ছাড়ার ২০ মিনিটের মধ্যেই রক্তচাপ এবং হার্ট রেট স্বাভাবিক হতে শুরু করে। হাত ও পায়ের রক্তসঞ্চালন কিছুটা উন্নত হয়।

১২ ঘণ্টার মধ্যে:  ধূমপান ছাড়ার ১২ ঘণ্টার মধ্যে শরীরের কার্বন মনোক্সাইডের মাত্রা কমে যায় এবং অক্সিজেনের মাত্রা স্বাভাবিক হতে শুরু করে। ফলে শ্বাস-প্রশ্বাসের ভারসাম্য ধীরে ধীরে ফিরে আসে।

২৪ ঘণ্টার মধ্যে: শরীরের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কিছুটা কমে আসে। পাশাপাশি রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়তে থাকে, যা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কর্মক্ষমতা বাড়ায়।

৪৮ ঘণ্টার মধ্যে: ধূমপান ছাড়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঘ্রাণ ও স্বাদ গ্রহণের ক্ষমতা আগের তুলনায় উন্নত হতে শুরু করে। কারণ, নিকোটিনের প্রভাব কমে আসার ফলে স্নায়ু পুনরায় কার্যকর হয়।

২ সপ্তাহ থেকে ৩ মাসের মধ্যে: এই সময়ের মধ্যে ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বাড়তে থাকে। হাঁটাচলা বা ব্যায়ামের সময় শ্বাসকষ্ট অনেকটাই কমে যায়। রক্ত সঞ্চালন উন্নত হয় এবং শরীর চাঙ্গা অনুভূত হয়।

১ থেকে ৯ মাসের মধ্যে: শ্বাসনালি ও ফুসফুস নিজেকে পরিষ্কার করতে শুরু করে। কাশি, সর্দি, শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যাগুলো ধীরে ধীরে কমে আসে। ফুসফুসের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ধীরে ধীরে মেরামত হতে শুরু করে।

১ বছরের মধ্যে: ধূমপান ছাড়ার এক বছরের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি অর্ধেক কমে যায়। এছাড়া স্ট্রোকের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।

৫ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে: স্ট্রোকের ঝুঁকি একজন অধূমপায়ীর সমপর্যায়ে নেমে আসে। একই সঙ্গে মুখ, গলা, খাদ্যনালি এবং মূত্রাশয়ের ক্যানসারের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

১০ বছরের মধ্যে: ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি একজন অধূমপায়ীর তুলনায় অনেকটাই কমে যায়। এছাড়া অন্যান্য ক্যানসারের ঝুঁকিও কমে আসে।

১৫ বছরের মধ্যে: ধূমপান ছাড়ার ১৫ বছরের মধ্যে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকি একজন সাধারণ অধূমপায়ীর সমপর্যায়ে নেমে আসে।

চিকিৎসকরা কী বলেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ধূমপান ছাড়ার কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। যত দ্রুত ত্যাগ করা যায়, ততই শরীরের উপকার হয়। অনেকে মনে করেন, অনেক বছর ধূমপান করার পর ছাড়লে আর কোনো লাভ নেই—এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। যেকোনো সময় ধূমপান ছাড়লে শরীর পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

এনএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ