শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬ ।। ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ১১ মহর্‌রম ১৪৪৮


খাতা মূল্যায়নে আসছে কঠোর নজরদারি: শিক্ষামন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

দেশের পাবলিক পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ঢিলেঢালা পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ওভার মার্কিং ও আন্ডার মার্কিং রোধে আরও কার্যকর তদারকি ব্যবস্থা চালু করা হবে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) খুলনা বিভাগীয় অডিটোরিয়ামে আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড শিক্ষকদের একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব দিয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে একজন শিক্ষককে প্রায় ৫০০টি খাতা দেখতে হয়। তবে খাতা মূল্যায়নের সময় শিক্ষকরা সঠিকভাবে নম্বর দিচ্ছেন কি না, কোথাও অতিরিক্ত নম্বর দেওয়া হচ্ছে কি না বা প্রয়োজনের তুলনায় কম নম্বর দেওয়া হচ্ছে কি না— সেসব বিষয়ে পর্যাপ্ত তদারকি থাকে না। এ কারণে বিদ্যমান মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

সংশ্লিষ্টদের মতে, এসএসসি ও এইচএসসিসহ দেশের বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় প্রতিবছর লাখ লাখ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। বিপুলসংখ্যক উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব পালন করেন হাজার হাজার শিক্ষক। সময়ের চাপ, অতিরিক্ত কাজের বোঝা এবং পর্যাপ্ত তদারকির অভাবে একই ধরনের উত্তরের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন নম্বর দেওয়ার অভিযোগ প্রায়ই সামনে আসে। ফলে ফলাফল নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।

আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘প্রচলিত নকলের প্রবণতা অনেকটাই কমে এলেও ডিজিটাল মাধ্যমে নকল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের গুজব ছড়িয়ে একটি চক্র শিক্ষা ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। এ ধরনের গুজব ছড়ানোর বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের ভুয়া তথ্য বা গুজব ছড়ানো হলে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাইবার অপরাধসংক্রান্ত আইনের আওতায় কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।’

মাঠ পর্যায়ে শিক্ষা প্রশাসনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এক জায়গায় দায়িত্ব পালন করেও যারা কার্যকর তদারকি করছেন না, তাদের তালিকা প্রস্তুত করা হবে। নিষ্ক্রিয় কর্মকর্তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী উপজেলা পর্যায়ে বদলি করা হবে।’

পরীক্ষাকেন্দ্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মোবাইল ফোন ও অবৈধ কাগজপত্র বহনে কঠোর নিষেধাজ্ঞার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। কোনো পরীক্ষার্থীর কাছে পরীক্ষার হলে বই বা অননুমোদিত কাগজপত্র পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কক্ষ পরিদর্শককে দায় নিতে হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

সভায় তিনি আরও জানান, ‘আগামী জুলাই মাস থেকে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘মিড ডে মিল’ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ কর্মসূচিতে নিম্নমানের বা পচা খাবার সরবরাহের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং পরীক্ষা-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আইও


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ