পুলিশের লাঠিচার্জে ৩০ শিক্ষার্থী আহত, দারুল আরকামের চার দফা দাবি
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫২ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সে উচ্চস্বরে গানবাজনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে পুলিশের লাঠিচার্জে জামিয়া দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৩০ জন আহত হওয়ার ঘটনায় চার দফা দাবি জানিয়েছেন মাদরাসার শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জামিয়ার মুহতামিম ও হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান এসব দাবি উত্থাপন করেন। একই সঙ্গে ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ভবিষ্যতে জেলা পুলিশ লাইন্সে কোনো উন্মুক্ত কনসার্ট বা উচ্চস্বরে গানবাজনার অনুষ্ঠান আয়োজন না করার বিষয়ে পুলিশকে অঙ্গীকারবদ্ধ করা, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনায় দায়িত্বে থাকা এবং বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের ওপর সরাসরি হামলা ও হামলার নির্দেশ দেওয়ার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, আহত শিক্ষার্থীদের দ্রুত চিকিৎসা এবং ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা।

এ ছাড়া বুধবার সকাল ১০টার মধ্যে এসব দাবি বাস্তবায়নের জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। দাবি বাস্তবায়ন না হলে ‘কঠিন সিদ্ধান্ত’ নিতে বাধ্য হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

এর আগে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরের পশ্চিম মেড্ডা এলাকার পুলিশ লাইন্সে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও মাদরাসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। মাদরাসা শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বুধবার পরীক্ষা থাকায় উচ্চস্বরে গানবাজনার শব্দ কমানোর অনুরোধ করতে তারা পুলিশ লাইন্সে যান। এ সময় তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে। পরে শিক্ষার্থীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়।

ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জামিয়া দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়া মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব সাজিদুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ।

বৈঠকে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা পুলিশ লাইন্সে ভবিষ্যতে উচ্চস্বরে গানবাজনার অনুষ্ঠান আয়োজন বন্ধ, আহত শিক্ষার্থীদের সুচিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ বলেন, পুলিশ লাইন্স ও মাদরাসা পাশাপাশি হওয়ায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শব্দকে কেন্দ্র করে ভুল-বোঝাবুঝি থেকে অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ঘটনায় জড়িত অতি উৎসাহীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আহতদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

আরএইচ/