বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬ ।। ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ৯ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :
‘আবাসন খাতে স্বচ্ছতা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করবে সরকার’  পোশাক শিল্পের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর জঙ্গল সলিমপুরে ৬ সড়ক নির্মাণে যুক্ত হচ্ছে সেনাবাহিনী দল থেকে বহিষ্কৃত এমপি নজরুলের আসন শূন্য হওয়া নিয়ে যা জানালো ইসি স্বাস্থ্য অধিদফতরের নতুন পরিচালক ডা. নুরুল ইসলাম বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের পূর্বধলা উপ-শাখা কমিটি পুনর্গঠন খেলাফত মজলিস যুক্তরাজ্য নর্থের নির্বাহী বৈঠক ছবি-ভিডিও প্রচার করে নারীর সম্মানহানি, ইসলাম কী বলে কামরাঙ্গীরচরে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মতবিনিময় সভা ভিডিওকাণ্ডে এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার

সময় এসেছে জ্ঞানকে কর্মে রূপ দেওয়ার: আল্লামা সাজ্জাদ নোমানী


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ধর্মীয় ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি জ্ঞানভিত্তিক ও আলোকিত সমাজ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ ও ইমাম শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী (রহ.) রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক আল্লামা খলীলুর রহমান সাজ্জাদ নোমানি। তিনি বলেন, আমরা প্রাচ্যের লোকেরা দর্শন কপচাই, আর পশ্চিমারা কাজ করে দেখিয়ে দেয়। এখন সময় এসেছে জ্ঞানকে কর্মে রূপ দেওয়ার।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাতে রাজধানীর উত্তরায় দ্বীনিয়াত বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং তারশিদ একাডেমির সৌজন্যে আয়োজিত ‘ফিকরি মজলিস’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের বিষয় ছিল ‘ধর্মীয় ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে আলোকিত সমাজ গঠনে চিন্তাশীল আলেমদের করণীয়’।

এসআইএমইসি ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন দ্বীনিয়াত বাংলাদেশের সদর মুফতি সালমান আহমাদ। এতে আলেম, শিক্ষাবিদ, গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

 

আলোচনায় আল্লামা সাজ্জাদ নোমানী বলেন, জ্ঞানকে দুনিয়াবি ও উখরাবি—এই দুই ভাগে বিভক্ত করার আমি ঘোর বিরোধী। এটি ইসলামের শিক্ষা নয়। ইসলামে জ্ঞান মাত্র দুই ধরনের—উপকারী (নাফে) এবং অনুপকারী (গাইরে নাফে)। যে জ্ঞান মানুষ ও মানবতার কল্যাণে আসে, সেটিই প্রকৃত উপকারী জ্ঞান।

তিনি বলেন, আমরা আকাবিরদের নাম বেশি নিই, কিন্তু তাঁদের চিন্তা ও রচনাকে যথাযথভাবে অধ্যয়ন করি না। কাসেম নানুতুবী (রহ.)-কে পড়ুন। তাঁর শিক্ষাদর্শন আজও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তিনি আধুনিক শিক্ষার বিরোধী ছিলেন না; বরং যুগোপযোগী শিক্ষার প্রবক্তা ছিলেন।

ইংরেজি ভাষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের আকাবির ইংরেজ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ছিলেন, কিন্তু ইংরেজি ভাষার বিরুদ্ধে ছিলেন না। একটি ভাষা কখনো শত্রু হতে পারে না। জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় ভাষা শেখা ইসলামের দৃষ্টিতে নিন্দনীয় নয়।

বিজ্ঞান ও ইসলামের সম্পর্ক তুলে ধরে তিনি বলেন, পৃথিবীতে বিজ্ঞানচর্চার প্রকৃত সূচনা হয়েছে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনের মধ্য দিয়ে। তাঁর আগমনের আগে মানুষ প্রকৃতির নানা উপাদানকে উপাস্য মনে করত। যাকে উপাসনা করা হয়, তাকে নিয়ে মুক্ত গবেষণা সম্ভব নয়। নবীজি (সা.) ঘোষণা করলেন—ইবাদতের যোগ্য একমাত্র আল্লাহ। মানুষ কেবল তাঁরই বান্দা। এর ফলে সৃষ্টি জগতকে গবেষণা ও অনুসন্ধানের ক্ষেত্র হিসেবে দেখার পথ উন্মুক্ত হয় এবং বিজ্ঞানচর্চার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

তিনি আরও বলেন, মুসলিম সমাজের বুদ্ধিবৃত্তিক পুনর্জাগরণ, তরুণ প্রজন্মের নৈতিক বিকাশ এবং ধর্মীয় শিক্ষার সঙ্গে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো আজ সময়ের অন্যতম দাবি। আলেমদেরও এ পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিতে হবে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ সফররত উপমহাদেশের বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ও গবেষক আল্লামা খলীলুর রহমান সাজ্জাদ নোমানি তাঁর জ্ঞানগর্ভ আলোচনা, গবেষণামূলক চিন্তা এবং সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যের জন্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সমাদৃত। বাংলাদেশে তাঁর প্রতিটি সফরেই তিনি মুসলিম উম্মাহর বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণ, সমাজ সংস্কার এবং যুগোপযোগী শিক্ষা-ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে আসছেন।

আওয়ার ইসলাম/জেডএম


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ