রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৩০ রবিউস সানি ১৪৪৮

শিরোনাম :

বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে বিভ্রান্তি নিরসন ও হামলার ঘটনায় দ্রুত চার্জশিট দাবি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশ্ব ইজতেমা ২০২৭-এর আয়োজন নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রচারের প্রতিবাদ এবং ২০১৮ ও ২০২৪ সালে টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে হামলা ও প্রাণহানির ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোর দ্রুত তদন্ত ও চার্জশিট দাখিলের দাবি জানিয়েছে ওলামা মাশায়েখ বাংলাদেশ। এ বিষয়ে সংগঠনটি পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) ঢাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ২০২৭ সালের বিশ্ব ইজতেমা আয়োজন নিয়ে গত ১৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত সভার কার্যবিবরণী অনুযায়ী, তাবলিগ জামাত বাংলাদেশ শুরায়ী নেজামের অধীনে দুই ধাপে ইজতেমা আয়োজনের বিষয়ে সম্মতি হয়েছে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, প্রথম ধাপ ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় ধাপ ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি ২০২৭ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

তবে গত ৯ অক্টোবর দৈনিক কালের কণ্ঠের অনলাইনে প্রচারিত একটি ভিডিও বার্তায় মুফতি ওসামা ইসলাম দাবি করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁদের আশ্বাস দিয়েছেন, আগামী ২৯ ও ৩০ জানুয়ারি টঙ্গীতে সাদপন্থীদের ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে এবং এতে ভারতের নিজামুদ্দিনের মাওলানা সাদ কান্ধলভী অংশ নেবেন।

এ বক্তব্যের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ওলামা মাশায়েখ বাংলাদেশের নেতারা বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত ও সভার কার্যবিবরণী সম্পর্কে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে—এমন বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ ধরনের কোনো আশ্বাস দিয়েছেন কি না, তা সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করার আহ্বান জানান তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলনে ২০১৮ ও ২০২৪ সালে টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে সংঘটিত হামলা ও প্রাণহানির ঘটনাও তুলে ধরা হয়। বক্তারা অভিযোগ করেন, এসব ঘটনার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কিছু বক্তব্য ও নির্দেশনা পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে ভূমিকা রেখেছিল। তাঁরা এসব ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোর তদন্ত দ্রুত শেষ করে আইন অনুযায়ী চার্জশিট দাখিল এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

তবে অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলনে ২০১৮ সালে দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত পহেলা বৈশাখ ও পবিত্র শবে মেরাজসংক্রান্ত একটি বক্তব্য নিয়েও আপত্তি তোলা হয়। বক্তারা বিষয়টির ধর্মীয় যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, এ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। কোনো আইনগত অভিযোগ থাকলে তা প্রচলিত আইন ও যথাযথ প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, বিশ্ব ইজতেমা বাংলাদেশের মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, দ্বীনি পরিবেশ ও আন্তর্জাতিক ধর্মীয় ভাবমূর্তির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি, উসকানি কিংবা সংঘাতের পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত। তাই সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং দায়িত্বশীল বক্তব্য দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলনে সরকারের সহযোগিতামূলক ভূমিকার প্রশংসা করে বর্তমান সরকার, সরকারপ্রধান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ধর্মমন্ত্রী ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বক্তারা।

পাঁচ দফা দাবি

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—২০১৮ ও ২০২৪ সালের হামলা ও প্রাণহানির ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোর তদন্ত দ্রুত শেষ করে চার্জশিট দাখিল; বিশ্ব ইজতেমা ২০২৭ নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রচারের অভিযোগ যাচাই করে আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক প্রচারণা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ; নিহতদের পরিবার ও আহতদের ন্যায়বিচার, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা এবং তাবলিগ জামাতের কার্যক্রমে অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ বন্ধে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন।

বক্তারা জানান, এসব দাবি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতি বিদ্বেষ থেকে নয়; বরং বিশ্ব ইজতেমার সুষ্ঠু আয়োজন, সরকারি সিদ্ধান্তের যথাযথ বাস্তবায়ন এবং অতীতের সহিংসতার ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার স্বার্থে উত্থাপন করা হয়েছে। তাঁরা বিশ্ব ইজতেমা ২০২৭-এর আয়োজন নিয়ে সৃষ্ট বিভ্রান্তি নিরসনে সরকারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট বক্তব্য দেওয়ারও আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মুফতি কেফায়তুল্লাহ আজহারী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী, মাওলানা লোকমান মাঝহারী, মাওলানা সালাউদ্দিন, মাওলানা আনিসুর রহমান এবং সংগঠনটির মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ