শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮


দ্রব্যমূল্যের চাপে দিশেহারা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

রাজধানীসহ দেশজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। ছয় মাসের ব্যবধানে টমেটো, ডিম, মুরগি ও বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম বেড়েছে। এর পাশাপাশি কাঁচা মরিচ, চিনি ও সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে। ফলে বাজার করতে গিয়ে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে সাইজভেদে এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা দরে। এক মাসের বেশি সময় ধরে বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে ডিম। আগে এক ডজন ডিমের দাম ছিল ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। ব্রয়লার মুরগির দামও বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আগে এর দাম ছিল ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা।

সোনালি মুরগির দামও বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। হাইব্রিড সোনালি বা কালারবার্ড মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা কেজি।

মাছের বাজারেও বেড়েছে কয়েক ধরনের মাছের দাম। বর্তমানে তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা এবং পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মার্চে তেলাপিয়ার দাম ছিল ২০০ থেকে ২৩০ টাকা এবং পাঙাশের দাম ছিল ১৮০ থেকে ২২০ টাকা। রুই-কাতলার দাম বর্তমানে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা। বড় আকারের রুই বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি।

সবজির বাজারে টমেটোর পাশাপাশি কয়েকটি পণ্যের দামও বেড়েছে। লম্বা বেগুন ৭০ টাকা এবং গোল বেগুন ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে বর্তমানে ১৬০ টাকা কেজিতে উঠেছে। গত সপ্তাহেও এর দাম ছিল ১২০ টাকা। মার্চের শেষ দিকে কাঁচা মরিচের দাম ছিল ৮০ থেকে ১০০ টাকা।

তবে সব ধরনের সবজির দাম বাড়েনি। করলা বর্তমানে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা মার্চে ছিল প্রায় ১০০ টাকা। পেঁপের দামও প্রায় একই রয়েছে, ৪০ টাকা কেজি। বেশির ভাগ সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজির মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

বাজার দরের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিয়ে এক ক্রেতা বলেন, কয়েক মাস আগেও ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে টমেটো কিনেছেন। এখন সেই টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি। বাজারে অন্যান্য পণ্যের দামও বেশি হওয়ায় সংসারের খরচ সামলাতে তাকে কম পরিমাণে পণ্য কিনতে হচ্ছে।

আরেক ক্রেতা বলেন, টমেটোর দাম এতটা বেড়ে যাবে, তা ভাবেননি। আগে যে টাকায় কয়েক ধরনের সবজি কেনা যেত, এখন একই টাকায় অল্প কিছু পণ্য কিনতে হচ্ছে। দাম বেশি হওয়ায় টমেটোর পরিমাণও কমিয়ে দিয়েছেন তিনি।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মৌসুম পরিবর্তনের কারণে কয়েক ধরনের সবজির সরবরাহ কমেছে। এ কারণে এসব পণ্যের দামে প্রভাব পড়েছে। আর ডিম ও মুরগির ক্ষেত্রে খামারে উৎপাদন কমে যাওয়ায় সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি করছেন বিক্রেতারা।

এদিকে ২ সেপ্টেম্বর বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফলে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৯ টাকা থেকে বেড়ে ২০৪ টাকা হয়েছে। এক মাস আগের তুলনায় খোলা চিনির দামও বেড়েছে। বর্তমানে খোলা চিনি ১১৫ টাকা এবং মোড়কজাত চিনি ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ