শনিবার, ২০ জুন ২০২৬ ।। ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ৫ মহর্‌রম ১৪৪৮


গণভোটের রায় বাস্তবায়নে প্রয়োজনে দুয়ারে দুয়ারে যাবো: আমিরে মজলিস

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: প্রতিনিধি

গণভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে প্রয়োজনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস একাই জনগণের দুয়ারে দুয়ারে যাবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলটির আমির মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক।

শুক্রবার (১৯ জুন) বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পল্টন জোনের উদ্যোগে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পূর্ব প্রাঙ্গণে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি, তেল-গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সালেহ উদ্দীন কাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে মামুনুল হক বলেন, চব্বিশের বিপ্লব হঠাৎ করে এক মাস বা এক বছরে সংঘটিত হয়নি। দীর্ঘ এক যুগের আন্দোলন-সংগ্রাম, ত্যাগ ও সাধনার ধারাবাহিকতায় জুলাই অভ্যুত্থানের পথ তৈরি হয়েছে। এর ভিত্তি রচিত হয়েছিল ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরে।

তিনি দাবি করেন, আলেম সমাজের ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি হয়েছে। শাপলা চত্বর, হাটহাজারী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আন্দোলন এবং দীর্ঘ কারাবরণের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে জুলাই আন্দোলনের পথ সুগম হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জুলাই সনদ প্রসঙ্গে খেলাফত মজলিসের আমীর অভিযোগ করেন, সনদ স্বাক্ষরের আগে বিএনপি ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি অংশের মাধ্যমে প্রতারণামূলকভাবে একটি নতুন ধারা যুক্ত করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ধারায় নির্বাচনের পর ক্ষমতাসীন দলকে তাদের নোট অব ডিসেন্ট অনুযায়ী নির্বাচনী ইশতেহারের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলো অবগত ছিল না।

তিনি বলেন, সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কারের একটি রূপরেখা তৈরি হয়েছিল। সেখানে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত গ্রহণ এবং সেই রায়ের ভিত্তিতে সংস্কার বাস্তবায়নের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল।

মামুনুল হক আরও বলেন, যদি সব রাজনৈতিক দলও এ দাবি থেকে সরে যায়, তবুও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস গণভোটের রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জনগণের দুয়ারে দুয়ারে যাবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে ফ্যাসিবাদ পুনরায় ফিরে আসার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং যেকোনো ধরনের আধিপত্যবাদের বিরোধিতা করেন।

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, মাওলানা ফয়সাল আহমদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ছানাউল্লাহ আমিনী, মাওলানা মুহাম্মাদ রাকীবুল ইসলাম, যুব মজলিসের নেতা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং খেলাফত ছাত্র মজলিসের নেতা মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম।

জেডএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ