মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬ ।। ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ২১ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :
২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক পর্যটক গ্রহণকারী শহরগুলোর তালিকায় মক্কা পঞ্চম, মদিনা সপ্তম লেবাননে ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র ও ফসফরাস বোমা হামলা গুম প্রতিরোধ আইন মন্ত্রিসভায় অনুমোদন ফরিদপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুলছাত্রসহ নিহত ২ ড. ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে চায় না জমিয়ত যমুনায় গোসল করতে নেমে নিখোঁজ ২ স্কুলছাত্র ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল জালেমের বিরুদ্ধে মজলুমের ন্যায়সংগত সংগ্রাম’ চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত ৩ উপজেলা সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী এবার দক্ষ ইসলামি গবেষক তৈরির উদ্যোগ আস-সুন্নাহর, দিনব্যাপী কর্মশালা ২২ আগস্ট দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ

১০ মাসে হাফেজ হলেন ৯ বছরের আরহাম

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

পবিত্র কোরআনের ৩০ পারা হিফজ সম্পন্ন করতে যেখানে সাধারণত কয়েক বছর সময় লেগে যায়, সেখানে মাত্র ১০ মাসে সেই অনন্য কৃতিত্ব অর্জন করেছেন চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ৯ বছর বয়সী শিশু আরহাম ভূঁইয়া। তার এ অসাধারণ সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক এবং স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

আরহাম মিরসরাই উপজেলার ১৩ নম্বর মায়ানী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম মায়ানী গ্রামের গণি ভূঁইয়া বাড়ির বাসিন্দা ওহিদুল ইসলাম ভূঁইয়ার একমাত্র সন্তান। সে স্থানীয় দারুণ নাজাত আইডিয়াল মাদরাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী।

মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর আরহাম হেফজ শিক্ষা শুরু করে। এরপর নিরলস অধ্যবসায়, শিক্ষকদের নিবিড় তত্ত্বাবধান এবং আল্লাহর রহমতে চলতি বছরের ৩০ জুন মাত্র ১০ মাসেই পবিত্র কোরআনের সম্পূর্ণ ৩০ পারা মুখস্থ সম্পন্ন করে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সাধারণত একজন হেফজ শিক্ষার্থী প্রতিদিন ১ থেকে ২ পৃষ্ঠা নতুন সবক প্রস্তুত করে। কিন্তু আরহাম নিয়মিত ৪ থেকে ৭ পৃষ্ঠা পর্যন্ত সবক মুখস্থ করে শিক্ষককে শুনাত। তার অসাধারণ স্মৃতিশক্তি, একাগ্রতা এবং পরিশ্রমই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।

দারুণ নাজাত আইডিয়াল মাদরাসার পরিচালক হাফেজ মাওলানা শোয়াইব বলেন,আরহামের এ সাফল্য শুধু তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি আমাদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রমেরও একটি গর্বের দৃষ্টান্ত।

তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মাদরাসাটি দ্বীনি ও নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে পাঠদান করে আসছে। এখানে ছেলে ও মেয়েদের জন্য পৃথক ও পর্দাসম্মত পরিবেশে শিক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের ক্বারী ও হাফেজদের তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে আরও ১০ থেকে ১২ জন শিক্ষার্থী হেফজ সম্পন্ন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মাদরাসা পরিচালনা পরিষদের সহ-সভাপতি ডা. গিয়াস উদ্দিন বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, সফলতার সঙ্গে আমরা দুই বছর অতিক্রম করে তৃতীয় বছরে পদার্পণ করেছি। সবার সহযোগিতা ও দোয়া অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হবে, ইনশাআল্লাহ।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে আরহাম ভূঁইয়া বলে, আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে আমি অল্প সময়ে কোরআন হেফজ সম্পন্ন করতে পেরেছি। ভবিষ্যতে একজন হাক্কানি আলেম হয়ে সারাজীবন কোরআনের খেদমত করতে চাই। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।

আরহামের বাবা ওহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ছোটবেলা থেকেই ছেলেকে কোরআনের পথে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি। আল্লাহ আমাদের সেই আশা পূরণ করেছেন। আমি মাদরাসার পরিচালক, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। আমার প্রত্যাশা, সে বড় হয়ে একজন যোগ্য আলেম হিসেবে কোরআন-সুন্নাহর আলো সমাজে ছড়িয়ে দেবে।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ